মাটির গন্ধে বাংলা: মাচানের আড্ডায় এখনও বেঁচে আছে এক অন্যরকম গ্রামবাংলা তারিখ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ গ্রামবাংলা ডেস্ক | Gram Bangla Report শহরের ব্যস্ত জীবনে সন্ধ্যা নামে ঘড়ির কাঁটায়। কিন্তু গ্রামে সন্ধ্যা নামে একটু অন্যভাবে। মাঠ থেকে কৃষক বাড়ি ফেরেন, উঠোনে দিনের শেষ কাজ গুছিয়ে নেন বাড়ির মানুষ। কোথাও ধোঁয়া ওঠে মাটির উনুন থেকে, কোথাও পুকুরপাড়ে বসে কয়েকজন গল্প করেন। আর কোনও কোনও বাড়ির সামনে বাঁশের মাচানে শুরু হয় সেই পুরনো আড্ডা—যার কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নেই, কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমাও নেই। কখনও আলোচনা হয় ধানের ফলন নিয়ে, কখনও বাজারদর, কখনও গ্রামের রাস্তা নিয়ে। আবার কখনও একজন প্রবীণ মানুষ তাঁর ছোটবেলার গল্প শুরু করলে বাকিরা নীরবে শুনতে থাকেন। এই সহজ দৃশ্যগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাংলার এক অমূল্য সামাজিক ঐতিহ্য। মাচান শুধু বসার জায়গা নয় আজকের প্রজন্মের কাছে মাচান হয়তো নিছক বাঁশের তৈরি একটি বসার জায়গা। কিন্তু গ্রামবাংলায় বহুদিন ধরে এটি ছিল সামাজিক যোগাযোগের একটি ছোট্ট কেন্দ্র। কাজের ফাঁকে কৃষক সেখানে বসেছেন। পাশের বাড়ির মানুষ এসে যোগ দিয়েছেন। কেউ বাজার থেকে ফিরতে ফিরতে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাজ শেষ করে কিছুটা সময় কাটাতে এসেছেন। কথা বলতে বলতে গ্রামের মানুষ একে অপরের খবর রাখতেন। কে অসুস্থ, কার বাড়িতে নতুন অতিথি এসেছে, কার জমিতে ভালো ধান হয়েছে, কোথায় বৃষ্টি কম হয়েছে—অনেক খবরই ছড়িয়ে পড়ত এই অনানুষ্ঠানিক আড্ডার মাধ্যমে। এখানে সংবাদপত্র ছিল না, মোবাইল ফোন ছিল না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। অথচ মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ছিল অনেক বেশি প্রত্যক্ষ। প্রবীণদের গল্পে লুকিয়ে আছে ইতিহাস গ্রামের প্রবীণ মানুষদের কাছে শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি থাকে না। তাঁদের স্মৃতির মধ্যে থাকে একটি সময়ের সামাজিক ইতিহাস। তাঁরা বলতে পারেন কীভাবে একসময় গ্রামের রাস্তা কাঁচা ছিল, কীভাবে বর্ষায় নৌকাই ছিল যাতায়াতের প্রধান ভরসা, কীভাবে মাঠে ধান কাটার সময় বহু মানুষ একসঙ্গে কাজ করতেন। কেউ হয়তো মনে রেখেছেন পুরনো কোনও মেলার কথা। কেউ জানেন গ্রামের হারিয়ে যাওয়া একটি লোকগানের কথা। কেউ বলতে পারেন কোন বাড়িতে একসময় কবিগানের আসর বসত। এই স্মৃতিগুলি লিখে রাখা না হলে একদিন হয়তো মানুষগুলির সঙ্গে সঙ্গে সেগুলিও হারিয়ে যাবে। কৃষকের মাঠে শুধু ফসল নয়, তৈরি হয় গল্পও গ্রামবাংলার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কৃষি। ধানের চারা রোপণ থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের শ্রম, আশা ও অপেক্ষা। একজন কৃষকের কাছে একটি ভালো ফলন শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের ভবিষ্যৎ, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ির মেরামতি কিংবা পরের মরসুমের চাষের পরিকল্পনা। আজ কৃষিতে প্রযুক্তি এসেছে। উন্নত বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি এবং বাজারব্যবস্থার পরিবর্তন কৃষকের জীবনকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটি এখনও অটুট। এই গল্পগুলোই তুলে ধরা দরকার। হারিয়ে যাচ্ছে কিছু শব্দ, কিছু সুর বাংলার প্রতিটি অঞ্চলের ভাষায় রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য। এক জেলার কথার সঙ্গে অন্য জেলার কথার পার্থক্য রয়েছে। কোথাও উচ্চারণে আলাদা টান, কোথাও আলাদা শব্দ, কোথাও আবার কথার মধ্যেই লোকসংস্কৃতির ছাপ। একইভাবে লোকগানের ক্ষেত্রেও বাংলার বৈচিত্র্য অসাধারণ। ভাওয়াইয়া, বাউল, ভাটিয়ালি, ঝুমুর, কবিগান কিংবা পঞ্চরস—প্রতিটি ধারার পিছনে রয়েছে মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা। কোনও গান এসেছে নদী থেকে, কোনও গান মাঠের শ্রম থেকে, কোনও গান এসেছে প্রেম-বিরহ থেকে, আবার কোনও গান এসেছে মানুষের হাসি-কান্না থেকে। তাই লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ মানে শুধু গান সংরক্ষণ নয়; মানুষের জীবনযাত্রার ইতিহাস সংরক্ষণ করা। রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে অনুষ্ঠান থেকে জীবনে ফিরিয়ে আনা রবীন্দ্রজয়ন্তী কিংবা নজরুলজয়ন্তীর অনুষ্ঠান প্রতিবছর হয়। কিন্তু তাঁদের সৃষ্টি শুধু মঞ্চের অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। গ্রামের স্কুলের ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় শিল্পী, শিক্ষক, প্রবীণ সংস্কৃতিপ্রেমী—তাঁদের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গান, কবিতা ও চিন্তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। একটি গ্রামের ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গল্পও একটি বড় সাংস্কৃতিক প্রতিবেদনের বিষয় হতে পারে। কারণ সংস্কৃতি শুধু বড় শহরের মঞ্চে তৈরি হয় না। অনেক সময় তার সবচেয়ে স্বাভাবিক রূপটি বেঁচে থাকে গ্রামের ছোট উঠোনে, স্কুলের মাঠে কিংবা পাড়ার ক্লাবঘরে। শহর যেন গ্রামের গল্প ভুলে না যায় শহর ও গ্রামের দূরত্ব এখন প্রযুক্তির কারণে অনেকটাই কমেছে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রামের মানুষের জীবনেও ঢুকে পড়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুরনো স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করাও জরুরি। একজন প্রবীণ কৃষকের জীবনকথা, একজন লোকশিল্পীর গান, গ্রামের পুরনো মেলার ইতিহাস কিংবা কোনও হারিয়ে যাওয়া পেশার স্মৃতি—এসব হয়তো আজ ভাইরাল খবর নয়। কিন্তু এগুলোই আগামী দিনের ইতিহাসের উপাদান। Gram Bangla Report-এর দায়িত্ব এখানে। সংবাদ মানেই শুধু দুর্ঘটনা, অপরাধ, রাজনৈতিক সংঘাত কিংবা চাঞ্চল্যকর ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। সংবাদ মানুষের জীবনও। যে কৃষক ভোরে মাঠে যান, যে মহিলা নিজের হাতে গ্রামের খাবার তৈরি করেন, যে কারিগর বছরের পর বছর একই পেশা ধরে রেখেছেন, যে প্রবীণ মানুষটির স্মৃতিতে একটি গোটা গ্রামের ইতিহাস রয়েছে—তাঁরাও সংবাদ। তাঁদের গল্পও পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে। Gram Bangla Report সেই গল্পগুলোই তুলে ধরতে চায়—যেখানে খবরের সঙ্গে থাকবে মাটির গন্ধ, মানুষের কথা এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয়। হয়তো এই গল্পগুলি সবসময় সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করবে না। কিন্তু এগুলিই ধীরে ধীরে তৈরি করতে পারে একটি বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব পরিচয়। কারণ বাংলা শুধু কলকাতায় নয়। বাংলা ছড়িয়ে আছে মাঠে, নদীর ধারে, গ্রামের উঠোনে, মাচানের আড্ডায়, কৃষকের ঘামে এবং লোকশিল্পীর কণ্ঠে। সেই বাংলার গল্পই বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া হোক। Gram Bangla Report — মানুষের কথা, মাটির কথা, বাংলার কথা। Source: Gram Bangla Report 👉 চ্যানেলটি Follow করুন। 👉 বন্ধুদের সাথে Share করুন। 👉 Website: grambanglareport com
মাটির গন্ধে বাংলা: মাচানের আড্ডায় এখনও বেঁচে আছে এক অন্যরকম গ্রামবাংলা তারিখ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ গ্রামবাংলা ডেস্ক | Gram Bangla Report শহরের ব্যস্ত জীবনে সন্ধ্যা নামে ঘড়ির কাঁটায়। কিন্তু গ্রামে সন্ধ্যা নামে একটু অন্যভাবে। মাঠ থেকে কৃষক বাড়ি ফেরেন, উঠোনে দিনের শেষ কাজ গুছিয়ে নেন বাড়ির মানুষ। কোথাও ধোঁয়া ওঠে মাটির উনুন থেকে, কোথাও পুকুরপাড়ে বসে কয়েকজন গল্প করেন। আর কোনও কোনও বাড়ির সামনে বাঁশের মাচানে শুরু হয় সেই পুরনো আড্ডা—যার কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নেই, কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমাও নেই। কখনও আলোচনা হয় ধানের ফলন নিয়ে, কখনও বাজারদর, কখনও গ্রামের রাস্তা নিয়ে। আবার কখনও একজন প্রবীণ মানুষ তাঁর ছোটবেলার গল্প শুরু করলে বাকিরা নীরবে শুনতে থাকেন। এই সহজ দৃশ্যগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাংলার এক অমূল্য সামাজিক ঐতিহ্য। মাচান শুধু বসার জায়গা নয় আজকের প্রজন্মের কাছে মাচান হয়তো নিছক বাঁশের তৈরি একটি বসার জায়গা। কিন্তু গ্রামবাংলায় বহুদিন ধরে এটি ছিল সামাজিক যোগাযোগের একটি ছোট্ট কেন্দ্র। কাজের ফাঁকে কৃষক সেখানে বসেছেন। পাশের বাড়ির মানুষ এসে যোগ দিয়েছেন। কেউ বাজার থেকে ফিরতে ফিরতে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাজ শেষ করে কিছুটা সময় কাটাতে এসেছেন। কথা বলতে বলতে গ্রামের মানুষ একে অপরের খবর রাখতেন। কে অসুস্থ, কার বাড়িতে নতুন অতিথি এসেছে, কার জমিতে ভালো ধান হয়েছে, কোথায় বৃষ্টি কম হয়েছে—অনেক খবরই ছড়িয়ে পড়ত এই অনানুষ্ঠানিক আড্ডার মাধ্যমে। এখানে সংবাদপত্র ছিল না, মোবাইল ফোন ছিল না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। অথচ মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ছিল অনেক বেশি প্রত্যক্ষ। প্রবীণদের গল্পে লুকিয়ে আছে ইতিহাস গ্রামের প্রবীণ মানুষদের কাছে শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি থাকে না। তাঁদের স্মৃতির মধ্যে থাকে একটি সময়ের সামাজিক ইতিহাস। তাঁরা বলতে পারেন কীভাবে একসময় গ্রামের রাস্তা কাঁচা ছিল, কীভাবে বর্ষায় নৌকাই ছিল যাতায়াতের প্রধান ভরসা, কীভাবে মাঠে ধান কাটার সময় বহু মানুষ একসঙ্গে কাজ করতেন। কেউ হয়তো মনে রেখেছেন পুরনো কোনও মেলার কথা। কেউ জানেন গ্রামের হারিয়ে যাওয়া একটি লোকগানের কথা। কেউ বলতে পারেন কোন বাড়িতে একসময় কবিগানের আসর বসত। এই স্মৃতিগুলি লিখে রাখা না হলে একদিন হয়তো মানুষগুলির সঙ্গে সঙ্গে সেগুলিও হারিয়ে যাবে। কৃষকের মাঠে শুধু ফসল নয়, তৈরি হয় গল্পও গ্রামবাংলার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কৃষি। ধানের চারা রোপণ থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের শ্রম, আশা ও অপেক্ষা। একজন কৃষকের কাছে একটি ভালো ফলন শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের ভবিষ্যৎ, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ির মেরামতি কিংবা পরের মরসুমের চাষের পরিকল্পনা। আজ কৃষিতে প্রযুক্তি এসেছে। উন্নত বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি এবং বাজারব্যবস্থার পরিবর্তন কৃষকের জীবনকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটি এখনও অটুট। এই গল্পগুলোই তুলে ধরা দরকার। হারিয়ে যাচ্ছে কিছু শব্দ, কিছু সুর বাংলার প্রতিটি অঞ্চলের ভাষায় রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য। এক জেলার কথার সঙ্গে অন্য জেলার কথার পার্থক্য রয়েছে। কোথাও উচ্চারণে আলাদা টান, কোথাও আলাদা শব্দ, কোথাও আবার কথার মধ্যেই লোকসংস্কৃতির ছাপ। একইভাবে লোকগানের ক্ষেত্রেও বাংলার বৈচিত্র্য অসাধারণ। ভাওয়াইয়া, বাউল, ভাটিয়ালি, ঝুমুর, কবিগান কিংবা পঞ্চরস—প্রতিটি ধারার পিছনে রয়েছে মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা। কোনও গান এসেছে নদী থেকে, কোনও গান মাঠের শ্রম থেকে, কোনও গান এসেছে প্রেম-বিরহ থেকে, আবার কোনও গান এসেছে মানুষের হাসি-কান্না থেকে। তাই লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ মানে শুধু গান সংরক্ষণ নয়; মানুষের জীবনযাত্রার ইতিহাস সংরক্ষণ করা। রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে অনুষ্ঠান থেকে জীবনে ফিরিয়ে আনা রবীন্দ্রজয়ন্তী কিংবা নজরুলজয়ন্তীর অনুষ্ঠান প্রতিবছর হয়। কিন্তু তাঁদের সৃষ্টি শুধু মঞ্চের অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। গ্রামের স্কুলের ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় শিল্পী, শিক্ষক, প্রবীণ সংস্কৃতিপ্রেমী—তাঁদের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গান, কবিতা ও চিন্তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। একটি গ্রামের ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গল্পও একটি বড় সাংস্কৃতিক প্রতিবেদনের বিষয় হতে পারে। কারণ সংস্কৃতি শুধু বড় শহরের মঞ্চে তৈরি হয় না। অনেক সময় তার সবচেয়ে স্বাভাবিক রূপটি বেঁচে থাকে গ্রামের ছোট উঠোনে, স্কুলের মাঠে কিংবা পাড়ার ক্লাবঘরে। শহর যেন গ্রামের গল্প ভুলে না যায় শহর ও গ্রামের দূরত্ব এখন প্রযুক্তির কারণে অনেকটাই কমেছে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রামের মানুষের জীবনেও ঢুকে পড়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুরনো স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করাও জরুরি। একজন প্রবীণ কৃষকের জীবনকথা, একজন লোকশিল্পীর গান, গ্রামের পুরনো মেলার ইতিহাস কিংবা কোনও হারিয়ে যাওয়া পেশার স্মৃতি—এসব হয়তো আজ ভাইরাল খবর নয়। কিন্তু এগুলোই আগামী দিনের ইতিহাসের উপাদান। Gram Bangla Report-এর দায়িত্ব এখানে। সংবাদ মানেই শুধু দুর্ঘটনা, অপরাধ, রাজনৈতিক সংঘাত কিংবা চাঞ্চল্যকর ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। সংবাদ মানুষের জীবনও। যে কৃষক ভোরে মাঠে যান, যে মহিলা নিজের হাতে গ্রামের খাবার তৈরি করেন, যে কারিগর বছরের পর বছর একই পেশা ধরে রেখেছেন, যে প্রবীণ মানুষটির স্মৃতিতে একটি গোটা গ্রামের ইতিহাস রয়েছে—তাঁরাও সংবাদ। তাঁদের গল্পও পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে। Gram Bangla Report সেই গল্পগুলোই তুলে ধরতে চায়—যেখানে খবরের সঙ্গে থাকবে মাটির গন্ধ, মানুষের কথা এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয়। হয়তো এই গল্পগুলি সবসময় সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করবে না। কিন্তু এগুলিই ধীরে ধীরে তৈরি করতে পারে একটি বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব পরিচয়। কারণ বাংলা শুধু কলকাতায় নয়। বাংলা ছড়িয়ে আছে মাঠে, নদীর ধারে, গ্রামের উঠোনে, মাচানের আড্ডায়, কৃষকের ঘামে এবং লোকশিল্পীর কণ্ঠে। সেই বাংলার গল্পই বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া হোক। Gram Bangla Report — মানুষের কথা, মাটির কথা, বাংলার কথা। Source: Gram Bangla Report 👉 চ্যানেলটি Follow করুন। 👉 বন্ধুদের সাথে Share করুন। 👉 Website: grambanglareport com
- বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও নতুন আউটপোস্ট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর জেলা প্রশাসনের। বৃহস্পতিবার নতুন করে আরও দুটি মৌজায় ২৮. ৬৫ একর জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩৬২.৮৯৪ একর যার দৈঘ্য ৪৮.৯০৫ কিলোটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হল। এদিন জেলা প্রশাসনিক ভবনে জেলা শাসক আর অর্জুন ও অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বিএসএফের হাতে দুটি মৌজায় ২৮. ৬৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়। জেলা শাসক জানিয়েছেন চার দফায় বিএসএফের প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি হস্তান্তর সম্পন্ন হল মুর্শিদাবাদ জেলায়।1
- গোশত মানে কী তা বিজেপির অর্ধেকের বেশি নেতা জানে না: অধীর রঞ্জন চৌধুরীর তীব্র আক্রমণ"1
- মাত্র ৪২ বছরেই গরুর ধাক্কায় মৃত্যু, কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার অন্তর্গত কাটাবাড়ি বাজার এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যু হল ৪২ বছর বয়সি ইন্তাজ শেখের। পরিবারের দাবি, গত ১৬ তারিখ রবিবার বাড়ির পেছনে গরুর ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। জানা যায়, বাড়ির পেছনে ভাইয়ের গরু হঠাৎ ইন্তাজ শেখকে তুলে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ধাক্কা মারে। ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বহরমপুর মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় ইন্তাজ শেখকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেও প্রায় পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল রাত প্রায় ১০টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। অর্থাৎ, দুর্ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর মৃত্যু হল ইন্তাজ শেখের। ইন্তাজ শেখের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। পরিবারের সদস্যদের কথায়, সন্তানদের বিয়ে হয়ে গেলেও স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বাড়িতেই থাকতেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা পরিবারে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন দিশেহারা স্ত্রী মেহেনারা বিবি। চিকিৎসার পিছনে পরিবারের জমানো টাকাও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে বলে পরিবারের দাবি। স্বামীকে হারিয়ে কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মেহেনারা বিবি। স্বামীর মৃত্যুর পর সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন মেহেনারা বিবি। ৪২ বছর বয়সি ইন্তাজ শেখের অকাল মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।1
- লগোলায় হাফ ডজন অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী পাকড়াও,ব্যাপক উত্তেজনা। বাজিমাৎ! মুর্শিদাবাদের সীমান্ত এলাকা লালগোলার বুক থেকে এক সঙ্গে পরপর ছয় জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতারের ঘটনায় বুধবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই হাফ ডজন বাংলাদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করল লালগোলা থানার পুলিশ। জানা যায়, লালগোলা থানার অন্তর্গত মধুপুর এলাকায় এই বিশেষ পুলিশি অভিযান পরিচালিত হয়।1
- সাগরপাড়ার কাঁটাবাড়িতে গরুর আছাড় খেয়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃ'ত্যু। সাগরপাড়ায় মর্মান্তিক ঘটনা। গরুর গুতোয় মর্মান্তিক মৃ'ত্যু এক ব্যক্তির। মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার কাঁটাবাড়ি এলাকার ঘটনা। মৃত ব্যক্তির নাম ইন্তাজ সেখ বয়স (৪২)। জানা গেছে,গত ১৬ই আগস্ট রবিবার ইন্তাজ সেখ তার পিসতুতো ভাই ইয়ারুল সেখের গরুর ঘর থেকে একটি গরু ছুটে যায়। গরু ছুটে যাওয়ার সাড়াশব্দ পেয়ে সেই গরু ধরতে গিয়ে তাকে গরুতে আছাড় মারে। ঘটনায় ইন্তাজ সেখের মাথায় এবং ঘাড়ে চোট পায়। গুরুতর জখম হলে পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পাঁচদিন ভর্তি থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে তাকে কোলকাতা পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পাঁচদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার রাত দশটা নাগাদ দশ দিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়। ভাইয়ের গরু ধরতে গিয়ে এভাবে অকালে মৃত্যু হবে তা টের পায়নি পরিবারের সদস্যরা। নিহত ইন্তাজ সেখ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। নিজের ভিটে জমি,বাড়ি নেই। শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কোনমতে সংসার চলতো। বাড়িতে তিন ছেলেমেয়ে,স্ত্রী রয়েছে। এখন কিভাবে সংসার চলবে তা ভাবতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা। শেষ বারের মত প্রিয় মানুষের মুখ দেখার জন্য অপেক্ষায় আত্মীয় স্বজনেরা। এই অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা ইন্তাজ সেখের পরিবারের জন্য সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।1
- অউশগ্রাম বিধানসভায় শক্তিকেন্দ্রভিত্তিক পথসভাঅউশগ্রাম ২ নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে । অউশগ্রাম ২ নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে তপন মেটা মহাশয়ের নেতৃত্বে অউশগ্রাম বিধানসভায় বিজেপি সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে শক্তিকেন্দ্রভিত্তিক পথসভা অনুষ্ঠিত হলো। পথসভায় দলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।1
- জলঙ্গী থেকে পায়ে হেঁটে হজে গোলাম মোস্তফা, যাত্রাপথে অটোচালকের অকথ্য ভাষা!1
- মায়ের বকুনির পর অভিমানে কঠিন সিদ্ধান্ত দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর! হরিহরপাড়ায় চাঞ্চল্য মোবাইল ফোন চাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা, ঘর থেকে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার! হরিহরপাড়ায় ঘর থেকে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে হরিহরপাড়া থানার তেকোনা রামকৃষ্ণপুর গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত তরুণীর নাম রিমা খাতুন, বয়স ১৮ বছর। পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোন চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাই ও মায়ের সঙ্গে রিমার বচসা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হরিহরপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হরিহরপাড়া থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।1