logo
Shuru
Apke Nagar Ki App…
  • Latest News
  • News
  • Politics
  • Elections
  • Viral
  • Astrology
  • Horoscope in Hindi
  • Horoscope in English
  • Latest Political News
logo
Shuru
Apke Nagar Ki App…

।। আনন্দ ।। বুদ্ধদেবের শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম যাঁরা ছিলেন তারা হলেন যশ, সারিপুত্র, মৌদগল্যায়ন, অনাথপিন্ডিক, অঙ্গুলিমাল, প্রমুখ। তবে ভগবান বুদ্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি এবং ঘনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন আনন্দ। আনন্দ ছিলেন বুদ্ধদেবের পিতা শুদ্ধোদনের অনুজ অমিতোদনের পুত্র। বোধি লাভের ছয় বছর পরে বুদ্ধদেব যখন তাঁর পিতার অনুরোধক্রমে শাক্যরাজ্যে উপস্থিত হন, তখনই আরো বেশ কয়েকজন রাজকুমারের সঙ্গে আনন্দ বুদ্ধদেবের মুক্তি মন্ত্রে দীক্ষিত হন এবং প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। বুদ্ধদেব পূর্ণ মন্তানিপুত্রকে আনন্দের উপাধ্যায় নিযুক্ত করেন। শীঘ্রই তাঁর ধর্ম উপদেশ শ্রবন করে আনন্দ স্রোতাপত্তি ফলে প্রতিষ্ঠিত হন। বুদ্ধদেবের একেবারে শেষ শয়ান পর্যন্ত আনন্দ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।এবং এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি নিজের জন্য বা অন্যসকলের জন্য যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেগুলি ছিল অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য। এটা আনন্দ চরিত্রকে একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। এরপর আমরা সেটাই লক্ষ্য করবো। বুদ্ধত্ব লাভের পর প্রথম কুড়ি বৎসর বুদ্ধদেবের কোন নির্দিষ্ট সেবক ছিলেন না। বিভিন্ন ভিক্ষুগণ একেকসময়ে একেকজন তাঁর পরিচর্যা করেছিলেন। এদের কেউই কিন্তু বুদ্ধদেবের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারেননি। অবশেষে শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে ভিক্ষুদের সমবেত করে তিনি ঘোষণা করলেন,"ভিক্ষুকগণ, আমি বৃদ্ধ হয়েছি। আমার একজন সর্বক্ষণের স্থায়ী সেবকের প্রয়োজন"। উল্লেখ্য যে তথাগতসেবক যিনি হবেন তাকে নিরলস, কর্তব্যপরায়ন এবং ঐকান্তিক হতে হবে। এই অবস্থায় সমবেত সকলেই সেবক হওয়ার জন্য আবেদন করলেন একমাত্র আনন্দ বাদে। বুদ্ধদেব যখন আনন্দকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন তখন আনন্দ বললেন যে 'ভগবান নিজেই কে এই কাজের যোগ্য তা স্থির করে নিতে পারবেন। কারণ সেবক হওয়ার যোগ্যতা কার আছে তা তিনিই সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন। তখন বুদ্ধ বললেন যে সেবক হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা আনন্দের মধ্যেই আছে। আনন্দ তখন দাঁড়িয়ে যুক্তকর এ প্রার্থনা করলেন যে তাঁর আটটি বর চাইবার আছে। দুটি পর্যায়ে তিনি বিষয়গুলি উপস্থাপন করলেন। প্রথম চারটি হল,১. তথাগতের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত চীবর এবং ২.উত্তম খাদ্যবস্তু তাঁর গ্রহণীয় হবে না। ৩.তথাগতের সঙ্গে গন্ধকুটীতে তিনি অবস্থান করবেন না। ৪. তথাগত আমন্ত্রিত হলে তাঁর সঙ্গে সকল স্থানেই যে তিনি যেতে বাধ্য থাকবেন এমন নয় বা না যাবার অধিকার তাঁর থাকবে। পরের চারটির ক্ষেত্রে তিনি প্রার্থনা করলেন ১.তাঁর গৃহীত নিমন্ত্রণ বুদ্ধদেব গ্রহণ করবেন।২. বুদ্ধদেবকে দর্শনের উদ্দেশ্যে দূরদেশ হতে আগত ব্যক্তিদের আনন্দের ইচ্ছানুসারে যেকোনো সময়ে ভগবানের কাছে উপস্থিত করা যাবে।৩. কোন বিষয়ে আনন্দের মনে সন্দেহ জাগলে তা অপনোদনের জন্য যেকোনো সময় বুদ্ধদেবের কাছে উপস্থিত হওয়ার অধিকার তাঁর থাকবে। এবং ৪.আনন্দের অনুপস্থিতিতে বুদ্ধদেব যেখানে যে ধর্মদেশনা দান করবেন পরে তিনি সেগুলি তাকে আবারো শোনাবেন। সহজেই বোঝা যায় যে, প্রথম চারটি প্রার্থনা তিনি এইজন্য করেছিলেন যাতে কেউ তাকে বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত বলে অপবাদ দিতে না পারে। আর শেষের শর্ত গুলি দেবার একাধিক কারণ ছিল। যেমন কোন শ্রদ্ধাবান উপাসককে যদি তিনি বুদ্ধদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে না পারেন তাহলে সাধারণের কাছে তাকে বিদ্রূপের পাত্র হতে হবে। তাছাড়া যদি কোন বিষয়ে তার সন্দেহের উদ্রেক হয় বা বুদ্ধদেবের কোনো দেশনার বিষয় তার অজ্ঞাত থাকে তাহলে পরবর্তীকালে তিনি সেই বিষয়ক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে অসমর্থ হবেন। বুদ্ধদেব সমস্ত প্রার্থনাই মঞ্জুর করেন ও আনন্দও সেবক পদে নিযুক্ত থাকেন, বুদ্ধদেবের মৃত্যু পর্যন্ত। ভিক্ষুনীসঙ্ঘ স্থাপনের ব্যাপারটিও সম্ভব হয়েছিল আনন্দের জন্যই। বুদ্ধ ভিক্ষুনীসঙ্গ স্থাপনের পক্ষপাতী ছিলেন না। মহাপজাপতি গৌতমীও বারবার অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই অবস্থায় মহাপজাপতির সঙ্গে শাক্যনারীরা দীর্ঘপথ হেঁটে বুদ্ধের কাছে বৈশালীতে উপস্থিত হন। তাদের কষ্ট দেখে আনন্দ বুদ্ধের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি বুদ্ধকে প্রশ্ন করেন," আপনি যে ধর্ম সম্প্রদায় স্থাপন করেছেন, সেখানে ভিক্ষুণী হয়ে কি কোন নারী স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী ও অর্হৎ ফল পেতে পারেন?"(এগুলি অর্হত্বলাভের পর্যায়)। বুদ্ধ বললেন," অবশ্যই পারেন!" আনন্দ তখন বললেন,"তাহলে আপনি মহাপজাপতি সহ নারীদের সংঘপ্রবেশের অনুমতি দিন।"এইভাবে যুক্তির দ্বারা আনন্দ ভিক্ষুণী সংঘ গঠনের কার্যে সফল হলেন। বুদ্ধের সেবায় আনন্দ ছিলেন নিরলস। তার প্রাত্যহিক কর্ম তালিকা ছিল এইরূপ,– দিবসের প্রারম্ভে বুদ্ধের জন্য ত্রিবিধ দন্তকাষ্ঠ এবং তাঁর স্নানের জন্য শীতল ও উষ্ণ জলের আয়োজন করা। সযত্নে চরণ ধৌত করা এবং পৃষ্ঠদেশ পরিমার্জন করা। প্রত্যহ গন্ধকুটী পরিষ্কার করা এবং বুদ্ধের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথাস্থানে সংরক্ষণ করা। দিনের বেলা গন্ধকুটীর কাছাকাছি অবস্থান করা এবং রাত্রে দন্ড প্রদীপ হাতে নিয়ে গন্ধকুটীর চারিদিকে প্রতি আধঘন্টায় একবার প্রদক্ষিণ করে আসা। এছাড়া দর্শনার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বুদ্ধের কাছে উপস্থিত করা, ভিক্ষু, ভিক্ষুণীদের শিক্ষাদান ইত্যাদি তাঁর আবশ্যিক কর্মসূচির মধ্যে ছিল। বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থে আনন্দের যেসব গুণ বা ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলি হল,– বুদ্ধের প্রধান সেবকত্ব লাভ করা। ধর্মভান্ডাগারীক পদ প্রাপ্ত হওয়া। অগ্ৰস্মৃতিমান ও অগ্রগতিমান অভিধা লাভ করা। বুদ্ধের সমস্ত দেশনা হৃদয়ে ধারণ করতে পারা। অগ্রধৃতিমান উপাধি লাভ করা ইত্যাদি। বুদ্ধ নিজে আনন্দকে তার সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্য বলে উল্লেখ করে গেছেন। আনন্দের চেষ্টায় জেতবনে মহাবোধিতরুর শাখা রোপিত হয় যা আনন্দবোধি রূপে পরিচিত। ভগবান বুদ্ধের শেষযাত্রাপথটির সঙ্গী ছিলেন তিনি।বুদ্ধের নির্দেশে তাঁর শেষশয্যাও রচনা করেন আনন্দই। কুশিনারার শালবনে বৃক্ষ মূলে আনন্দ বুদ্ধের শয্যা প্রস্তুত করে দেন।ককুথ্থ নদী থেকে পানীয় জল আহরণ করে তাকে প্রদান করেন। ওই শোকের মুহূর্তেও তিনি কুশিনারার মল্ল রাজাদের সংবাদ দেন। মৃত্যুর পূর্বে বুদ্ধদেব তাকে কাছে ডেকে বলেন, "আনন্দ দীর্ঘদিন তুমি পরমমৈত্রী চিত্তে তথাগতর কায়িক বাচনিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ বিধানের জন্য সেবা করে এসেছো। তুমি কৃতপূর্ণ। এবার তোমার অর্হত্ব লাভের সময় আগত।" বুদ্ধের পরিনির্বাণের পর শোকে মূহ্যমান আনন্দ শোকবার্তা প্রকাশ করেন এই বলে– তথাসি যং ভিনসনকং তদাসি লোমহংসং সব্বকারবরুপেতে সম্বুদ্ধে পরিনিব্বুতে। [সর্বশ্রেষ্ঠ সম্বুদ্ধের পরিনির্বাণের সঙ্গে সঙ্গে লোমহর্ষক ভূমিকম্প এবং বজ্রনির্ঘোষ ও বিদ্যুৎ চমকিত হল] —----------------------------------------------------------------------------------- এই আনন্দও কিন্তু সমালোচনার,যাকে একরকম নিগ্ৰহই বলা চলে, হাত থেকে রেহাই পাননি। তিনি তখনো অর্হত্ব লাভ করেননি,এই কারণে (অজুহাত?) প্রথম বৌদ্ধ সংগিতীতে প্রথমটায় আনন্দকে যোগদান করবার অনুমতিই দেওয়া হয়নি। কিন্তু যেহেতু আনন্দ ছাড়া অন্য কারুর পক্ষে বুদ্ধের ধর্ম সম্পর্কে তাঁরই মুখনিঃসৃত উপদেশগুলি নিখুঁতভাবে বিবৃত করা সম্ভব নয়.. আর বেশ কিছু ভিক্ষুক তাঁকে বাদ দেবার তীব্র প্রতিবাদ জানান.. সবমিলিয়ে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। বলা হয়ে থাকে তিনি সংগিতী আরম্ভের আগের রাত্রির তৃতীয়যামে অর্হত্ত্ব লাভ করেন। সংগিতীতে যোগ দিয়ে তিনি বুদ্ধ বাণী গুলি আবৃত্তি করেন।বলা চলে এগুলিই সুত্তপিটকের মূল অংশ। কিন্তু নিজকর্তব্য যথাযথ পালনের পরেও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয় কয়েকটি অভিযোগ।সর্বসমক্ষে যেগুলির উত্তর দিতে হয় তাঁকে। (কিছু পরবর্তী কাল থেকেই যে বৌদ্ধ ধর্ম দলাদলির কালিমা লিপ্ত হবে,এ আর আশ্চর্যের কি?!) চুল্লবগ্গ ছাড়াও অনেক প্রামাণ্য বৌদ্ধ গ্রন্থে এই ঘটনার বিবরণ আছে। প্রথম অপরাধ(দুক্কট), ভগবান বুদ্ধ পরিনির্বাণকালে আনন্দকে বলেন যে, সংঘের ‘ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র’ শিক্ষাপদগুলি ইচ্ছে করলে ভিক্ষুগণ বাদ দিতে পারেন। অতঃপর প্রশ্ন ওঠে যে ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদ বলতে বুদ্ধ কোনগুলি বুঝিয়েছেন তা আনন্দ বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিনা এবং যদি না করেন তাহলে কেন করেননি। আনন্দ স্বীকার করেন, তিনি তা জিজ্ঞেস করতে পারেননি এই কারণে যে বুদ্ধের জীবনাবসান আসন্ন বুঝতে পেরে তিনি তখন শোকে দুঃখে মূহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন। এতটাই বিচলিত ছিলেন যে সেই সময় এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞাসা করতে পারেননি। এই অবস্থায় সংগিতীর সভাপতি মহাকস্সপ চিন্তা করেন, এই ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদ গুলি নির্দিষ্টভাবে না থাকবার জন্য সঙ্ঘে বিশৃঙ্খলা আসতে পারে। তাই তিনি এই বিষয়ে পূর্বাবস্থা বহাল রেখে দেন। দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে বলা হয়েছে যে বুদ্ধের পোশাকে সূচীকর্ম করার সময় আনন্দ পোশাকটির ওপর পা রেখেছিলেন। উত্তরে আনন্দ বলেন, সেই সময় তাঁকে সাহায্য করার জন্য অপরকেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে সূচীকর্মের প্রয়োজনেই তাঁকে এই কাজ করতে হয়েছিল। তৃতীয় অপরাধ এই ছিল, বুদ্ধের পরিনির্মাণের পর আনন্দ নারীসংঘকে সবার আগে শাস্তার দেহবন্দনা করবার সুযোগ দিয়েছিলেন কেন? আনন্দ উত্তর দেন যে নারীদের মানসিক অবস্থার কথা অনুভব করতে পেরে তিনি তাদের বিলম্ব করাতে চাননি। চতুর্থ অপরাধ, যখন আনন্দকে বুদ্ধ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন , তিনি নশ্বর দেহ ত্যাগ করবেন তখন আনন্দ জীবদের মঙ্গলার্থে বুদ্ধকে আরও এককল্প জীবিত থাকতে অনুরোধ করেন নি। আনন্দ স্পষ্টতই আক্ষেপ করে উত্তর দেন যে তাঁর চিত্তে হয়তো সেই সময় কোন অকুশলতা পরিস্ফুট হয়েছিল এবং সেই জন্যেই তিনি বুদ্ধকে ওই অনুরোধ করেননি। (মারেন পরিফুট্টিতচিত্তো ন ভগবন্তং যাচি। চুল্লবগ্গ।) পঞ্চম অপরাধটি হল কেন আনন্দ নারীদের সমর্থনে তাদেরকে সঙ্ঘে নেওয়ার জন্য বুদ্ধের কাছে আবেদন জানান? এক্ষেত্রেও আনন্দ বলেন, যে মহাপজাপতি গোতমী শিশুকাল থেকে পরম মমতায় বুদ্ধকে লালনপালন করে বড় করে তুলেছেন, তাঁর প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন হয়ে তিনি এই অনুরোধ করেছিলেন। এই পাঁচটার মধ্যে কোনটাই কি সত্যিকারের কোনো অপরাধ? ।। আনন্দ ।। বুদ্ধদেবের শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম যাঁরা ছিলেন তারা হলেন যশ, সারিপুত্র, মৌদগল্যায়ন, অনাথপিন্ডিক, অঙ্গুলিমাল, প্রমুখ। তবে ভগবান বুদ্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি এবং ঘনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন আনন্দ। আনন্দ ছিলেন বুদ্ধদেবের পিতা শুদ্ধোদনের অনুজ অমিতোদনের পুত্র। বোধি লাভের ছয় বছর পরে বুদ্ধদেব যখন তাঁর পিতার অনুরোধক্রমে শাক্যরাজ্যে উপস্থিত হন, তখনই আরো বেশ কয়েকজন রাজকুমারের সঙ্গে আনন্দ বুদ্ধদেবের মুক্তি মন্ত্রে দীক্ষিত হন এবং প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। বুদ্ধদেব পূর্ণ মন্তানিপুত্রকে আনন্দের উপাধ্যায় নিযুক্ত করেন। শীঘ্রই তাঁর ধর্ম উপদেশ শ্রবন করে আনন্দ স্রোতাপত্তি ফলে প্রতিষ্ঠিত হন। বুদ্ধদেবের একেবারে শেষ শয়ান পর্যন্ত আনন্দ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।এবং এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি নিজের জন্য বা অন্যসকলের জন্য যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেগুলি ছিল অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য। এটা আনন্দ চরিত্রকে একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। এরপর আমরা সেটাই লক্ষ্য করবো। বুদ্ধত্ব লাভের পর প্রথম কুড়ি বৎসর বুদ্ধদেবের কোন নির্দিষ্ট সেবক ছিলেন না। বিভিন্ন ভিক্ষুগণ একেকসময়ে একেকজন তাঁর পরিচর্যা করেছিলেন। এদের কেউই কিন্তু বুদ্ধদেবের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারেননি। অবশেষে শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে ভিক্ষুদের সমবেত করে তিনি ঘোষণা করলেন,"ভিক্ষুকগণ, আমি বৃদ্ধ হয়েছি। আমার একজন সর্বক্ষণের স্থায়ী সেবকের প্রয়োজন"। উল্লেখ্য যে তথাগতসেবক যিনি হবেন তাকে নিরলস, কর্তব্যপরায়ন এবং ঐকান্তিক হতে হবে। এই অবস্থায় সমবেত সকলেই সেবক হওয়ার জন্য আবেদন করলেন একমাত্র আনন্দ বাদে। বুদ্ধদেব যখন আনন্দকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন তখন আনন্দ বললেন যে 'ভগবান নিজেই কে এই কাজের যোগ্য তা স্থির করে নিতে পারবেন। কারণ সেবক হওয়ার যোগ্যতা কার আছে তা তিনিই সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন। তখন বুদ্ধ বললেন যে সেবক হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা আনন্দের মধ্যেই আছে। আনন্দ তখন দাঁড়িয়ে যুক্তকর এ প্রার্থনা করলেন যে তাঁর আটটি বর চাইবার আছে। দুটি পর্যায়ে তিনি বিষয়গুলি উপস্থাপন করলেন। প্রথম চারটি হল,১. তথাগতের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত চীবর এবং ২.উত্তম খাদ্যবস্তু তাঁর গ্রহণীয় হবে না। ৩.তথাগতের সঙ্গে গন্ধকুটীতে তিনি অবস্থান করবেন না। ৪. তথাগত আমন্ত্রিত হলে তাঁর সঙ্গে সকল স্থানেই যে তিনি যেতে বাধ্য থাকবেন এমন নয় বা না যাবার অধিকার তাঁর থাকবে। পরের চারটির ক্ষেত্রে তিনি প্রার্থনা করলেন ১.তাঁর গৃহীত নিমন্ত্রণ বুদ্ধদেব গ্রহণ করবেন।২. বুদ্ধদেবকে দর্শনের উদ্দেশ্যে দূরদেশ হতে আগত ব্যক্তিদের আনন্দের ইচ্ছানুসারে যেকোনো সময়ে ভগবানের কাছে উপস্থিত করা যাবে।৩. কোন বিষয়ে আনন্দের মনে সন্দেহ জাগলে তা অপনোদনের জন্য যেকোনো সময় বুদ্ধদেবের কাছে উপস্থিত হওয়ার অধিকার তাঁর থাকবে। এবং ৪.আনন্দের অনুপস্থিতিতে বুদ্ধদেব যেখানে যে ধর্মদেশনা দান করবেন পরে তিনি সেগুলি তাকে আবারো শোনাবেন। সহজেই বোঝা যায় যে, প্রথম চারটি প্রার্থনা তিনি এইজন্য করেছিলেন যাতে কেউ তাকে বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত বলে অপবাদ দিতে না পারে। আর শেষের শর্ত গুলি দেবার একাধিক কারণ ছিল। যেমন কোন শ্রদ্ধাবান উপাসককে যদি তিনি বুদ্ধদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে না পারেন তাহলে সাধারণের কাছে তাকে বিদ্রূপের পাত্র হতে হবে। তাছাড়া যদি কোন বিষয়ে তার সন্দেহের উদ্রেক হয় বা বুদ্ধদেবের কোনো দেশনার বিষয় তার অজ্ঞাত থাকে তাহলে পরবর্তীকালে তিনি সেই বিষয়ক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে অসমর্থ হবেন। বুদ্ধদেব সমস্ত প্রার্থনাই মঞ্জুর করেন ও আনন্দও সেবক পদে নিযুক্ত থাকেন, বুদ্ধদেবের মৃত্যু পর্যন্ত। ভিক্ষুনীসঙ্ঘ স্থাপনের ব্যাপারটিও সম্ভব হয়েছিল আনন্দের জন্যই। বুদ্ধ ভিক্ষুনীসঙ্গ স্থাপনের পক্ষপাতী ছিলেন না। মহাপজাপতি গৌতমীও বারবার অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই অবস্থায় মহাপজাপতির সঙ্গে শাক্যনারীরা দীর্ঘপথ হেঁটে বুদ্ধের কাছে বৈশালীতে উপস্থিত হন। তাদের কষ্ট দেখে আনন্দ বুদ্ধের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি বুদ্ধকে প্রশ্ন করেন," আপনি যে ধর্ম সম্প্রদায় স্থাপন করেছেন, সেখানে ভিক্ষুণী হয়ে কি কোন নারী স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী ও অর্হৎ ফল পেতে পারেন?"(এগুলি অর্হত্বলাভের পর্যায়)। বুদ্ধ বললেন," অবশ্যই পারেন!" আনন্দ তখন বললেন,"তাহলে আপনি মহাপজাপতি সহ নারীদের সংঘপ্রবেশের অনুমতি দিন।"এইভাবে যুক্তির দ্বারা আনন্দ ভিক্ষুণী সংঘ গঠনের কার্যে সফল হলেন। বুদ্ধের সেবায় আনন্দ ছিলেন নিরলস। তার প্রাত্যহিক কর্ম তালিকা ছিল এইরূপ,– দিবসের প্রারম্ভে বুদ্ধের জন্য ত্রিবিধ দন্তকাষ্ঠ এবং তাঁর স্নানের জন্য শীতল ও উষ্ণ জলের আয়োজন করা। সযত্নে চরণ ধৌত করা এবং পৃষ্ঠদেশ পরিমার্জন করা। প্রত্যহ গন্ধকুটী পরিষ্কার করা এবং বুদ্ধের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথাস্থানে সংরক্ষণ করা। দিনের বেলা গন্ধকুটীর কাছাকাছি অবস্থান করা এবং রাত্রে দন্ড প্রদীপ হাতে নিয়ে গন্ধকুটীর চারিদিকে প্রতি আধঘন্টায় একবার প্রদক্ষিণ করে আসা। এছাড়া দর্শনার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বুদ্ধের কাছে উপস্থিত করা, ভিক্ষু, ভিক্ষুণীদের শিক্ষাদান ইত্যাদি তাঁর আবশ্যিক কর্মসূচির মধ্যে ছিল। বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থে আনন্দের যেসব গুণ বা ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলি হল,– বুদ্ধের প্রধান সেবকত্ব লাভ করা। ধর্মভান্ডাগারীক পদ প্রাপ্ত হওয়া। অগ্ৰস্মৃতিমান ও অগ্রগতিমান অভিধা লাভ করা। বুদ্ধের সমস্ত দেশনা হৃদয়ে ধারণ করতে পারা। অগ্রধৃতিমান উপাধি লাভ করা ইত্যাদি। বুদ্ধ নিজে আনন্দকে তার সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্য বলে উল্লেখ করে গেছেন। আনন্দের চেষ্টায় জেতবনে মহাবোধিতরুর শাখা রোপিত হয় যা আনন্দবোধি রূপে পরিচিত। ভগবান বুদ্ধের শেষযাত্রাপথটির সঙ্গী ছিলেন তিনি।বুদ্ধের নির্দেশে তাঁর শেষশয্যাও রচনা করেন আনন্দই। কুশিনারার শালবনে বৃক্ষ মূলে আনন্দ বুদ্ধের শয্যা প্রস্তুত করে দেন।ককুথ্থ নদী থেকে পানীয় জল আহরণ করে তাকে প্রদান করেন। ওই শোকের মুহূর্তেও তিনি কুশিনারার মল্ল রাজাদের সংবাদ দেন। মৃত্যুর পূর্বে বুদ্ধদেব তাকে কাছে ডেকে বলেন, "আনন্দ দীর্ঘদিন তুমি পরমমৈত্রী চিত্তে তথাগতর কায়িক বাচনিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ বিধানের জন্য সেবা করে এসেছো। তুমি কৃতপূর্ণ। এবার তোমার অর্হত্ব লাভের সময় আগত।" বুদ্ধের পরিনির্বাণের পর শোকে মূহ্যমান আনন্দ শোকবার্তা প্রকাশ করেন এই বলে– তথাসি যং ভিনসনকং তদাসি লোমহংসং সব্বকারবরুপেতে সম্বুদ্ধে পরিনিব্বুতে। [সর্বশ্রেষ্ঠ সম্বুদ্ধের পরিনির্বাণের সঙ্গে সঙ্গে লোমহর্ষক ভূমিকম্প এবং বজ্রনির্ঘোষ ও বিদ্যুৎ চমকিত হল] —----------------------------------------------------------------------------------- এই আনন্দও কিন্তু সমালোচনার,যাকে একরকম নিগ্ৰহই বলা চলে, হাত থেকে রেহাই পাননি। তিনি তখনো অর্হত্ব লাভ করেননি,এই কারণে (অজুহাত?) প্রথম বৌদ্ধ সংগিতীতে প্রথমটায় আনন্দকে যোগদান করবার অনুমতিই দেওয়া হয়নি। কিন্তু যেহেতু আনন্দ ছাড়া অন্য কারুর পক্ষে বুদ্ধের ধর্ম সম্পর্কে তাঁরই মুখনিঃসৃত উপদেশগুলি নিখুঁতভাবে বিবৃত করা সম্ভব নয়.. আর বেশ কিছু ভিক্ষুক তাঁকে বাদ দেবার তীব্র প্রতিবাদ জানান.. সবমিলিয়ে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। বলা হয়ে থাকে তিনি সংগিতী আরম্ভের আগের রাত্রির তৃতীয়যামে অর্হত্ত্ব লাভ করেন। সংগিতীতে যোগ দিয়ে তিনি বুদ্ধ বাণী গুলি আবৃত্তি করেন।বলা চলে এগুলিই সুত্তপিটকের মূল অংশ। কিন্তু নিজকর্তব্য যথাযথ পালনের পরেও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয় কয়েকটি অভিযোগ।সর্বসমক্ষে যেগুলির উত্তর দিতে হয় তাঁকে। (কিছু পরবর্তী কাল থেকেই যে বৌদ্ধ ধর্ম দলাদলির কালিমা লিপ্ত হবে,এ আর আশ্চর্যের কি?!) চুল্লবগ্গ ছাড়াও অনেক প্রামাণ্য বৌদ্ধ গ্রন্থে এই ঘটনার বিবরণ আছে। প্রথম অপরাধ(দুক্কট), ভগবান বুদ্ধ পরিনির্বাণকালে আনন্দকে বলেন যে, সংঘের ‘ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র’ শিক্ষাপদগুলি ইচ্ছে করলে ভিক্ষুগণ বাদ দিতে পারেন। অতঃপর প্রশ্ন ওঠে যে ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদ বলতে বুদ্ধ কোনগুলি বুঝিয়েছেন তা আনন্দ বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিনা এবং যদি না করেন তাহলে কেন করেননি। আনন্দ স্বীকার করেন, তিনি তা জিজ্ঞেস করতে পারেননি এই কারণে যে বুদ্ধের জীবনাবসান আসন্ন বুঝতে পেরে তিনি তখন শোকে দুঃখে মূহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন। এতটাই বিচলিত ছিলেন যে সেই সময় এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞাসা করতে পারেননি। এই অবস্থায় সংগিতীর সভাপতি মহাকস্সপ চিন্তা করেন, এই ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদ গুলি নির্দিষ্টভাবে না থাকবার জন্য সঙ্ঘে বিশৃঙ্খলা আসতে পারে। তাই তিনি এই বিষয়ে পূর্বাবস্থা বহাল রেখে দেন। দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে বলা হয়েছে যে বুদ্ধের পোশাকে সূচীকর্ম করার সময় আনন্দ পোশাকটির ওপর পা রেখেছিলেন। উত্তরে আনন্দ বলেন, সেই সময় তাঁকে সাহায্য করার জন্য অপরকেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে সূচীকর্মের প্রয়োজনেই তাঁকে এই কাজ করতে হয়েছিল। তৃতীয় অপরাধ এই ছিল, বুদ্ধের পরিনির্মাণের পর আনন্দ নারীসংঘকে সবার আগে শাস্তার দেহবন্দনা করবার সুযোগ দিয়েছিলেন কেন? আনন্দ উত্তর দেন যে নারীদের মানসিক অবস্থার কথা অনুভব করতে পেরে তিনি তাদের বিলম্ব করাতে চাননি। চতুর্থ অপরাধ, যখন আনন্দকে বুদ্ধ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন , তিনি নশ্বর দেহ ত্যাগ করবেন তখন আনন্দ জীবদের মঙ্গলার্থে বুদ্ধকে আরও এককল্প জীবিত থাকতে অনুরোধ করেন নি। আনন্দ স্পষ্টতই আক্ষেপ করে উত্তর দেন যে তাঁর চিত্তে হয়তো সেই সময় কোন অকুশলতা পরিস্ফুট হয়েছিল এবং সেই জন্যেই তিনি বুদ্ধকে ওই অনুরোধ করেননি। (মারেন পরিফুট্টিতচিত্তো ন ভগবন্তং যাচি। চুল্লবগ্গ।) পঞ্চম অপরাধটি হল কেন আনন্দ নারীদের সমর্থনে তাদেরকে সঙ্ঘে নেওয়ার জন্য বুদ্ধের কাছে আবেদন জানান? এক্ষেত্রেও আনন্দ বলেন, যে মহাপজাপতি গোতমী শিশুকাল থেকে পরম মমতায় বুদ্ধকে লালনপালন করে বড় করে তুলেছেন, তাঁর প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন হয়ে তিনি এই অনুরোধ করেছিলেন। এই পাঁচটার মধ্যে কোনটাই কি সত্যিকারের কোনো অপরাধ??এমনকি, চতুর্থ যে অপরাধ,যেই জন্য আনন্দের মতো শুদ্ধচিত্ত মানুষও নিজেকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘মারকবলিত’ বলেছেন,বাস্তবে সেটাও কি সম্ভব ছিল? অর্থাৎ কেউ অনুরোধ করলেও নশ্বর জীবের পক্ষে আয়ুষ্কাল প্রলম্বিত করা কি সম্ভব? বুদ্ধদেব নিজেও..বলা ভালো নিজেই, জানতেন নশ্বর শরীরের বিনাশ আছে। তিনি তো কখনও নিজেকে তথাকথিত ভগবান বলে দাবীও করেননি। বরং আনন্দ এই একটি অপরাধ স্বীকার করে,কোনো প্রতিযুক্তির বদলে নিজেকে চরমতম তিরস্কার করেছেন।এই আত্মতিরস্কার তাঁর শুভ্র চরিত্রে যেন নতুন এক সাদা পালকের সংযোজন!! তথ্যসূত্র–মূলপাঠ্য–চুল্লবগ্গ। মহাবগ্গ।(মহাপরিনির্বাণ সুত্তান্ত)। বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস ।ডঃ মণিকুন্তলা হালদার (দে)

10 hrs ago
user_Pingla Barta
Pingla Barta
Mill Owner পিংলা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
10 hrs ago
9fd7afa2-17ae-4f70-a8bb-8f20e53d8e2f

।। আনন্দ ।। বুদ্ধদেবের শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম যাঁরা ছিলেন তারা হলেন যশ, সারিপুত্র, মৌদগল্যায়ন, অনাথপিন্ডিক, অঙ্গুলিমাল, প্রমুখ। তবে ভগবান বুদ্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি এবং ঘনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন আনন্দ। আনন্দ ছিলেন বুদ্ধদেবের পিতা শুদ্ধোদনের অনুজ অমিতোদনের পুত্র। বোধি লাভের ছয় বছর পরে বুদ্ধদেব যখন তাঁর পিতার অনুরোধক্রমে শাক্যরাজ্যে উপস্থিত হন, তখনই আরো বেশ কয়েকজন রাজকুমারের সঙ্গে আনন্দ বুদ্ধদেবের মুক্তি মন্ত্রে দীক্ষিত হন এবং প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। বুদ্ধদেব পূর্ণ মন্তানিপুত্রকে আনন্দের উপাধ্যায় নিযুক্ত করেন। শীঘ্রই তাঁর ধর্ম উপদেশ শ্রবন করে আনন্দ স্রোতাপত্তি ফলে প্রতিষ্ঠিত হন। বুদ্ধদেবের একেবারে শেষ শয়ান পর্যন্ত আনন্দ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।এবং এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি নিজের জন্য বা অন্যসকলের জন্য যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেগুলি ছিল অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য। এটা আনন্দ চরিত্রকে একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। এরপর আমরা সেটাই লক্ষ্য করবো। বুদ্ধত্ব লাভের পর প্রথম কুড়ি বৎসর বুদ্ধদেবের কোন নির্দিষ্ট সেবক ছিলেন না। বিভিন্ন ভিক্ষুগণ একেকসময়ে একেকজন তাঁর পরিচর্যা করেছিলেন। এদের কেউই কিন্তু বুদ্ধদেবের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারেননি। অবশেষে শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে ভিক্ষুদের সমবেত করে তিনি ঘোষণা করলেন,"ভিক্ষুকগণ, আমি বৃদ্ধ হয়েছি। আমার একজন সর্বক্ষণের স্থায়ী সেবকের প্রয়োজন"। উল্লেখ্য যে তথাগতসেবক যিনি হবেন তাকে নিরলস, কর্তব্যপরায়ন এবং ঐকান্তিক হতে হবে। এই অবস্থায় সমবেত সকলেই সেবক হওয়ার জন্য আবেদন করলেন একমাত্র আনন্দ বাদে। বুদ্ধদেব যখন আনন্দকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন তখন আনন্দ বললেন যে 'ভগবান নিজেই কে এই কাজের যোগ্য তা স্থির করে নিতে পারবেন। কারণ সেবক হওয়ার যোগ্যতা কার আছে তা তিনিই সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন। তখন বুদ্ধ বললেন যে সেবক হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা আনন্দের মধ্যেই আছে। আনন্দ তখন দাঁড়িয়ে যুক্তকর এ প্রার্থনা করলেন যে তাঁর আটটি বর চাইবার আছে। দুটি পর্যায়ে তিনি বিষয়গুলি উপস্থাপন করলেন। প্রথম চারটি হল,১. তথাগতের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত চীবর এবং ২.উত্তম খাদ্যবস্তু তাঁর গ্রহণীয় হবে না। ৩.তথাগতের সঙ্গে গন্ধকুটীতে তিনি অবস্থান করবেন না। ৪. তথাগত আমন্ত্রিত হলে তাঁর সঙ্গে সকল স্থানেই যে তিনি যেতে বাধ্য থাকবেন এমন নয় বা না যাবার অধিকার তাঁর থাকবে। পরের চারটির ক্ষেত্রে তিনি প্রার্থনা করলেন ১.তাঁর গৃহীত নিমন্ত্রণ বুদ্ধদেব গ্রহণ করবেন।২. বুদ্ধদেবকে দর্শনের উদ্দেশ্যে দূরদেশ হতে আগত ব্যক্তিদের আনন্দের ইচ্ছানুসারে যেকোনো সময়ে ভগবানের কাছে উপস্থিত করা যাবে।৩. কোন বিষয়ে আনন্দের মনে সন্দেহ জাগলে তা অপনোদনের জন্য যেকোনো সময় বুদ্ধদেবের কাছে উপস্থিত হওয়ার অধিকার তাঁর থাকবে। এবং ৪.আনন্দের অনুপস্থিতিতে বুদ্ধদেব যেখানে যে ধর্মদেশনা দান করবেন পরে তিনি সেগুলি তাকে আবারো শোনাবেন। সহজেই বোঝা যায় যে, প্রথম চারটি প্রার্থনা তিনি এইজন্য করেছিলেন যাতে কেউ তাকে বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত বলে অপবাদ দিতে না পারে। আর শেষের শর্ত গুলি দেবার একাধিক কারণ ছিল। যেমন কোন শ্রদ্ধাবান উপাসককে যদি তিনি বুদ্ধদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে না পারেন তাহলে সাধারণের কাছে তাকে বিদ্রূপের পাত্র হতে হবে। তাছাড়া যদি কোন বিষয়ে তার সন্দেহের উদ্রেক হয় বা বুদ্ধদেবের কোনো দেশনার বিষয় তার অজ্ঞাত থাকে তাহলে পরবর্তীকালে তিনি সেই বিষয়ক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে অসমর্থ হবেন। বুদ্ধদেব সমস্ত প্রার্থনাই মঞ্জুর করেন ও আনন্দও সেবক পদে নিযুক্ত থাকেন, বুদ্ধদেবের মৃত্যু পর্যন্ত। ভিক্ষুনীসঙ্ঘ স্থাপনের ব্যাপারটিও সম্ভব হয়েছিল আনন্দের জন্যই। বুদ্ধ ভিক্ষুনীসঙ্গ স্থাপনের পক্ষপাতী ছিলেন না। মহাপজাপতি গৌতমীও বারবার অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই অবস্থায় মহাপজাপতির সঙ্গে শাক্যনারীরা দীর্ঘপথ হেঁটে বুদ্ধের কাছে বৈশালীতে উপস্থিত হন। তাদের কষ্ট দেখে আনন্দ বুদ্ধের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি বুদ্ধকে প্রশ্ন করেন," আপনি যে ধর্ম সম্প্রদায় স্থাপন করেছেন, সেখানে ভিক্ষুণী হয়ে কি কোন নারী স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী ও অর্হৎ ফল পেতে পারেন?"(এগুলি অর্হত্বলাভের পর্যায়)। বুদ্ধ বললেন," অবশ্যই পারেন!" আনন্দ তখন বললেন,"তাহলে আপনি মহাপজাপতি সহ নারীদের সংঘপ্রবেশের অনুমতি দিন।"এইভাবে যুক্তির দ্বারা আনন্দ ভিক্ষুণী সংঘ গঠনের কার্যে সফল হলেন। বুদ্ধের সেবায় আনন্দ ছিলেন নিরলস। তার প্রাত্যহিক কর্ম তালিকা ছিল এইরূপ,– দিবসের প্রারম্ভে বুদ্ধের জন্য ত্রিবিধ দন্তকাষ্ঠ এবং তাঁর স্নানের জন্য শীতল ও উষ্ণ জলের আয়োজন করা। সযত্নে চরণ ধৌত করা এবং পৃষ্ঠদেশ পরিমার্জন করা। প্রত্যহ গন্ধকুটী পরিষ্কার করা এবং বুদ্ধের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথাস্থানে সংরক্ষণ করা। দিনের বেলা গন্ধকুটীর কাছাকাছি অবস্থান করা এবং রাত্রে দন্ড প্রদীপ হাতে নিয়ে গন্ধকুটীর চারিদিকে প্রতি আধঘন্টায় একবার প্রদক্ষিণ করে আসা। এছাড়া দর্শনার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বুদ্ধের কাছে উপস্থিত করা, ভিক্ষু, ভিক্ষুণীদের শিক্ষাদান ইত্যাদি তাঁর আবশ্যিক কর্মসূচির মধ্যে ছিল। বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থে আনন্দের যেসব গুণ বা ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলি হল,– বুদ্ধের প্রধান সেবকত্ব লাভ করা। ধর্মভান্ডাগারীক পদ প্রাপ্ত হওয়া। অগ্ৰস্মৃতিমান ও অগ্রগতিমান অভিধা লাভ করা। বুদ্ধের সমস্ত দেশনা হৃদয়ে ধারণ করতে পারা। অগ্রধৃতিমান উপাধি লাভ করা ইত্যাদি। বুদ্ধ নিজে আনন্দকে তার সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্য বলে উল্লেখ করে গেছেন। আনন্দের চেষ্টায় জেতবনে মহাবোধিতরুর শাখা রোপিত হয় যা আনন্দবোধি রূপে পরিচিত। ভগবান বুদ্ধের শেষযাত্রাপথটির সঙ্গী ছিলেন তিনি।বুদ্ধের নির্দেশে তাঁর শেষশয্যাও রচনা করেন আনন্দই। কুশিনারার শালবনে বৃক্ষ মূলে আনন্দ বুদ্ধের শয্যা প্রস্তুত করে দেন।ককুথ্থ নদী থেকে পানীয় জল আহরণ করে তাকে প্রদান করেন। ওই শোকের মুহূর্তেও তিনি কুশিনারার মল্ল রাজাদের সংবাদ দেন। মৃত্যুর পূর্বে বুদ্ধদেব তাকে কাছে ডেকে বলেন, "আনন্দ দীর্ঘদিন তুমি পরমমৈত্রী চিত্তে তথাগতর কায়িক বাচনিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ বিধানের জন্য সেবা করে এসেছো। তুমি কৃতপূর্ণ। এবার তোমার অর্হত্ব লাভের সময় আগত।" বুদ্ধের পরিনির্বাণের পর শোকে মূহ্যমান আনন্দ শোকবার্তা প্রকাশ করেন এই বলে– তথাসি যং ভিনসনকং তদাসি লোমহংসং সব্বকারবরুপেতে সম্বুদ্ধে পরিনিব্বুতে। [সর্বশ্রেষ্ঠ সম্বুদ্ধের পরিনির্বাণের সঙ্গে সঙ্গে লোমহর্ষক ভূমিকম্প এবং বজ্রনির্ঘোষ ও বিদ্যুৎ চমকিত হল] —----------------------------------------------------------------------------------- এই আনন্দও কিন্তু সমালোচনার,যাকে একরকম নিগ্ৰহই বলা চলে, হাত থেকে রেহাই পাননি। তিনি তখনো অর্হত্ব লাভ করেননি,এই কারণে (অজুহাত?) প্রথম বৌদ্ধ সংগিতীতে প্রথমটায় আনন্দকে যোগদান করবার অনুমতিই দেওয়া হয়নি। কিন্তু যেহেতু আনন্দ ছাড়া অন্য কারুর পক্ষে বুদ্ধের ধর্ম সম্পর্কে তাঁরই মুখনিঃসৃত উপদেশগুলি নিখুঁতভাবে বিবৃত করা সম্ভব নয়.. আর বেশ কিছু ভিক্ষুক তাঁকে বাদ দেবার তীব্র প্রতিবাদ জানান.. সবমিলিয়ে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। বলা হয়ে থাকে তিনি সংগিতী আরম্ভের আগের রাত্রির তৃতীয়যামে অর্হত্ত্ব লাভ করেন। সংগিতীতে যোগ দিয়ে তিনি বুদ্ধ বাণী গুলি আবৃত্তি করেন।বলা চলে এগুলিই সুত্তপিটকের মূল অংশ। কিন্তু নিজকর্তব্য যথাযথ পালনের পরেও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয় কয়েকটি অভিযোগ।সর্বসমক্ষে যেগুলির উত্তর দিতে হয় তাঁকে। (কিছু পরবর্তী কাল থেকেই যে বৌদ্ধ ধর্ম দলাদলির কালিমা লিপ্ত হবে,এ আর আশ্চর্যের কি?!) চুল্লবগ্গ ছাড়াও অনেক প্রামাণ্য বৌদ্ধ গ্রন্থে এই ঘটনার বিবরণ আছে। প্রথম অপরাধ(দুক্কট), ভগবান বুদ্ধ পরিনির্বাণকালে আনন্দকে বলেন যে, সংঘের ‘ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র’ শিক্ষাপদগুলি ইচ্ছে করলে ভিক্ষুগণ বাদ দিতে পারেন। অতঃপর প্রশ্ন ওঠে যে ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদ বলতে বুদ্ধ কোনগুলি বুঝিয়েছেন তা আনন্দ বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিনা এবং যদি না করেন তাহলে কেন করেননি। আনন্দ স্বীকার করেন, তিনি তা জিজ্ঞেস করতে পারেননি এই কারণে যে বুদ্ধের জীবনাবসান আসন্ন বুঝতে পেরে তিনি তখন শোকে দুঃখে মূহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন। এতটাই বিচলিত ছিলেন যে সেই সময় এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞাসা করতে পারেননি। এই অবস্থায় সংগিতীর সভাপতি মহাকস্সপ চিন্তা করেন, এই ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদ গুলি নির্দিষ্টভাবে না থাকবার জন্য সঙ্ঘে বিশৃঙ্খলা আসতে পারে। তাই তিনি এই বিষয়ে পূর্বাবস্থা বহাল রেখে দেন। দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে বলা হয়েছে যে বুদ্ধের পোশাকে সূচীকর্ম করার সময় আনন্দ পোশাকটির ওপর পা রেখেছিলেন। উত্তরে আনন্দ বলেন, সেই সময় তাঁকে সাহায্য করার জন্য অপরকেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে সূচীকর্মের প্রয়োজনেই তাঁকে এই কাজ করতে হয়েছিল। তৃতীয় অপরাধ এই ছিল, বুদ্ধের পরিনির্মাণের পর আনন্দ নারীসংঘকে সবার আগে শাস্তার দেহবন্দনা করবার সুযোগ দিয়েছিলেন কেন? আনন্দ উত্তর দেন যে নারীদের মানসিক অবস্থার কথা অনুভব করতে পেরে তিনি তাদের বিলম্ব করাতে চাননি। চতুর্থ অপরাধ, যখন আনন্দকে বুদ্ধ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন , তিনি নশ্বর দেহ ত্যাগ করবেন তখন আনন্দ জীবদের মঙ্গলার্থে বুদ্ধকে আরও এককল্প জীবিত থাকতে অনুরোধ করেন নি। আনন্দ স্পষ্টতই আক্ষেপ করে উত্তর দেন যে তাঁর চিত্তে হয়তো সেই সময় কোন অকুশলতা পরিস্ফুট হয়েছিল এবং সেই জন্যেই তিনি বুদ্ধকে ওই অনুরোধ করেননি। (মারেন পরিফুট্টিতচিত্তো ন ভগবন্তং যাচি। চুল্লবগ্গ।) পঞ্চম অপরাধটি হল কেন আনন্দ নারীদের সমর্থনে তাদেরকে সঙ্ঘে নেওয়ার জন্য বুদ্ধের কাছে আবেদন জানান? এক্ষেত্রেও আনন্দ বলেন, যে মহাপজাপতি গোতমী শিশুকাল থেকে পরম মমতায় বুদ্ধকে লালনপালন করে বড় করে তুলেছেন, তাঁর প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন হয়ে তিনি এই অনুরোধ করেছিলেন। এই পাঁচটার মধ্যে কোনটাই কি সত্যিকারের কোনো অপরাধ? ।। আনন্দ ।। বুদ্ধদেবের শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম যাঁরা ছিলেন তারা হলেন যশ, সারিপুত্র, মৌদগল্যায়ন, অনাথপিন্ডিক, অঙ্গুলিমাল, প্রমুখ। তবে ভগবান বুদ্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি এবং ঘনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন আনন্দ। আনন্দ ছিলেন বুদ্ধদেবের পিতা শুদ্ধোদনের অনুজ অমিতোদনের পুত্র। বোধি লাভের ছয় বছর পরে বুদ্ধদেব যখন তাঁর পিতার অনুরোধক্রমে শাক্যরাজ্যে উপস্থিত হন, তখনই আরো বেশ কয়েকজন রাজকুমারের সঙ্গে আনন্দ বুদ্ধদেবের মুক্তি মন্ত্রে দীক্ষিত হন এবং প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। বুদ্ধদেব পূর্ণ মন্তানিপুত্রকে আনন্দের উপাধ্যায় নিযুক্ত করেন। শীঘ্রই তাঁর ধর্ম উপদেশ শ্রবন করে আনন্দ স্রোতাপত্তি ফলে প্রতিষ্ঠিত হন। বুদ্ধদেবের একেবারে শেষ শয়ান পর্যন্ত আনন্দ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।এবং এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি নিজের জন্য বা অন্যসকলের জন্য যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেগুলি ছিল অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য। এটা আনন্দ চরিত্রকে একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। এরপর আমরা সেটাই লক্ষ্য করবো। বুদ্ধত্ব লাভের পর প্রথম কুড়ি বৎসর বুদ্ধদেবের কোন নির্দিষ্ট সেবক ছিলেন না। বিভিন্ন ভিক্ষুগণ একেকসময়ে একেকজন তাঁর পরিচর্যা করেছিলেন। এদের কেউই কিন্তু বুদ্ধদেবের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারেননি। অবশেষে শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে ভিক্ষুদের সমবেত করে তিনি ঘোষণা করলেন,"ভিক্ষুকগণ, আমি বৃদ্ধ হয়েছি। আমার একজন সর্বক্ষণের স্থায়ী সেবকের প্রয়োজন"। উল্লেখ্য যে তথাগতসেবক যিনি হবেন তাকে নিরলস, কর্তব্যপরায়ন এবং ঐকান্তিক হতে হবে। এই অবস্থায় সমবেত সকলেই সেবক হওয়ার জন্য আবেদন করলেন একমাত্র আনন্দ বাদে। বুদ্ধদেব যখন আনন্দকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন তখন আনন্দ বললেন যে 'ভগবান নিজেই কে এই কাজের যোগ্য তা স্থির করে নিতে পারবেন। কারণ সেবক হওয়ার যোগ্যতা কার আছে তা তিনিই সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন। তখন বুদ্ধ বললেন যে সেবক হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা আনন্দের মধ্যেই আছে। আনন্দ তখন দাঁড়িয়ে যুক্তকর এ প্রার্থনা করলেন যে তাঁর আটটি বর চাইবার আছে। দুটি পর্যায়ে তিনি বিষয়গুলি উপস্থাপন করলেন। প্রথম চারটি হল,১. তথাগতের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত চীবর এবং ২.উত্তম খাদ্যবস্তু তাঁর গ্রহণীয় হবে না। ৩.তথাগতের সঙ্গে গন্ধকুটীতে তিনি অবস্থান করবেন না। ৪. তথাগত আমন্ত্রিত হলে তাঁর সঙ্গে সকল স্থানেই যে তিনি যেতে বাধ্য থাকবেন এমন নয় বা না যাবার অধিকার তাঁর থাকবে। পরের চারটির ক্ষেত্রে তিনি প্রার্থনা করলেন ১.তাঁর গৃহীত নিমন্ত্রণ বুদ্ধদেব গ্রহণ করবেন।২. বুদ্ধদেবকে দর্শনের উদ্দেশ্যে দূরদেশ হতে আগত ব্যক্তিদের আনন্দের ইচ্ছানুসারে যেকোনো সময়ে ভগবানের কাছে উপস্থিত করা যাবে।৩. কোন বিষয়ে আনন্দের মনে সন্দেহ জাগলে তা অপনোদনের জন্য যেকোনো সময় বুদ্ধদেবের কাছে উপস্থিত হওয়ার অধিকার তাঁর থাকবে। এবং ৪.আনন্দের অনুপস্থিতিতে বুদ্ধদেব যেখানে যে ধর্মদেশনা দান করবেন পরে তিনি সেগুলি তাকে আবারো শোনাবেন। সহজেই বোঝা যায় যে, প্রথম চারটি প্রার্থনা তিনি এইজন্য করেছিলেন যাতে কেউ তাকে বিশেষ সুযোগপ্রাপ্ত বলে অপবাদ দিতে না পারে। আর শেষের শর্ত গুলি দেবার একাধিক কারণ ছিল। যেমন কোন শ্রদ্ধাবান উপাসককে যদি তিনি বুদ্ধদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে না পারেন তাহলে সাধারণের কাছে তাকে বিদ্রূপের পাত্র হতে হবে। তাছাড়া যদি কোন বিষয়ে তার সন্দেহের উদ্রেক হয় বা বুদ্ধদেবের কোনো দেশনার বিষয় তার অজ্ঞাত থাকে তাহলে পরবর্তীকালে তিনি সেই বিষয়ক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে অসমর্থ হবেন। বুদ্ধদেব সমস্ত প্রার্থনাই মঞ্জুর করেন ও আনন্দও সেবক পদে নিযুক্ত থাকেন, বুদ্ধদেবের মৃত্যু পর্যন্ত। ভিক্ষুনীসঙ্ঘ স্থাপনের ব্যাপারটিও সম্ভব হয়েছিল আনন্দের জন্যই। বুদ্ধ ভিক্ষুনীসঙ্গ স্থাপনের পক্ষপাতী ছিলেন না। মহাপজাপতি গৌতমীও বারবার অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই অবস্থায় মহাপজাপতির সঙ্গে শাক্যনারীরা দীর্ঘপথ হেঁটে বুদ্ধের কাছে বৈশালীতে উপস্থিত হন। তাদের কষ্ট দেখে আনন্দ বুদ্ধের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি বুদ্ধকে প্রশ্ন করেন," আপনি যে ধর্ম সম্প্রদায় স্থাপন করেছেন, সেখানে ভিক্ষুণী হয়ে কি কোন নারী স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী, অনাগামী ও অর্হৎ ফল পেতে পারেন?"(এগুলি অর্হত্বলাভের পর্যায়)। বুদ্ধ বললেন," অবশ্যই পারেন!" আনন্দ তখন বললেন,"তাহলে আপনি মহাপজাপতি সহ নারীদের সংঘপ্রবেশের অনুমতি দিন।"এইভাবে যুক্তির দ্বারা আনন্দ ভিক্ষুণী সংঘ গঠনের কার্যে সফল হলেন। বুদ্ধের সেবায় আনন্দ ছিলেন নিরলস। তার প্রাত্যহিক কর্ম তালিকা ছিল এইরূপ,– দিবসের প্রারম্ভে বুদ্ধের জন্য ত্রিবিধ দন্তকাষ্ঠ এবং তাঁর স্নানের জন্য শীতল ও উষ্ণ জলের আয়োজন করা। সযত্নে চরণ ধৌত করা এবং পৃষ্ঠদেশ পরিমার্জন করা। প্রত্যহ গন্ধকুটী পরিষ্কার করা এবং বুদ্ধের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথাস্থানে সংরক্ষণ করা। দিনের বেলা গন্ধকুটীর কাছাকাছি অবস্থান করা এবং রাত্রে দন্ড প্রদীপ হাতে নিয়ে গন্ধকুটীর চারিদিকে প্রতি আধঘন্টায় একবার প্রদক্ষিণ করে আসা। এছাড়া দর্শনার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বুদ্ধের কাছে উপস্থিত করা, ভিক্ষু, ভিক্ষুণীদের শিক্ষাদান ইত্যাদি তাঁর আবশ্যিক কর্মসূচির মধ্যে ছিল। বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থে আনন্দের যেসব গুণ বা ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলি হল,– বুদ্ধের প্রধান সেবকত্ব লাভ করা। ধর্মভান্ডাগারীক পদ প্রাপ্ত হওয়া। অগ্ৰস্মৃতিমান ও অগ্রগতিমান অভিধা লাভ করা। বুদ্ধের সমস্ত দেশনা হৃদয়ে ধারণ করতে পারা। অগ্রধৃতিমান উপাধি লাভ করা ইত্যাদি। বুদ্ধ নিজে আনন্দকে তার সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্য বলে উল্লেখ করে গেছেন। আনন্দের চেষ্টায় জেতবনে মহাবোধিতরুর শাখা রোপিত হয় যা আনন্দবোধি রূপে পরিচিত। ভগবান বুদ্ধের শেষযাত্রাপথটির সঙ্গী ছিলেন তিনি।বুদ্ধের নির্দেশে তাঁর শেষশয্যাও রচনা করেন আনন্দই। কুশিনারার শালবনে বৃক্ষ মূলে আনন্দ বুদ্ধের শয্যা প্রস্তুত করে দেন।ককুথ্থ নদী থেকে পানীয় জল আহরণ করে তাকে প্রদান করেন। ওই শোকের মুহূর্তেও তিনি কুশিনারার মল্ল রাজাদের সংবাদ দেন। মৃত্যুর পূর্বে বুদ্ধদেব তাকে কাছে ডেকে বলেন, "আনন্দ দীর্ঘদিন তুমি পরমমৈত্রী চিত্তে তথাগতর কায়িক বাচনিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ বিধানের জন্য সেবা করে এসেছো। তুমি কৃতপূর্ণ। এবার তোমার অর্হত্ব লাভের সময় আগত।" বুদ্ধের পরিনির্বাণের পর শোকে মূহ্যমান আনন্দ শোকবার্তা প্রকাশ করেন এই বলে– তথাসি যং ভিনসনকং তদাসি লোমহংসং সব্বকারবরুপেতে সম্বুদ্ধে পরিনিব্বুতে। [সর্বশ্রেষ্ঠ সম্বুদ্ধের পরিনির্বাণের সঙ্গে সঙ্গে লোমহর্ষক ভূমিকম্প এবং বজ্রনির্ঘোষ ও বিদ্যুৎ চমকিত হল] —----------------------------------------------------------------------------------- এই আনন্দও কিন্তু সমালোচনার,যাকে একরকম নিগ্ৰহই বলা চলে, হাত থেকে রেহাই পাননি। তিনি তখনো অর্হত্ব লাভ করেননি,এই কারণে (অজুহাত?) প্রথম বৌদ্ধ সংগিতীতে প্রথমটায় আনন্দকে যোগদান করবার অনুমতিই দেওয়া হয়নি। কিন্তু যেহেতু আনন্দ ছাড়া অন্য কারুর পক্ষে বুদ্ধের ধর্ম সম্পর্কে তাঁরই মুখনিঃসৃত উপদেশগুলি নিখুঁতভাবে বিবৃত করা সম্ভব নয়.. আর বেশ কিছু ভিক্ষুক তাঁকে বাদ দেবার তীব্র প্রতিবাদ জানান.. সবমিলিয়ে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়। বলা হয়ে থাকে তিনি সংগিতী আরম্ভের আগের রাত্রির তৃতীয়যামে অর্হত্ত্ব লাভ করেন। সংগিতীতে যোগ দিয়ে তিনি বুদ্ধ বাণী গুলি আবৃত্তি করেন।বলা চলে এগুলিই সুত্তপিটকের মূল অংশ। কিন্তু নিজকর্তব্য যথাযথ পালনের পরেও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয় কয়েকটি অভিযোগ।সর্বসমক্ষে যেগুলির উত্তর দিতে হয় তাঁকে। (কিছু পরবর্তী কাল থেকেই যে বৌদ্ধ ধর্ম দলাদলির কালিমা লিপ্ত হবে,এ আর আশ্চর্যের কি?!) চুল্লবগ্গ ছাড়াও অনেক প্রামাণ্য বৌদ্ধ গ্রন্থে এই ঘটনার বিবরণ আছে। প্রথম অপরাধ(দুক্কট), ভগবান বুদ্ধ পরিনির্বাণকালে আনন্দকে বলেন যে, সংঘের ‘ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র’ শিক্ষাপদগুলি ইচ্ছে করলে ভিক্ষুগণ বাদ দিতে পারেন। অতঃপর প্রশ্ন ওঠে যে ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদ বলতে বুদ্ধ কোনগুলি বুঝিয়েছেন তা আনন্দ বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিনা এবং যদি না করেন তাহলে কেন করেননি। আনন্দ স্বীকার করেন, তিনি তা জিজ্ঞেস করতে পারেননি এই কারণে যে বুদ্ধের জীবনাবসান আসন্ন বুঝতে পেরে তিনি তখন শোকে দুঃখে মূহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন। এতটাই বিচলিত ছিলেন যে সেই সময় এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞাসা করতে পারেননি। এই অবস্থায় সংগিতীর সভাপতি মহাকস্সপ চিন্তা করেন, এই ক্ষুদ্রানুক্ষুদ্র শিক্ষাপদ গুলি নির্দিষ্টভাবে না থাকবার জন্য সঙ্ঘে বিশৃঙ্খলা আসতে পারে। তাই তিনি এই বিষয়ে পূর্বাবস্থা বহাল রেখে দেন। দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে বলা হয়েছে যে বুদ্ধের পোশাকে সূচীকর্ম করার সময় আনন্দ পোশাকটির ওপর পা রেখেছিলেন। উত্তরে আনন্দ বলেন, সেই সময় তাঁকে সাহায্য করার জন্য অপরকেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে সূচীকর্মের প্রয়োজনেই তাঁকে এই কাজ করতে হয়েছিল। তৃতীয় অপরাধ এই ছিল, বুদ্ধের পরিনির্মাণের পর আনন্দ নারীসংঘকে সবার আগে শাস্তার দেহবন্দনা করবার সুযোগ দিয়েছিলেন কেন? আনন্দ উত্তর দেন যে নারীদের মানসিক অবস্থার কথা অনুভব করতে পেরে তিনি তাদের বিলম্ব করাতে চাননি। চতুর্থ অপরাধ, যখন আনন্দকে বুদ্ধ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন , তিনি নশ্বর দেহ ত্যাগ করবেন তখন আনন্দ জীবদের মঙ্গলার্থে বুদ্ধকে আরও এককল্প জীবিত থাকতে অনুরোধ করেন নি। আনন্দ স্পষ্টতই আক্ষেপ করে উত্তর দেন যে তাঁর চিত্তে হয়তো সেই সময় কোন অকুশলতা পরিস্ফুট হয়েছিল এবং সেই জন্যেই তিনি বুদ্ধকে ওই অনুরোধ করেননি। (মারেন পরিফুট্টিতচিত্তো ন ভগবন্তং যাচি। চুল্লবগ্গ।) পঞ্চম অপরাধটি হল কেন আনন্দ নারীদের সমর্থনে তাদেরকে সঙ্ঘে নেওয়ার জন্য বুদ্ধের কাছে আবেদন জানান? এক্ষেত্রেও আনন্দ বলেন, যে মহাপজাপতি গোতমী শিশুকাল থেকে পরম মমতায় বুদ্ধকে লালনপালন করে বড় করে তুলেছেন, তাঁর প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন হয়ে তিনি এই অনুরোধ করেছিলেন। এই পাঁচটার মধ্যে কোনটাই কি সত্যিকারের কোনো অপরাধ??এমনকি, চতুর্থ যে অপরাধ,যেই জন্য আনন্দের মতো শুদ্ধচিত্ত মানুষও নিজেকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘মারকবলিত’ বলেছেন,বাস্তবে সেটাও কি সম্ভব ছিল? অর্থাৎ কেউ অনুরোধ করলেও নশ্বর জীবের পক্ষে আয়ুষ্কাল প্রলম্বিত করা কি সম্ভব? বুদ্ধদেব নিজেও..বলা ভালো নিজেই, জানতেন নশ্বর শরীরের বিনাশ আছে। তিনি তো কখনও নিজেকে তথাকথিত ভগবান বলে দাবীও করেননি। বরং আনন্দ এই একটি অপরাধ স্বীকার করে,কোনো প্রতিযুক্তির বদলে নিজেকে চরমতম তিরস্কার করেছেন।এই আত্মতিরস্কার তাঁর শুভ্র চরিত্রে যেন নতুন এক সাদা পালকের সংযোজন!! তথ্যসূত্র–মূলপাঠ্য–চুল্লবগ্গ। মহাবগ্গ।(মহাপরিনির্বাণ সুত্তান্ত)। বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস ।ডঃ মণিকুন্তলা হালদার (দে)

More news from পশ্চিমবঙ্গ and nearby areas
  • মঙ্গলবারে ফের ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগের দমকা ঝড়ো হাওয়া। বুধবার পহেলা এপ্রিল ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা ফের কমবে।
    1
    মঙ্গলবারে ফের ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগের দমকা ঝড়ো হাওয়া। বুধবার পহেলা এপ্রিল ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা ফের কমবে।
    user_Tarak Hari
    Tarak Hari
    Journalist - News Media House ডেবরা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    10 hrs ago
  • এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগে সরব দুই শিবির। তৃণমূলের দাবি, পরিবেশ দূষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কিন্তু এই কোম্পানির মালিকের সাথে বিজেপি পার্টির বড় বড় নেতারা ওঠা বসা করে আমার কাছে ছবি আছে বললেন প্রদীপ সরকার। অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, এই কোম্পানি থেকে টাকা নিয়ে তৃণমূল পার্টির নেতারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। Source : বাংলা Digital #RashmiMetaliks #PollutionControversy #Kharagpur #IndustrialPollution #TMCvsBJP #WestBengalPolitics #BengalNews #PoliticalClash #EnvironmentIssue #KharagpurNews #BreakingNews #SaveEnvironment #PollutionCrisis #LocalIssue #IndiaPolitics #TrendingNow #NewsUpdate #PublicConcern #EcoAlert #GroundReport #debate Rashmi CSR Initiatives Dilip Ghosh Pradip Sarkar
    1
    এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগে সরব দুই শিবির।
তৃণমূলের দাবি, পরিবেশ দূষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কিন্তু এই কোম্পানির মালিকের সাথে বিজেপি পার্টির বড় বড় নেতারা ওঠা বসা করে আমার কাছে ছবি আছে বললেন প্রদীপ সরকার।
অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, এই কোম্পানি থেকে টাকা নিয়ে তৃণমূল পার্টির নেতারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
Source : বাংলা Digital 
#RashmiMetaliks #PollutionControversy #Kharagpur #IndustrialPollution #TMCvsBJP #WestBengalPolitics #BengalNews #PoliticalClash #EnvironmentIssue #KharagpurNews #BreakingNews
#SaveEnvironment #PollutionCrisis #LocalIssue #IndiaPolitics #TrendingNow #NewsUpdate #PublicConcern #EcoAlert #GroundReport #debate Rashmi CSR Initiatives Dilip Ghosh Pradip Sarkar
    user_Kharagpur Jagoran
    Kharagpur Jagoran
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    1 hr ago
  • #trainrestoration : रद्द ट्रेनों की वापसी: अप्रैल में फिर दौड़ेंगी शालीमार-मुंबई एक्सप्रेस। #southeasternrailway #kharagpurraildivision #shalimarlttkurlaexpress #restoration #kharagpurnews9
    1
    #trainrestoration : रद्द ट्रेनों की वापसी: अप्रैल में फिर दौड़ेंगी शालीमार-मुंबई एक्सप्रेस। #southeasternrailway #kharagpurraildivision #shalimarlttkurlaexpress  #restoration #kharagpurnews9
    user_KHARAGPUR NEWS 9
    KHARAGPUR NEWS 9
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    12 hrs ago
  • পূর্ব পাঁশকুড়া বিধান সভা য় কংগ্রেস প্রার্থী দীপক পাত্র সাংবাদিক বৈঠক।
    1
    পূর্ব পাঁশকুড়া বিধান সভা য় কংগ্রেস প্রার্থী দীপক পাত্র সাংবাদিক বৈঠক।
    user_Prithis Banerjee
    Prithis Banerjee
    Photography studio কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    39 min ago
  • তালদা ১ নম্বর অঞ্চলের নন্দকুড়িয়াতে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন উপস্থিত ছিলেন দাঁতন ৪ নং মন্ডলের সভাপতি লক্ষীকান্ত দাস সহ অন্যান্যরা।
    1
    তালদা ১ নম্বর অঞ্চলের নন্দকুড়িয়াতে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন উপস্থিত ছিলেন দাঁতন ৪ নং মন্ডলের সভাপতি লক্ষীকান্ত দাস সহ অন্যান্যরা।
    user_Nakul Patra
    Nakul Patra
    সাংবাদিক দাঁতন 2, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    3 hrs ago
  • Post by Ankit Banerjee
    1
    Post by Ankit Banerjee
    user_Ankit Banerjee
    Ankit Banerjee
    কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    6 hrs ago
  • চন্দ্রকোনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা,হাতাহাতি
    1
    চন্দ্রকোনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা,হাতাহাতি
    user_Soumen Misra
    Soumen Misra
    সাংবাদিক Daspur - I, Medinipur West•
    23 hrs ago
  • মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সুজয় হাজরা, খড়্গপুর (গ্রামীণ) কেন্দ্রে দীনেন রায়, শালবনী কেন্দ্রে শ্রীকান্ত মাহাত এবং গড়বেতা কেন্দ্রে উত্তরা সিংহ (হাজরা)-কে সমর্থনের ডাক দেওয়া হয়েছে। #MamataBanerjee #WestMedinipur #ElectionCampaign #BanglarVote #TMC #JoraPhool #BengalPolitics #VoteForChange #ElectionUpdate #PoliticalNews #Midnapore #Kharagpur #Salboni #Garbeta #BreakingNews #IndiaPolitics #TrendingNow #BengalNews #vote2026
    1
    মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সুজয় হাজরা, খড়্গপুর (গ্রামীণ) কেন্দ্রে দীনেন রায়, শালবনী কেন্দ্রে শ্রীকান্ত মাহাত এবং গড়বেতা কেন্দ্রে উত্তরা সিংহ (হাজরা)-কে সমর্থনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
#MamataBanerjee #WestMedinipur #ElectionCampaign #BanglarVote #TMC #JoraPhool #BengalPolitics #VoteForChange #ElectionUpdate #PoliticalNews
#Midnapore #Kharagpur #Salboni #Garbeta #BreakingNews #IndiaPolitics #TrendingNow #BengalNews #vote2026
    user_Kharagpur Jagoran
    Kharagpur Jagoran
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    4 hrs ago
View latest news on Shuru App
Download_Android
  • Terms & Conditions
  • Career
  • Privacy Policy
  • Blogs
Shuru, a product of Close App Private Limited.