logo
Shuru
Apke Nagar Ki App…
  • Latest News
  • News
  • Politics
  • Elections
  • Viral
  • Astrology
  • Horoscope in Hindi
  • Horoscope in English
  • Latest Political News
logo
Shuru
Apke Nagar Ki App…

শ্রীচৈতন্যদেবের ভক্তিধর্মের সূত্র ধরে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন থেকে বাংলায় (মাতৃ উপাসনার সঙ্গে) অন্যতম আরাধ্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এর আগে অবশ্য গীতগোবিন্দের রচয়িতা ভক্তকবি জয়দেব গোস্বামীর বৈষ্ণবধারায় ভাগবত মত বাংলায় জনপ্রিয় হতে শুরু করে। শ্রীচৈতন্যের হাত ধরে শাক্ত ভাবাপন্ন বাঙালির কাছে বৈষ্ণব মত জনপ্রিয়তায় এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করে।‌ গৌড়ীয় ভক্ত দৃষ্টিতে শ্রীচৈতন্য রাধাকৃষ্ণের মিলিত অবতার রূপ। চৈতন্যদেব যদি বাংলার বৈষ্ণব ধারায় বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণকে মুখ্য আরাধ্য না করে রামচন্দ্রকে প্রতীক করে প্রচারিত করতেন তবে আজ বাংলার বৈষ্ণবভাবধারা কৃষ্ণের পরিবর্তে রামচন্দ্র কেন্দ্রিক হতো। অবশ্য তাঁর প্রচারিত মহামন্ত্রের মধ্যে রাম ও কৃষ্ণ দুই-ই রয়েছেন। তবে রামচন্দ্র কিছুটা পরোক্ষভাবে। বিষ্ণু অবতার রামচন্দ্র, রামায়ণ মহাকাব্যের নায়ক রামচন্দ্র, সমগ্র উত্তর ভারতে মর্যাদাপুরুষোত্তম হিসেবে বন্দিত রামচন্দ্র ―‌ বাংলার বৈষ্ণব ভাবধারায় কিছুটা গৌণ হয়ে রয়ে গেছেন আরও নানা কারণে। তবে রামচন্দ্রের উপাসনা বাংলায় বহিরাগত সংস্কৃতির প্রভাবে হয়েছে ― একথা তথ্য ও যুক্তির আলোকে একেবারেই ভ্রান্ত। বাংলার দারু বিগ্রহে, রঘুবীর শিলার পূজায়, মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝার বাংলা রামায়ণ পাঁচালীর অবদানে দশরথপুত্র-সীতাপতি-লঙ্কাবিজয়ী অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্র বাঙালির বৈষ্ণব সংস্কৃতিতে নানাভাবে মিশে গেছেন এবং আছেন। রানী রাসমণি দেবী ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পারিবারিক আরাধ্য হলেন রঘুবীর শিলা। অর্থাৎ শিলায় রামচন্দ্রের পূজা বাংলায় আগে থেকেই প্রচলিত ছিল।‌ তা নতুন কিছু নয়। নদীয়ার শান্তিপুর এবং হুগলির গুপ্তিপাড়া ও শ্রীরামপুরে দারু‌ ও ধাতব মূর্তিতে রামচন্দ্রের উপাসনা সেখানকার ঐতিহ্যের সঙ্গে চলে আসছে। হাওড়ার রাজারামতলার রামপূজা আজ এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করেছে। উত্তরবঙ্গের 'রামসরা'র কথাও এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হয়। বাংলার স্থাননামে, টেরাকোটা মন্দির ফলকে, ছৌ-নাচে, পটচিত্রে রামচন্দ্র ও রামায়ণ সংস্কৃতি বাঙালির লোক ঐতিহ্যে লালিত হয়েছে। আজো বেশ কিছু বাঙালি বাড়িতে গোপাল মূর্তি সদৃশ রামলালা মূর্তি গৃহদেবতা হিসেবে পূজিত হন। বাংলার রামের গাত্রবর্ণ সবুজ রঙের। বাংলার রামমূর্তির অবয়বেই এর একান্ত নিজস্বতা ফুটে উঠেছে। তাই বাঙালির ধর্ম ‌সংস্কৃতিতে রামচন্দ্র বহিরাগত নন একেবারেই। বাঙালি তাদের রামকে নিজের মতো করে মানস প্রতিমায় গড়ে নিয়েছে। মহাভারতের চেয়ে আজো বাংলায় রামায়ণ গানের/পাঠের কদর অনেক বেশি। কালীভক্ত-কৃষ্ণভক্ত বাঙালি তাদের সমাজ ও সংসার জীবনে মর্যাদার প্রতিরূপ হিসেবে রামচন্দ্রকেই কল্পনা করে এসেছে/আসছে। 'সীতা' তাদের কাছে বাঙালি নারীর আদর্শ। যেমন ভাইয়ের আদর্শে ভরত ও লক্ষ্মণ, ভক্তি-সেবা-বীরত্বে হনুমান ও ঘরশত্রু রূপে সমালোচিত বিভীষণ রামচন্দ্রের অনুষঙ্গে আত্মীকৃত হয়েছেন। রামচন্দ্র স্বয়ং এখানে মর্যাদা ও আত্মত্যাগের প্রতিমূর্তি। বাঙালির ধর্ম চেতনায় এঁদের এই অবস্থান‌ যুগ যুগ ধরে মননে বিকশিত হয়ে চলেছে। বিশিষ্ট গবেষক ও ক্ষেত্রসমীক্ষক শ্রদ্ধেয় স্বপনকুমার ঠাকুরের সম্পাদনায় 'বঙ্গে রামপূজা ও রামায়ণ সংস্কৃতি' বইটি বাংলা ও বাঙালির রামচন্দ্র চর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী প্রকাশনা। এই বইটি পড়ার পর পাঠকের মনের অনেক বিভ্রান্তি ক্ষেত্রসমীক্ষায় পাওয়া ইতিহাসের যুক্তি নির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে সমাধান সূত্র লাভ করবে। ভূমিকায় সম্পাদক মহোদয় সম্পাদিত বইটি প্রকাশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। শ্রদ্ধেয় স্বপন ঠাকুরের লেখা প্রধান প্রবন্ধটি বাংলায় রামচন্দ্র সম্পর্কিত অনেক ভুল ধারণা দূর করবে। বিষ্ণুপুরের প্রাচীন রামমূর্তির আলোচনায় নরেশচন্দ্র মোদক; দশাবতার প্রস্তরফলকে রামের উপস্থিতির বিশ্লেষণে শুভ মজুমদার; বঙ্গে, বহির্বঙ্গে ও বহির্ভারতের রামকথার আলোচনায় বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ডাঃ তিলক পুরকায়স্থ; পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলংকরণে রামায়ণ প্রসঙ্গে শ্রদ্ধেয় আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়; বাঁকুড়ার রাম-সংস্কৃতি ও গোবিন্দপুরের রঘুনাথ-অস্থল এর আলোচনায় নবীন গবেষক শুভম মুখোপাধ্যায়; বৈষ্ণবীয় ধারায় শ্রীরামচন্দ্র ও‌ রামায়ণ সংস্কৃতি সমীক্ষা নিম্নদক্ষিণবঙ্গ প্রসঙ্গে গবেষক দেবপ্রসাদ পিয়াদা; হাওড়ার রাজারামতলার প্রসঙ্গে সুকান্ত মুখোপাধ্যায়; বাংলায় রঘুবীর ও তপোবনের সন্ধানে লেখিকা অঙ্গিরা দত্ত দন্ডপাট; গুপ্তিপাড়ার রামচন্দ্র বিষয়ে সুমন্ত বড়াল; শান্তিপুরের রঘুনাথের রথযাত্রা প্রসঙ্গে তিরুপতি চক্রবর্তী; খড়দহের রামসীতা বিগ্ৰহ প্রসঙ্গে ঋত্বিক হাজরা; রামচন্দ্রের দরবারে শীর্ষক লেখায় গবেষক ও লেখিকা সোমা মুখোপাধ্যায়; শালগ্ৰামরূপী রামচন্দ্র প্রসঙ্গে বিনায়ক; পূর্ববাংলায় রামচন্দ্র আলোচনায় সৌরভ ভট্টাচার্য; রামায়ণ গান ও রামযাত্রা প্রসঙ্গে তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; ঝুমুরে রামায়ণের প্রভাব বিষয়ে মাধবচন্দ্র মণ্ডল; দ্বিজলক্ষ্মণের 'শক্তিশেল পালা' প্রসঙ্গে গবেষক ও অধ্যাপক অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায় ― এর প্রবন্ধাবলী আলোচ্য প্রবন্ধ সংকলনটিকে বিশিষ্টতা প্রদান করেছে। মূল প্রেক্ষাপটের সম্বন্ধে বিষয় বৈচিত্র্যে প্রত্যেকটি লেখা পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হয়ে থাকবে। আলোচ্য বইটি সম্পর্কে বিশিষ্ট গবেষক শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রজিৎ চৌধুরীর লেখা দৈনিক পত্রিকায় 'একচিত্ত হৈয়া লোক শুন রামায়ণ' শীর্ষক গ্রন্থ পর্যালোচনাটি এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে বইটির প্রকাশক সংস্থা 'কারিগর' এর গ্রন্থ নির্মাণ শিল্পের কথা বিশেষ ভাবে বলতেই হয়। 'কারিগর' প্রকাশিত . শ্রীচৈতন্যদেবের ভক্তিধর্মের সূত্র ধরে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন থেকে বাংলায় (মাতৃ উপাসনার সঙ্গে) অন্যতম আরাধ্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এর আগে অবশ্য গীতগোবিন্দের রচয়িতা ভক্তকবি জয়দেব গোস্বামীর বৈষ্ণবধারায় ভাগবত মত বাংলায় জনপ্রিয় হতে শুরু করে। শ্রীচৈতন্যের হাত ধরে শাক্ত ভাবাপন্ন বাঙালির কাছে বৈষ্ণব মত জনপ্রিয়তায় এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করে।‌ গৌড়ীয় ভক্ত দৃষ্টিতে শ্রীচৈতন্য রাধাকৃষ্ণের মিলিত অবতার রূপ। চৈতন্যদেব যদি বাংলার বৈষ্ণব ধারায় বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণকে মুখ্য আরাধ্য না করে রামচন্দ্রকে প্রতীক করে প্রচারিত করতেন তবে আজ বাংলার বৈষ্ণবভাবধারা কৃষ্ণের পরিবর্তে রামচন্দ্র কেন্দ্রিক হতো। অবশ্য তাঁর প্রচারিত মহামন্ত্রের মধ্যে রাম ও কৃষ্ণ দুই-ই রয়েছেন। তবে রামচন্দ্র কিছুটা পরোক্ষভাবে। বিষ্ণু অবতার রামচন্দ্র, রামায়ণ মহাকাব্যের নায়ক রামচন্দ্র, সমগ্র উত্তর ভারতে মর্যাদাপুরুষোত্তম হিসেবে বন্দিত রামচন্দ্র ―‌ বাংলার বৈষ্ণব ভাবধারায় কিছুটা গৌণ হয়ে রয়ে গেছেন আরও নানা কারণে। তবে রামচন্দ্রের উপাসনা বাংলায় বহিরাগত সংস্কৃতির প্রভাবে হয়েছে ― একথা তথ্য ও যুক্তির আলোকে একেবারেই ভ্রান্ত। বাংলার দারু বিগ্রহে, রঘুবীর শিলার পূজায়, মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝার বাংলা রামায়ণ পাঁচালীর অবদানে দশরথপুত্র-সীতাপতি-লঙ্কাবিজয়ী অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্র বাঙালির বৈষ্ণব সংস্কৃতিতে নানাভাবে মিশে গেছেন এবং আছেন। রানী রাসমণি দেবী ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পারিবারিক আরাধ্য হলেন রঘুবীর শিলা। অর্থাৎ শিলায় রামচন্দ্রের পূজা বাংলায় আগে থেকেই প্রচলিত ছিল।‌ তা নতুন কিছু নয়। নদীয়ার শান্তিপুর এবং হুগলির গুপ্তিপাড়া ও শ্রীরামপুরে দারু‌ ও ধাতব মূর্তিতে রামচন্দ্রের উপাসনা সেখানকার ঐতিহ্যের সঙ্গে চলে আসছে। হাওড়ার রাজারামতলার রামপূজা আজ এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করেছে। উত্তরবঙ্গের 'রামসরা'র কথাও এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হয়। বাংলার স্থাননামে, টেরাকোটা মন্দির ফলকে, ছৌ-নাচে, পটচিত্রে রামচন্দ্র ও রামায়ণ সংস্কৃতি বাঙালির লোক ঐতিহ্যে লালিত হয়েছে। আজো বেশ কিছু বাঙালি বাড়িতে গোপাল মূর্তি সদৃশ রামলালা মূর্তি গৃহদেবতা হিসেবে পূজিত হন। বাংলার রামের গাত্রবর্ণ সবুজ রঙের। বাংলার রামমূর্তির অবয়বেই এর একান্ত নিজস্বতা ফুটে উঠেছে। তাই বাঙালির ধর্ম ‌সংস্কৃতিতে রামচন্দ্র বহিরাগত নন একেবারেই। বাঙালি তাদের রামকে নিজের মতো করে মানস প্রতিমায় গড়ে নিয়েছে। মহাভারতের চেয়ে আজো বাংলায় রামায়ণ গানের/পাঠের কদর অনেক বেশি। কালীভক্ত-কৃষ্ণভক্ত বাঙালি তাদের সমাজ ও সংসার জীবনে মর্যাদার প্রতিরূপ হিসেবে রামচন্দ্রকেই কল্পনা করে এসেছে/আসছে। 'সীতা' তাদের কাছে বাঙালি নারীর আদর্শ। যেমন ভাইয়ের আদর্শে ভরত ও লক্ষ্মণ, ভক্তি-সেবা-বীরত্বে হনুমান ও ঘরশত্রু রূপে সমালোচিত বিভীষণ রামচন্দ্রের অনুষঙ্গে আত্মীকৃত হয়েছেন। রামচন্দ্র স্বয়ং এখানে মর্যাদা ও আত্মত্যাগের প্রতিমূর্তি। বাঙালির ধর্ম চেতনায় এঁদের এই অবস্থান‌ যুগ যুগ ধরে মননে বিকশিত হয়ে চলেছে। বিশিষ্ট গবেষক ও ক্ষেত্রসমীক্ষক শ্রদ্ধেয় স্বপনকুমার ঠাকুরের সম্পাদনায় 'বঙ্গে রামপূজা ও রামায়ণ সংস্কৃতি' বইটি বাংলা ও বাঙালির রামচন্দ্র চর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী প্রকাশনা। এই বইটি পড়ার পর পাঠকের মনের অনেক বিভ্রান্তি ক্ষেত্রসমীক্ষায় পাওয়া ইতিহাসের যুক্তি নির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে সমাধান সূত্র লাভ করবে। ভূমিকায় সম্পাদক মহোদয় সম্পাদিত বইটি প্রকাশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। শ্রদ্ধেয় স্বপন ঠাকুরের লেখা প্রধান প্রবন্ধটি বাংলায় রামচন্দ্র সম্পর্কিত অনেক ভুল ধারণা দূর করবে। বিষ্ণুপুরের প্রাচীন রামমূর্তির আলোচনায় নরেশচন্দ্র মোদক; দশাবতার প্রস্তরফলকে রামের উপস্থিতির বিশ্লেষণে শুভ মজুমদার; বঙ্গে, বহির্বঙ্গে ও বহির্ভারতের রামকথার আলোচনায় বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ডাঃ তিলক পুরকায়স্থ; পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলংকরণে রামায়ণ প্রসঙ্গে শ্রদ্ধেয় আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়; বাঁকুড়ার রাম-সংস্কৃতি ও গোবিন্দপুরের রঘুনাথ-অস্থল এর আলোচনায় নবীন গবেষক শুভম মুখোপাধ্যায়; বৈষ্ণবীয় ধারায় শ্রীরামচন্দ্র ও‌ রামায়ণ সংস্কৃতি সমীক্ষা নিম্নদক্ষিণবঙ্গ প্রসঙ্গে গবেষক দেবপ্রসাদ পিয়াদা; হাওড়ার রাজারামতলার প্রসঙ্গে সুকান্ত মুখোপাধ্যায়; বাংলায় রঘুবীর ও তপোবনের সন্ধানে লেখিকা অঙ্গিরা দত্ত দন্ডপাট; গুপ্তিপাড়ার রামচন্দ্র বিষয়ে সুমন্ত বড়াল; শান্তিপুরের রঘুনাথের রথযাত্রা প্রসঙ্গে তিরুপতি চক্রবর্তী; খড়দহের রামসীতা বিগ্ৰহ প্রসঙ্গে ঋত্বিক হাজরা; রামচন্দ্রের দরবারে শীর্ষক লেখায় গবেষক ও লেখিকা সোমা মুখোপাধ্যায়; শালগ্ৰামরূপী রামচন্দ্র প্রসঙ্গে বিনায়ক; পূর্ববাংলায় রামচন্দ্র আলোচনায় সৌরভ ভট্টাচার্য; রামায়ণ গান ও রামযাত্রা প্রসঙ্গে তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; ঝুমুরে রামায়ণের প্রভাব বিষয়ে মাধবচন্দ্র মণ্ডল; দ্বিজলক্ষ্মণের 'শক্তিশেল পালা' প্রসঙ্গে গবেষক ও অধ্যাপক অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায় ― এর প্রবন্ধাবলী আলোচ্য প্রবন্ধ সংকলনটিকে বিশিষ্টতা প্রদান করেছে। মূল প্রেক্ষাপটের সম্বন্ধে বিষয় বৈচিত্র্যে প্রত্যেকটি লেখা পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হয়ে থাকবে। আলোচ্য বইটি সম্পর্কে বিশিষ্ট গবেষক শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রজিৎ চৌধুরীর লেখা দৈনিক পত্রিকায় 'একচিত্ত হৈয়া লোক শুন রামায়ণ' শীর্ষক গ্রন্থ পর্যালোচনাটি এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে বইটির প্রকাশক সংস্থা 'কারিগর' এর গ্রন্থ নির্মাণ শিল্পের কথা বিশেষ ভাবে বলতেই হয়। 'কারিগর' প্রকাশিত বইয়ের গুণমান প্রচ্ছদে অলংকরণে অত্যন্ত উঁচুদরের কাজ হয়ে থাকে। বইটির মলাট খুললে গ্রন্থের অঙ্গসজ্জার শৈল্পিক বিশেষত্বের গুণে পাঠকের মন এক পরিতৃপ্তির ভালোলাগায় ভরে যাবে।‌ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বাংলা ও বাঙালির নিজস্ব রামচন্দ্রকে জানতে, বুঝতে, ভাবতে ― 'বঙ্গে রামপূজা ও রামায়ণ সংস্কৃতি' বইটি অত্যন্ত উপযোগী এবং সহায়ক হবে একথা এই পাঠক নির্দ্বিধায় বলতে পারে‌। বঙ্গে রামপূজা ও রামায়ণ সংস্কৃতি সম্পাদনা/স্বপনকুমার ঠাকুর প্রকাশক/কারিগর মূল্য/৬০০ §~§~§~§~§~§~§~§~§ মন জপ নাম শ্রীরঘুপতি রাম নব দূর্বাদলশ্যাম নয়নাভিরাম। সুরাসুর-কিন্নর-যোগী-মুনি-ঋষি-নর চরাচর যে নাম জপে অবিরাম॥ ― কাজী নজরুল ইসলাম

7 hrs ago
user_Pingla Barta
Pingla Barta
Mill Owner পিংলা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
7 hrs ago
4e60523d-4034-43a3-8008-f27ba1ab4436

শ্রীচৈতন্যদেবের ভক্তিধর্মের সূত্র ধরে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন থেকে বাংলায় (মাতৃ উপাসনার সঙ্গে) অন্যতম আরাধ্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এর আগে অবশ্য গীতগোবিন্দের রচয়িতা ভক্তকবি জয়দেব গোস্বামীর বৈষ্ণবধারায় ভাগবত মত বাংলায় জনপ্রিয় হতে শুরু করে। শ্রীচৈতন্যের হাত ধরে শাক্ত ভাবাপন্ন বাঙালির কাছে বৈষ্ণব মত জনপ্রিয়তায় এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করে।‌ গৌড়ীয় ভক্ত দৃষ্টিতে শ্রীচৈতন্য রাধাকৃষ্ণের মিলিত অবতার রূপ। চৈতন্যদেব যদি বাংলার বৈষ্ণব ধারায় বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণকে মুখ্য আরাধ্য না করে রামচন্দ্রকে প্রতীক করে প্রচারিত করতেন তবে আজ বাংলার বৈষ্ণবভাবধারা কৃষ্ণের পরিবর্তে রামচন্দ্র কেন্দ্রিক হতো। অবশ্য তাঁর প্রচারিত মহামন্ত্রের মধ্যে রাম ও কৃষ্ণ দুই-ই রয়েছেন। তবে রামচন্দ্র কিছুটা পরোক্ষভাবে। বিষ্ণু অবতার রামচন্দ্র, রামায়ণ মহাকাব্যের নায়ক রামচন্দ্র, সমগ্র উত্তর ভারতে মর্যাদাপুরুষোত্তম হিসেবে বন্দিত রামচন্দ্র ―‌ বাংলার বৈষ্ণব ভাবধারায় কিছুটা গৌণ হয়ে রয়ে গেছেন আরও নানা কারণে। তবে রামচন্দ্রের উপাসনা বাংলায় বহিরাগত সংস্কৃতির প্রভাবে হয়েছে ― একথা তথ্য ও যুক্তির আলোকে একেবারেই ভ্রান্ত। বাংলার দারু বিগ্রহে, রঘুবীর শিলার পূজায়, মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝার বাংলা রামায়ণ পাঁচালীর অবদানে দশরথপুত্র-সীতাপতি-লঙ্কাবিজয়ী অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্র বাঙালির বৈষ্ণব সংস্কৃতিতে নানাভাবে মিশে গেছেন এবং আছেন। রানী রাসমণি দেবী ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পারিবারিক আরাধ্য হলেন রঘুবীর শিলা। অর্থাৎ শিলায় রামচন্দ্রের পূজা বাংলায় আগে থেকেই প্রচলিত ছিল।‌ তা নতুন কিছু নয়। নদীয়ার শান্তিপুর এবং হুগলির গুপ্তিপাড়া ও শ্রীরামপুরে দারু‌ ও ধাতব মূর্তিতে রামচন্দ্রের উপাসনা সেখানকার ঐতিহ্যের সঙ্গে চলে আসছে। হাওড়ার রাজারামতলার রামপূজা আজ এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করেছে। উত্তরবঙ্গের 'রামসরা'র কথাও এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হয়। বাংলার স্থাননামে, টেরাকোটা মন্দির ফলকে, ছৌ-নাচে, পটচিত্রে রামচন্দ্র ও রামায়ণ সংস্কৃতি বাঙালির লোক ঐতিহ্যে লালিত হয়েছে। আজো বেশ কিছু বাঙালি বাড়িতে গোপাল মূর্তি সদৃশ রামলালা মূর্তি গৃহদেবতা হিসেবে পূজিত হন। বাংলার রামের গাত্রবর্ণ সবুজ রঙের। বাংলার রামমূর্তির অবয়বেই এর একান্ত নিজস্বতা ফুটে উঠেছে। তাই বাঙালির ধর্ম ‌সংস্কৃতিতে রামচন্দ্র বহিরাগত নন একেবারেই। বাঙালি তাদের রামকে নিজের মতো করে মানস প্রতিমায় গড়ে নিয়েছে। মহাভারতের চেয়ে আজো বাংলায় রামায়ণ গানের/পাঠের কদর অনেক বেশি। কালীভক্ত-কৃষ্ণভক্ত বাঙালি তাদের সমাজ ও সংসার জীবনে মর্যাদার প্রতিরূপ হিসেবে রামচন্দ্রকেই কল্পনা করে এসেছে/আসছে। 'সীতা' তাদের কাছে বাঙালি নারীর আদর্শ। যেমন ভাইয়ের আদর্শে ভরত ও লক্ষ্মণ, ভক্তি-সেবা-বীরত্বে হনুমান ও ঘরশত্রু রূপে সমালোচিত বিভীষণ রামচন্দ্রের অনুষঙ্গে আত্মীকৃত হয়েছেন। রামচন্দ্র স্বয়ং এখানে মর্যাদা ও আত্মত্যাগের প্রতিমূর্তি। বাঙালির ধর্ম চেতনায় এঁদের এই অবস্থান‌ যুগ যুগ ধরে মননে বিকশিত হয়ে চলেছে। বিশিষ্ট গবেষক ও ক্ষেত্রসমীক্ষক শ্রদ্ধেয় স্বপনকুমার ঠাকুরের সম্পাদনায় 'বঙ্গে রামপূজা ও রামায়ণ সংস্কৃতি' বইটি বাংলা ও বাঙালির রামচন্দ্র চর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী প্রকাশনা। এই বইটি পড়ার পর পাঠকের মনের অনেক বিভ্রান্তি ক্ষেত্রসমীক্ষায় পাওয়া ইতিহাসের যুক্তি নির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে সমাধান সূত্র লাভ করবে। ভূমিকায় সম্পাদক মহোদয় সম্পাদিত বইটি প্রকাশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। শ্রদ্ধেয় স্বপন ঠাকুরের লেখা প্রধান প্রবন্ধটি বাংলায় রামচন্দ্র সম্পর্কিত অনেক ভুল ধারণা দূর করবে। বিষ্ণুপুরের প্রাচীন রামমূর্তির আলোচনায় নরেশচন্দ্র মোদক; দশাবতার প্রস্তরফলকে রামের উপস্থিতির বিশ্লেষণে শুভ মজুমদার; বঙ্গে, বহির্বঙ্গে ও বহির্ভারতের রামকথার আলোচনায় বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ডাঃ তিলক পুরকায়স্থ; পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলংকরণে রামায়ণ প্রসঙ্গে শ্রদ্ধেয় আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়; বাঁকুড়ার রাম-সংস্কৃতি ও গোবিন্দপুরের রঘুনাথ-অস্থল এর আলোচনায় নবীন গবেষক শুভম মুখোপাধ্যায়; বৈষ্ণবীয় ধারায় শ্রীরামচন্দ্র ও‌ রামায়ণ সংস্কৃতি সমীক্ষা নিম্নদক্ষিণবঙ্গ প্রসঙ্গে গবেষক দেবপ্রসাদ পিয়াদা; হাওড়ার রাজারামতলার প্রসঙ্গে সুকান্ত মুখোপাধ্যায়; বাংলায় রঘুবীর ও তপোবনের সন্ধানে লেখিকা অঙ্গিরা দত্ত দন্ডপাট; গুপ্তিপাড়ার রামচন্দ্র বিষয়ে সুমন্ত বড়াল; শান্তিপুরের রঘুনাথের রথযাত্রা প্রসঙ্গে তিরুপতি চক্রবর্তী; খড়দহের রামসীতা বিগ্ৰহ প্রসঙ্গে ঋত্বিক হাজরা; রামচন্দ্রের দরবারে শীর্ষক লেখায় গবেষক ও লেখিকা সোমা মুখোপাধ্যায়; শালগ্ৰামরূপী রামচন্দ্র প্রসঙ্গে বিনায়ক; পূর্ববাংলায় রামচন্দ্র আলোচনায় সৌরভ ভট্টাচার্য; রামায়ণ গান ও রামযাত্রা প্রসঙ্গে তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; ঝুমুরে রামায়ণের প্রভাব বিষয়ে মাধবচন্দ্র মণ্ডল; দ্বিজলক্ষ্মণের 'শক্তিশেল পালা' প্রসঙ্গে গবেষক ও অধ্যাপক অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায় ― এর প্রবন্ধাবলী আলোচ্য প্রবন্ধ সংকলনটিকে বিশিষ্টতা প্রদান করেছে। মূল প্রেক্ষাপটের সম্বন্ধে বিষয় বৈচিত্র্যে প্রত্যেকটি লেখা পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হয়ে থাকবে। আলোচ্য বইটি সম্পর্কে বিশিষ্ট গবেষক শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রজিৎ চৌধুরীর লেখা দৈনিক পত্রিকায় 'একচিত্ত হৈয়া লোক শুন রামায়ণ' শীর্ষক গ্রন্থ পর্যালোচনাটি এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে বইটির প্রকাশক সংস্থা 'কারিগর' এর গ্রন্থ নির্মাণ শিল্পের কথা বিশেষ ভাবে বলতেই হয়। 'কারিগর' প্রকাশিত . শ্রীচৈতন্যদেবের ভক্তিধর্মের সূত্র ধরে শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন থেকে বাংলায় (মাতৃ উপাসনার সঙ্গে) অন্যতম আরাধ্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এর আগে অবশ্য গীতগোবিন্দের রচয়িতা ভক্তকবি জয়দেব গোস্বামীর বৈষ্ণবধারায় ভাগবত মত বাংলায় জনপ্রিয় হতে শুরু করে। শ্রীচৈতন্যের হাত ধরে শাক্ত ভাবাপন্ন বাঙালির কাছে বৈষ্ণব মত জনপ্রিয়তায় এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করে।‌ গৌড়ীয় ভক্ত দৃষ্টিতে শ্রীচৈতন্য রাধাকৃষ্ণের মিলিত অবতার রূপ। চৈতন্যদেব যদি বাংলার বৈষ্ণব ধারায় বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণকে মুখ্য আরাধ্য না করে রামচন্দ্রকে প্রতীক করে প্রচারিত করতেন তবে আজ বাংলার বৈষ্ণবভাবধারা কৃষ্ণের পরিবর্তে রামচন্দ্র কেন্দ্রিক হতো। অবশ্য তাঁর প্রচারিত মহামন্ত্রের মধ্যে রাম ও কৃষ্ণ দুই-ই রয়েছেন। তবে রামচন্দ্র কিছুটা পরোক্ষভাবে। বিষ্ণু অবতার রামচন্দ্র, রামায়ণ মহাকাব্যের নায়ক রামচন্দ্র, সমগ্র উত্তর ভারতে মর্যাদাপুরুষোত্তম হিসেবে বন্দিত রামচন্দ্র ―‌ বাংলার বৈষ্ণব ভাবধারায় কিছুটা গৌণ হয়ে রয়ে গেছেন আরও নানা কারণে। তবে রামচন্দ্রের উপাসনা বাংলায় বহিরাগত সংস্কৃতির প্রভাবে হয়েছে ― একথা তথ্য ও যুক্তির আলোকে একেবারেই ভ্রান্ত। বাংলার দারু বিগ্রহে, রঘুবীর শিলার পূজায়, মহাকবি কৃত্তিবাস ওঝার বাংলা রামায়ণ পাঁচালীর অবদানে দশরথপুত্র-সীতাপতি-লঙ্কাবিজয়ী অযোধ্যার রাজা রামচন্দ্র বাঙালির বৈষ্ণব সংস্কৃতিতে নানাভাবে মিশে গেছেন এবং আছেন। রানী রাসমণি দেবী ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পারিবারিক আরাধ্য হলেন রঘুবীর শিলা। অর্থাৎ শিলায় রামচন্দ্রের পূজা বাংলায় আগে থেকেই প্রচলিত ছিল।‌ তা নতুন কিছু নয়। নদীয়ার শান্তিপুর এবং হুগলির গুপ্তিপাড়া ও শ্রীরামপুরে দারু‌ ও ধাতব মূর্তিতে রামচন্দ্রের উপাসনা সেখানকার ঐতিহ্যের সঙ্গে চলে আসছে। হাওড়ার রাজারামতলার রামপূজা আজ এক বিশিষ্ট স্থান লাভ করেছে। উত্তরবঙ্গের 'রামসরা'র কথাও এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হয়। বাংলার স্থাননামে, টেরাকোটা মন্দির ফলকে, ছৌ-নাচে, পটচিত্রে রামচন্দ্র ও রামায়ণ সংস্কৃতি বাঙালির লোক ঐতিহ্যে লালিত হয়েছে। আজো বেশ কিছু বাঙালি বাড়িতে গোপাল মূর্তি সদৃশ রামলালা মূর্তি গৃহদেবতা হিসেবে পূজিত হন। বাংলার রামের গাত্রবর্ণ সবুজ রঙের। বাংলার রামমূর্তির অবয়বেই এর একান্ত নিজস্বতা ফুটে উঠেছে। তাই বাঙালির ধর্ম ‌সংস্কৃতিতে রামচন্দ্র বহিরাগত নন একেবারেই। বাঙালি তাদের রামকে নিজের মতো করে মানস প্রতিমায় গড়ে নিয়েছে। মহাভারতের চেয়ে আজো বাংলায় রামায়ণ গানের/পাঠের কদর অনেক বেশি। কালীভক্ত-কৃষ্ণভক্ত বাঙালি তাদের সমাজ ও সংসার জীবনে মর্যাদার প্রতিরূপ হিসেবে রামচন্দ্রকেই কল্পনা করে এসেছে/আসছে। 'সীতা' তাদের কাছে বাঙালি নারীর আদর্শ। যেমন ভাইয়ের আদর্শে ভরত ও লক্ষ্মণ, ভক্তি-সেবা-বীরত্বে হনুমান ও ঘরশত্রু রূপে সমালোচিত বিভীষণ রামচন্দ্রের অনুষঙ্গে আত্মীকৃত হয়েছেন। রামচন্দ্র স্বয়ং এখানে মর্যাদা ও আত্মত্যাগের প্রতিমূর্তি। বাঙালির ধর্ম চেতনায় এঁদের এই অবস্থান‌ যুগ যুগ ধরে মননে বিকশিত হয়ে চলেছে। বিশিষ্ট গবেষক ও ক্ষেত্রসমীক্ষক শ্রদ্ধেয় স্বপনকুমার ঠাকুরের সম্পাদনায় 'বঙ্গে রামপূজা ও রামায়ণ সংস্কৃতি' বইটি বাংলা ও বাঙালির রামচন্দ্র চর্চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী প্রকাশনা। এই বইটি পড়ার পর পাঠকের মনের অনেক বিভ্রান্তি ক্ষেত্রসমীক্ষায় পাওয়া ইতিহাসের যুক্তি নির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে সমাধান সূত্র লাভ করবে। ভূমিকায় সম্পাদক মহোদয় সম্পাদিত বইটি প্রকাশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। শ্রদ্ধেয় স্বপন ঠাকুরের লেখা প্রধান প্রবন্ধটি বাংলায় রামচন্দ্র সম্পর্কিত অনেক ভুল ধারণা দূর করবে। বিষ্ণুপুরের প্রাচীন রামমূর্তির আলোচনায় নরেশচন্দ্র মোদক; দশাবতার প্রস্তরফলকে রামের উপস্থিতির বিশ্লেষণে শুভ মজুমদার; বঙ্গে, বহির্বঙ্গে ও বহির্ভারতের রামকথার আলোচনায় বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ডাঃ তিলক পুরকায়স্থ; পশ্চিমবঙ্গের মন্দির অলংকরণে রামায়ণ প্রসঙ্গে শ্রদ্ধেয় আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়; বাঁকুড়ার রাম-সংস্কৃতি ও গোবিন্দপুরের রঘুনাথ-অস্থল এর আলোচনায় নবীন গবেষক শুভম মুখোপাধ্যায়; বৈষ্ণবীয় ধারায় শ্রীরামচন্দ্র ও‌ রামায়ণ সংস্কৃতি সমীক্ষা নিম্নদক্ষিণবঙ্গ প্রসঙ্গে গবেষক দেবপ্রসাদ পিয়াদা; হাওড়ার রাজারামতলার প্রসঙ্গে সুকান্ত মুখোপাধ্যায়; বাংলায় রঘুবীর ও তপোবনের সন্ধানে লেখিকা অঙ্গিরা দত্ত দন্ডপাট; গুপ্তিপাড়ার রামচন্দ্র বিষয়ে সুমন্ত বড়াল; শান্তিপুরের রঘুনাথের রথযাত্রা প্রসঙ্গে তিরুপতি চক্রবর্তী; খড়দহের রামসীতা বিগ্ৰহ প্রসঙ্গে ঋত্বিক হাজরা; রামচন্দ্রের দরবারে শীর্ষক লেখায় গবেষক ও লেখিকা সোমা মুখোপাধ্যায়; শালগ্ৰামরূপী রামচন্দ্র প্রসঙ্গে বিনায়ক; পূর্ববাংলায় রামচন্দ্র আলোচনায় সৌরভ ভট্টাচার্য; রামায়ণ গান ও রামযাত্রা প্রসঙ্গে তাপসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; ঝুমুরে রামায়ণের প্রভাব বিষয়ে মাধবচন্দ্র মণ্ডল; দ্বিজলক্ষ্মণের 'শক্তিশেল পালা' প্রসঙ্গে গবেষক ও অধ্যাপক অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায় ― এর প্রবন্ধাবলী আলোচ্য প্রবন্ধ সংকলনটিকে বিশিষ্টতা প্রদান করেছে। মূল প্রেক্ষাপটের সম্বন্ধে বিষয় বৈচিত্র্যে প্রত্যেকটি লেখা পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হয়ে থাকবে। আলোচ্য বইটি সম্পর্কে বিশিষ্ট গবেষক শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রজিৎ চৌধুরীর লেখা দৈনিক পত্রিকায় 'একচিত্ত হৈয়া লোক শুন রামায়ণ' শীর্ষক গ্রন্থ পর্যালোচনাটি এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে বইটির প্রকাশক সংস্থা 'কারিগর' এর গ্রন্থ নির্মাণ শিল্পের কথা বিশেষ ভাবে বলতেই হয়। 'কারিগর' প্রকাশিত বইয়ের গুণমান প্রচ্ছদে অলংকরণে অত্যন্ত উঁচুদরের কাজ হয়ে থাকে। বইটির মলাট খুললে গ্রন্থের অঙ্গসজ্জার শৈল্পিক বিশেষত্বের গুণে পাঠকের মন এক পরিতৃপ্তির ভালোলাগায় ভরে যাবে।‌ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বাংলা ও বাঙালির নিজস্ব রামচন্দ্রকে জানতে, বুঝতে, ভাবতে ― 'বঙ্গে রামপূজা ও রামায়ণ সংস্কৃতি' বইটি অত্যন্ত উপযোগী এবং সহায়ক হবে একথা এই পাঠক নির্দ্বিধায় বলতে পারে‌। বঙ্গে রামপূজা ও রামায়ণ সংস্কৃতি সম্পাদনা/স্বপনকুমার ঠাকুর প্রকাশক/কারিগর মূল্য/৬০০ §~§~§~§~§~§~§~§~§ মন জপ নাম শ্রীরঘুপতি রাম নব দূর্বাদলশ্যাম নয়নাভিরাম। সুরাসুর-কিন্নর-যোগী-মুনি-ঋষি-নর চরাচর যে নাম জপে অবিরাম॥ ― কাজী নজরুল ইসলাম

More news from পশ্চিমবঙ্গ and nearby areas
  • মঙ্গলবারে ফের ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগের দমকা ঝড়ো হাওয়া। বুধবার পহেলা এপ্রিল ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা ফের কমবে।
    1
    মঙ্গলবারে ফের ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগের দমকা ঝড়ো হাওয়া। বুধবার পহেলা এপ্রিল ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা ফের কমবে।
    user_Tarak Hari
    Tarak Hari
    Journalist - News Media House ডেবরা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    8 hrs ago
  • মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সুজয় হাজরা, খড়্গপুর (গ্রামীণ) কেন্দ্রে দীনেন রায়, শালবনী কেন্দ্রে শ্রীকান্ত মাহাত এবং গড়বেতা কেন্দ্রে উত্তরা সিংহ (হাজরা)-কে সমর্থনের ডাক দেওয়া হয়েছে। #MamataBanerjee #WestMedinipur #ElectionCampaign #BanglarVote #TMC #JoraPhool #BengalPolitics #VoteForChange #ElectionUpdate #PoliticalNews #Midnapore #Kharagpur #Salboni #Garbeta #BreakingNews #IndiaPolitics #TrendingNow #BengalNews #vote2026
    1
    মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সুজয় হাজরা, খড়্গপুর (গ্রামীণ) কেন্দ্রে দীনেন রায়, শালবনী কেন্দ্রে শ্রীকান্ত মাহাত এবং গড়বেতা কেন্দ্রে উত্তরা সিংহ (হাজরা)-কে সমর্থনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
#MamataBanerjee #WestMedinipur #ElectionCampaign #BanglarVote #TMC #JoraPhool #BengalPolitics #VoteForChange #ElectionUpdate #PoliticalNews
#Midnapore #Kharagpur #Salboni #Garbeta #BreakingNews #IndiaPolitics #TrendingNow #BengalNews #vote2026
    user_Kharagpur Jagoran
    Kharagpur Jagoran
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    1 hr ago
  • #trainrestoration : रद्द ट्रेनों की वापसी: अप्रैल में फिर दौड़ेंगी शालीमार-मुंबई एक्सप्रेस। #southeasternrailway #kharagpurraildivision #shalimarlttkurlaexpress #restoration #kharagpurnews9
    1
    #trainrestoration : रद्द ट्रेनों की वापसी: अप्रैल में फिर दौड़ेंगी शालीमार-मुंबई एक्सप्रेस। #southeasternrailway #kharagpurraildivision #shalimarlttkurlaexpress  #restoration #kharagpurnews9
    user_KHARAGPUR NEWS 9
    KHARAGPUR NEWS 9
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    9 hrs ago
  • তালদা ১ নম্বর অঞ্চলের নন্দকুড়িয়াতে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন উপস্থিত ছিলেন দাঁতন ৪ নং মন্ডলের সভাপতি লক্ষীকান্ত দাস সহ অন্যান্যরা।
    1
    তালদা ১ নম্বর অঞ্চলের নন্দকুড়িয়াতে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন উপস্থিত ছিলেন দাঁতন ৪ নং মন্ডলের সভাপতি লক্ষীকান্ত দাস সহ অন্যান্যরা।
    user_Nakul Patra
    Nakul Patra
    সাংবাদিক দাঁতন 2, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    1 hr ago
  • Post by Ankit Banerjee
    1
    Post by Ankit Banerjee
    user_Ankit Banerjee
    Ankit Banerjee
    কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    4 hrs ago
  • চন্দ্রকোনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা,হাতাহাতি
    1
    চন্দ্রকোনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা,হাতাহাতি
    user_Soumen Misra
    Soumen Misra
    সাংবাদিক Daspur - I, Medinipur West•
    21 hrs ago
  • রাহুলের মৃত্যু নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া
    1
    রাহুলের মৃত্যু নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া
    user_Prithis Banerjee
    Prithis Banerjee
    Photography studio কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    21 hrs ago
  • সাধারণ মানুষ দিলীপ ঘোষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তবে তাঁদের একটাই আবেদন—প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবে রূপ পায়। দেওয়াল লিখনে লেখা রয়েছে, “দূষণ বন্ধ করতে চান, ভোট দিয়ে বিজেপিকে জেতান।” মানুষ বলছেন, শুধু কথা দিয়ে হবে না, বাস্তবে কাজ করে দেখাতে হবে। বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি তাদের আশা—পরিবেশ মুক্ত খড়গপুর গড়ে তুলতে হবে, নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবায়িত হয়। #Kharagpur #BJP #DilipGhosh #WallWriting #SadharanManush #PollutionFreeKharagpur #Election2026
    1
    সাধারণ মানুষ দিলীপ ঘোষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তবে তাঁদের একটাই আবেদন—প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবে রূপ পায়।
দেওয়াল লিখনে লেখা রয়েছে, “দূষণ বন্ধ করতে চান, ভোট দিয়ে বিজেপিকে জেতান।” মানুষ বলছেন, শুধু কথা দিয়ে হবে না, বাস্তবে কাজ করে দেখাতে হবে।
বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি তাদের আশা—পরিবেশ মুক্ত খড়গপুর গড়ে তুলতে হবে, নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবায়িত হয়।
#Kharagpur #BJP #DilipGhosh #WallWriting #SadharanManush #PollutionFreeKharagpur #Election2026
    user_Kharagpur Jagoran
    Kharagpur Jagoran
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    19 hrs ago
View latest news on Shuru App
Download_Android
  • Terms & Conditions
  • Career
  • Privacy Policy
  • Blogs
Shuru, a product of Close App Private Limited.