logo
Shuru
Apke Nagar Ki App…
  • Latest News
  • News
  • Politics
  • Elections
  • Viral
  • Astrology
  • Horoscope in Hindi
  • Horoscope in English
  • Latest Political News
logo
Shuru
Apke Nagar Ki App…

॥হরপ্পার সভ্যতার ছাপাখানা॥©তুষারমুখার্জী2.11.2021 হরপ্পা সভ্যতার পাথরের পুঁতি বানানো, সিল বানানো বিষয়ে আমরা সবাই জানি। এই নিয়ে নানা গবেষণা পত্র অনেকেই পড়েছেন। পড়েছেন নানা সুচিন্তিত সুলিখিত প্রবন্ধ, আলোচনা, বহু বিশেষজ্ঞের লেখা থেকে। আর ফেসবুকে তো নিত্যই থাকে নানা আলোচনা এই সব নিয়ে। আজকে একটু কম আলোচিত বিষয় “ছাপ বা ছাপা “ নিয়ে দুই-চার কথা। বিখ্যাত পুরোহিত-রাজা মুর্তির গায়ের চাদরের নক্সা দেখে সবাই বলেছেন এই নক্সার অর্থ হল গায়ের কাপড়ে ছাপা থাকতো ঐ রকমের নক্সা। সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। হরপ্পা সভ্যতার শিল্পীদের যে শৈল্পিক কুশলতার পরিচয় আমরা পেয়েছি এই পর্যন্ত তাতে কাঠের ব্লকে নক্সা করে তা কাপড়ে ছাপ দেওয়া একদম সম্ভব। কাজেই ধরে নিতে পারি ব্লকে নক্সা করে তা কাপড়ে ছাপ দেওয়ার প্রচলন ছিল। হরপ্পা সভ্যতায় বোনা কাপড়ের ব্যবহার নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সে কাপড় অবশ্যই সূতি কাপড়। কিন্তু পরবর্তীকালে সিল্কের আঁশের অস্তিত্ব খুঁজে পাবার পরে এটাও ভাবা যেতেই পারে সিল্কের কাপড়ও ব্যবহার হত। হয়ত খুবই কম আর হয়ত তা বিলাসিতার উপকরণ ছিল। সিল্কের কাপড়ে কাঠের ব্লকে নক্সার ছাপ দেওয়াও সম্ভব হতেই পারে। এগুলো অবশ্যই কল্পনা। কোন প্রমাণ নেই। তবে যু্ক্তিসঙ্গত কল্পনা। হরপ্পা সভ্যতার সিলগুলো তৈরী হয়েছে সাধারনত সিয়াটাইট দিয়ে। যাকে আমরা পরিচিত সোপস্টোনের কাছাকাছি ভাবতে পারি। সিলে থাকে নানা প্রাণী মানুষ ইত্যাদি ছাড়াও কিছু অক্ষর। যে অক্ষরের পাঠোদ্ধার এখনো দুর অস্ত। পাঠোদ্ধার না হবার কারন মুলত কোন দ্বিভাষিক নমুনা না পাওয়া, আর তা ছাড়া তেমন কোন লম্বা লেখাও পাওয়া যায় নি। সিলের দুটো চারটে অক্ষর দিয়ে কোন বাক্য তো তৈরী হয় না, তাই ভাষাও বোঝা সম্ভব না। এক জায়গায় সব চেয়ে বেশি অক্ষর পাওয়া গেছে একটি তামার পাতে। তাতে ৩৪টি অক্ষর আছে। (সেটির ছবি দেওয়া আছে)। তামা বা যে কোন ধাতুর ব্যবহার এর বিশাল আকার আয়তন আর সমৃদ্ধির তুলনায় খুব খুব কম। কারন ধাতুর ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব না, বরং খনিজ ধাতুর অভাবই। এই ধাতুর অভাব আর সিয়াটাইট দিয়ে তৈরী সিলের ব্যবহারের পরিচিত আবহে পাকিস্তানে ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে দেখা পাওয়া গেল নয়টি তামার সিলের। ব্যক্তিগত সংগ্রহে পাওয়া মানে এগুলো আসলে চোরাই চালানকারীর থেকে কেনা বলে আমরা ধরে নিতে পারি। গোটা পৃথিবীতে সব প্রত্নক্ষেত্রেই ওঁৎপেতে আছে চোরা চালানকারীর দল। পৃথিবী জোড়া এই চোরাই প্রত্ন সামগ্রীর প্রাচুর্য দেখে মনে হতেই পারে প্রত্ন সামগ্রী সংগ্রহে প্রত্ন বিজ্ঞানীদের চেয়ে এরাই বেশি দক্ষ। পাকিস্তানের ব্যাক্তিগত সংগ্রহে থাকা এই নয়টি সিল প্রত্ন বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এবং ব্যবহার করেছেন তাঁদের গবেষণার কাজে। তেমনি একটি গবেষণাপত্র আজকের লেখার উৎস। তামার পাতে খোদাই করা এই সিলগুলো প্রতিবিম্বের মত করে খোদাই করা। অর্থাৎ কোন কিছুতে ছাপ না ফেললে সেগুলো অর্থহীণ। প্রথম প্রশ্ন আসবে এগুলো কোথায় পাওয়া গিয়েছিল? না, সেকথা জানার উপায় নেই। চোরাই চালানের মহিমায় সেটা অজানাই থাকবে।পাকিস্তানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের স্তরেও দুইবার হাতবদল হয় এগুলোর। দ্বিতীয়বারের সংগ্রাহক এগুলো তুলে দেন (২০১১) ইউনিভার্সিট অফ মেলবোর্ণের অধ্যাপক রিক জে উইলিসের হাতে। তিনি ও ভারতের ডেকান কলেজের বসন্ত সিন্ধে যুগ্মভাবে লিখেছেন গবেষণাপত্র এই বিষয়ে। তাঁদের অনুমান হলো এগুলো তৈরী হয়েছে পরিণত হরপ্পা আমলে (২৬০০-১৯০০ সাধারণ পূর্বাব্দ)। বিজ্ঞানীরা তামার মান পরীক্ষা করে বলছেন এগুলো আর্সেনিক যুক্ত তামা। হরপ্পা সভ্যতায় আর্সেনিক যুক্ত তামা ব্যবহার হত। কাজেই এগুলো হরপ্পা সভ্যতা এলাকাতেই তৈরী বলে অনুমান করা যেতে পারে। তাছাড়া এগুলোতে খোদাই করা আছে হরপ্পা সভ্যতার সিলে পাওয়া নানা নক্সার অনুরূপ নক্সা আর অক্ষর। কাজেই এগুলো মহেঞ্জোদারো চানহুদারো বা হরপ্পা যে কোন একটি হরপ্পা সভ্যতার বসতিতে তৈরী হয়ে থাকতে পারে। পরের প্রশ্ন সব কটা সিল কি একই জায়গায় বা একই সাথে তৈরী হয়েছিল? সম্ভবত না। কারন সিলগুলোর আলাদা করে পরীক্ষায় যে ফল পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে সবকটা সিলের ধাতব উপাদানে সামান্য হলেও তফাৎ আছে। কিন্তু সেখানেও একটা খটকা থেকে যায়। বিজ্ঞানীরা সযত্নে পরীক্ষার পরে বলেছেন যে এগুলো খনিজ তামা থেকে গলানো তামা নয়। বরং এগুলো বিভিন্ন ভাবে আগে ব্যবহৃত তামার টুকরো একত্রে গালিয়ে তার থেকে বানানো। কিন্তু সেক্ষেত্রেও একবারে বানালে সব কটার রাসায়নিক চরিত্র একই হবার কথা ছিল। তাও কিন্তু নয়। গবেষণাপত্রে দেওয়া তালিকা থেকে দেখলাম প্রতিটি সিলই কিছুটা হলেও ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ক্ষীণ অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করছে। বিজ্ঞানীরা সযত্নে পরীক্ষার পর জানাচ্ছেন, এই তামার সিলগুলো কিন্তু কোন বড় পাত থেকে কেটে বের করা হয় নি। তামা ঢালাই করা হয়েছে বালি বা মাটির ছাঁচে গলন্ত তামা ঢেলে। লম্বা পাত হিসাবে। খানিক বেশি লম্বা করেই। যাতে তার থেকে বেশ কয়েকটি টুকরো বের করা যেতে পারে। তারপরে ঢালাইকরা বড় পাত থেকে প্রয়োজনীয় মাপে ছেনি দিয়ে গভীর করে দাগ কেটে দুই হাতের চাপে ভেঙ্গে টুকরো বের করা হয়েছিল। লম্বা পাত হিসাবে ঢালাই করার ফলে চওড়ার দিকের ধারে ঢালাইয়ের মসৃণতা পাওয়া গেছে। লম্বার দিকে গভীর দাগ কেটে ভাঙ্গার চিহ্ন। এই ঢালাই করা ও টুকরো বের করার পদ্ধতি আর রাসায়নিক গঠনচরিত্র তালিকা পাশা পাশি রেখে পড়ে আমার মনে হল যে নয়টির বদলে না নব্বই না নয়শ নব্বই (মানে অনেক)সিলও হয়ত তৈরী হয়েছিল। একটি করেই তৈরী হয়েছিল না অনেকগুলোই এক এক লপ্তে তৈরী হয়েছিল তা সরাসরি সঠিক জানার উপায় নেই। এগুলো পাওয়া পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বানানোর পরে এগুলো একত্রে রাখা ছিল। কয়েকটা আলাদা থাকায় নষ্টও হয়ে গেছে জায়গায় জায়গায়। তাই আরও একটা অনুমান, হয়ত আরো ছিল, সেগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে বলে চোরাই চালানকারীরা বিক্রীর যোগ্য না ভেবে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেহেতু আর পাওয়া যায় নি তাই সঠিক কিছু জানার বা বলার সরাসরি কোন উপায় নেই। পরের প্রশ্ন কেন তৈরী হয়েছিল? হরপ্পা সভ্যতায় তামার ট্যাবলেট বা মাদুলি আগেই পাওয়া গেছে। মহেঞ্জোদারো, চানহুদারো, হরপ্পা এসব জায়গায়। শুধু মহেঞ্জোদারোতেই প্রায় আড়াইশ তামার ট্যবলেট পাওয়া গেছে। চৌকো, লম্বাটে, আয়তক্ষেত্রাকার, নানা রকমের। মাপে গড়ে এক ইঞ্চি বাই সোয়া ইঞ্চি। পাত সাড়ে তিন মিমি পুরু। দুই পিঠেই লেখা-নক্সা করা। সম্ভবত সেগুলো কাপড়ে মুড়ে হাতে বা গলায় মাদুলির মত পরা হত, এমনটাই বিজ্ঞানীদের অনুমান। এমন ভাবার আরেকটা কারন একই নক্সার একাধিক ট্যাবলেট পাওয়া। যেমন শুধু একটি নক্সারই পাওয়া গিয়েছিল আঠাশটি। কিন্তু নতুন পাওয়া এই নতুন পাওয়া সিলগুলো শুধু এক পিঠে লেখা-নক্সা। অন্যপিঠ মসৃণ। আর আকারে ট্যাবলেটের চেয়ে দ্বিগুন বড়। গড়ে দুই ইঞ্চি বাই সোয়া দুই ইঞ্চি। পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় মিমি পুরু। এই আকার নিয়েই এদের ভিন্নতর ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা ভাবার সুযোগ আছে। আকারে হয়ত এমনিতে খুব বড় না। কিন্তু ঘনত্ব তুলনামুলক ভাবে বেশি। যেহেতু হরপ্পা সভ্যতায় ধাতুর ব্যবহার সীমিত তাই এতটা পুরু হলে বিশেষ ব্যবহারের কথা ভাবতেই হয়। ছাপ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে পুরু পাতই দরকার। খুব পাতলা হলে আঙুলে ধরা মুশকিল। আর যে কোন সময় সেটা বেঁকে যাবার সম্ভাবনাও থাকে। প্রথমেই মনে হতে পারে যে এই ধাতব সিল এখনকার অর্থনীতিতে প্রচলিত মুদ্রার মত করেও তো ব্যবহার হতে পারে। না, অন্তত এই কটি সেভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। কারণ এর খোদাই কাজ হয়েছে উল্টো করে, আয়নায় যেমন করে দেখা যায় সেভাবে। কাজেই এগুলো সরাসরি আর্থিক লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। এই প্রতিবিম্ব খোদাই করার উদ্দেশ্য হতে পারে,এগুলো অন্য কিছুতে ছাপ দেবার জন্যই তৈরী হয়েছিল। কেন ছাপ দেওয়া দরকার পড়ল? ছাপ মেরে সিল বানাবার জন্য? বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিসিনে ছাপ মেরে দেখেছেন সে ছাপ হয় অস্পষ্ট। কাজেই মাটি বা অন্য কিছুতে ছাপ দেবার কাজে এগুলো ব্যবহার হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তাহলে? প্রত্ন বিজ্ঞানীরা এই তামার সিল পাঠালেন প্রাচীণ পদ্ধতিতে ছাপার কাজে বিশেষজ্ঞ মেলবোর্ণের মার্কো লুসিয়োর কাছে। তিনি এগুলো থেকে ছাপার কাজে ব্যবহার কলেন তিনটি ভিন্ন জিনিষ আর দুই রকমের কালি। প্রথমে পার্চমেন্ট কাগজে আর তুলোর আঁশ থেকে তৈরী কাগজে ছাপার চেষ্টা করা হল। ব্বহার হল দুই রকমের কালি (জলে দ্রব ফেরিক অক্সাইড, এ তেলে দ্রব কার্বন ব্ল্যাক)। ছাপ নেওয়া হল। ছাপ এল। যথেষ্ট ভালো ছাপ। এরপরে হরপ্পা সভ্যতায় সিল্কের আঁশ পাবার কথা মনে রেখে ছাপ নেওয়া হল তসর সিল্কে। এই তসর সিল্কে ছাপ এল একেবারে প্রায় নিখুঁত। ফলে সহজেই অনুমান করা যায় ছাপ নেওয়া হত সম্ভবত তসর সিল্কেই, বা তারই কাছাকাছি চরিত্রের কোন সিল্কের তন্তুর বোনা কাপড়ে। তবে সিল্কের কাপড়ের দুলর্ভতা অনুমান করে ভাবা যেতে পারে পার্চমেন্ট কাগজ ও তুলোর আঁশ থেকে তৈরী কাগজের পাশাপাশি তসরের কাপড়েও ছাপ নেওয়া হত। তামার সিলগুলো পরীক্ষা থেকে জানা গেছে এগুলো বহ ব্যবহৃত। বহু ব্যবহারে যেমন ক্ষয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে তেমনি নিয়মিত পরিস্কার করারও প্রমাণও মিলেছে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কাপের সাহায্যে। এবং সম্ভবত ব্যবহার হতো তেল মাধমের রঙ। কারণ তেলের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে সিলের নক্সার খাঁজে। কিন্তু কেন ছাপ নেওয়া হত? বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন এগুলো ছিল সিল বানাবার নমুনা। এ দেখেই সিল তৈরী হত। ॥হরপ্পার সভ্যতার ছাপাখানা॥©তুষারমুখার্জী2.11.2021 হরপ্পা সভ্যতার পাথরের পুঁতি বানানো, সিল বানানো বিষয়ে আমরা সবাই জানি। এই নিয়ে নানা গবেষণা পত্র অনেকেই পড়েছেন। পড়েছেন নানা সুচিন্তিত সুলিখিত প্রবন্ধ, আলোচনা, বহু বিশেষজ্ঞের লেখা থেকে। আর ফেসবুকে তো নিত্যই থাকে নানা আলোচনা এই সব নিয়ে। আজকে একটু কম আলোচিত বিষয় “ছাপ বা ছাপা “ নিয়ে দুই-চার কথা। বিখ্যাত পুরোহিত-রাজা মুর্তির গায়ের চাদরের নক্সা দেখে সবাই বলেছেন এই নক্সার অর্থ হল গায়ের কাপড়ে ছাপা থাকতো ঐ রকমের নক্সা। সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। হরপ্পা সভ্যতার শিল্পীদের যে শৈল্পিক কুশলতার পরিচয় আমরা পেয়েছি এই পর্যন্ত তাতে কাঠের ব্লকে নক্সা করে তা কাপড়ে ছাপ দেওয়া একদম সম্ভব। কাজেই ধরে নিতে পারি ব্লকে নক্সা করে তা কাপড়ে ছাপ দেওয়ার প্রচলন ছিল। হরপ্পা সভ্যতায় বোনা কাপড়ের ব্যবহার নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সে কাপড় অবশ্যই সূতি কাপড়। কিন্তু পরবর্তীকালে সিল্কের আঁশের অস্তিত্ব খুঁজে পাবার পরে এটাও ভাবা যেতেই পারে সিল্কের কাপড়ও ব্যবহার হত। হয়ত খুবই কম আর হয়ত তা বিলাসিতার উপকরণ ছিল। সিল্কের কাপড়ে কাঠের ব্লকে নক্সার ছাপ দেওয়াও সম্ভব হতেই পারে। এগুলো অবশ্যই কল্পনা। কোন প্রমাণ নেই। তবে যু্ক্তিসঙ্গত কল্পনা। হরপ্পা সভ্যতার সিলগুলো তৈরী হয়েছে সাধারনত সিয়াটাইট দিয়ে। যাকে আমরা পরিচিত সোপস্টোনের কাছাকাছি ভাবতে পারি। সিলে থাকে নানা প্রাণী মানুষ ইত্যাদি ছাড়াও কিছু অক্ষর। যে অক্ষরের পাঠোদ্ধার এখনো দুর অস্ত। পাঠোদ্ধার না হবার কারন মুলত কোন দ্বিভাষিক নমুনা না পাওয়া, আর তা ছাড়া তেমন কোন লম্বা লেখাও পাওয়া যায় নি। সিলের দুটো চারটে অক্ষর দিয়ে কোন বাক্য তো তৈরী হয় না, তাই ভাষাও বোঝা সম্ভব না। এক জায়গায় সব চেয়ে বেশি অক্ষর পাওয়া গেছে একটি তামার পাতে। তাতে ৩৪টি অক্ষর আছে। (সেটির ছবি দেওয়া আছে)। তামা বা যে কোন ধাতুর ব্যবহার এর বিশাল আকার আয়তন আর সমৃদ্ধির তুলনায় খুব খুব কম। কারন ধাতুর ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব না, বরং খনিজ ধাতুর অভাবই। এই ধাতুর অভাব আর সিয়াটাইট দিয়ে তৈরী সিলের ব্যবহারের পরিচিত আবহে পাকিস্তানে ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে দেখা পাওয়া গেল নয়টি তামার সিলের। ব্যক্তিগত সংগ্রহে পাওয়া মানে এগুলো আসলে চোরাই চালানকারীর থেকে কেনা বলে আমরা ধরে নিতে পারি। গোটা পৃথিবীতে সব প্রত্নক্ষেত্রেই ওঁৎপেতে আছে চোরা চালানকারীর দল। পৃথিবী জোড়া এই চোরাই প্রত্ন সামগ্রীর প্রাচুর্য দেখে মনে হতেই পারে প্রত্ন সামগ্রী সংগ্রহে প্রত্ন বিজ্ঞানীদের চেয়ে এরাই বেশি দক্ষ। পাকিস্তানের ব্যাক্তিগত সংগ্রহে থাকা এই নয়টি সিল প্রত্ন বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এবং ব্যবহার করেছেন তাঁদের গবেষণার কাজে। তেমনি একটি গবেষণাপত্র আজকের লেখার উৎস। তামার পাতে খোদাই করা এই সিলগুলো প্রতিবিম্বের মত করে খোদাই করা। অর্থাৎ কোন কিছুতে ছাপ না ফেললে সেগুলো অর্থহীণ। প্রথম প্রশ্ন আসবে এগুলো কোথায় পাওয়া গিয়েছিল? না, সেকথা জানার উপায় নেই। চোরাই চালানের মহিমায় সেটা অজানাই থাকবে।পাকিস্তানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের স্তরেও দুইবার হাতবদল হয় এগুলোর। দ্বিতীয়বারের সংগ্রাহক এগুলো তুলে দেন (২০১১) ইউনিভার্সিট অফ মেলবোর্ণের অধ্যাপক রিক জে উইলিসের হাতে। তিনি ও ভারতের ডেকান কলেজের বসন্ত সিন্ধে যুগ্মভাবে লিখেছেন গবেষণাপত্র এই বিষয়ে। তাঁদের অনুমান হলো এগুলো তৈরী হয়েছে পরিণত হরপ্পা আমলে (২৬০০-১৯০০ সাধারণ পূর্বাব্দ)। বিজ্ঞানীরা তামার মান পরীক্ষা করে বলছেন এগুলো আর্সেনিক যুক্ত তামা। হরপ্পা সভ্যতায় আর্সেনিক যুক্ত তামা ব্যবহার হত। কাজেই এগুলো হরপ্পা সভ্যতা এলাকাতেই তৈরী বলে অনুমান করা যেতে পারে। তাছাড়া এগুলোতে খোদাই করা আছে হরপ্পা সভ্যতার সিলে পাওয়া নানা নক্সার অনুরূপ নক্সা আর অক্ষর। কাজেই এগুলো মহেঞ্জোদারো চানহুদারো বা হরপ্পা যে কোন একটি হরপ্পা সভ্যতার বসতিতে তৈরী হয়ে থাকতে পারে। পরের প্রশ্ন সব কটা সিল কি একই জায়গায় বা একই সাথে তৈরী হয়েছিল? সম্ভবত না। কারন সিলগুলোর আলাদা করে পরীক্ষায় যে ফল পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে সবকটা সিলের ধাতব উপাদানে সামান্য হলেও তফাৎ আছে। কিন্তু সেখানেও একটা খটকা থেকে যায়। বিজ্ঞানীরা সযত্নে পরীক্ষার পরে বলেছেন যে এগুলো খনিজ তামা থেকে গলানো তামা নয়। বরং এগুলো বিভিন্ন ভাবে আগে ব্যবহৃত তামার টুকরো একত্রে গালিয়ে তার থেকে বানানো। কিন্তু সেক্ষেত্রেও একবারে বানালে সব কটার রাসায়নিক চরিত্র একই হবার কথা ছিল। তাও কিন্তু নয়। গবেষণাপত্রে দেওয়া তালিকা থেকে দেখলাম প্রতিটি সিলই কিছুটা হলেও ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ক্ষীণ অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করছে। বিজ্ঞানীরা সযত্নে পরীক্ষার পর জানাচ্ছেন, এই তামার সিলগুলো কিন্তু কোন বড় পাত থেকে কেটে বের করা হয় নি। তামা ঢালাই করা হয়েছে বালি বা মাটির ছাঁচে গলন্ত তামা ঢেলে। লম্বা পাত হিসাবে। খানিক বেশি লম্বা করেই। যাতে তার থেকে বেশ কয়েকটি টুকরো বের করা যেতে পারে। তারপরে ঢালাইকরা বড় পাত থেকে প্রয়োজনীয় মাপে ছেনি দিয়ে গভীর করে দাগ কেটে দুই হাতের চাপে ভেঙ্গে টুকরো বের করা হয়েছিল। লম্বা পাত হিসাবে ঢালাই করার ফলে চওড়ার দিকের ধারে ঢালাইয়ের মসৃণতা পাওয়া গেছে। লম্বার দিকে গভীর দাগ কেটে ভাঙ্গার চিহ্ন। এই ঢালাই করা ও টুকরো বের করার পদ্ধতি আর রাসায়নিক গঠনচরিত্র তালিকা পাশা পাশি রেখে পড়ে আমার মনে হল যে নয়টির বদলে না নব্বই না নয়শ নব্বই (মানে অনেক)সিলও হয়ত তৈরী হয়েছিল। একটি করেই তৈরী হয়েছিল না অনেকগুলোই এক এক লপ্তে তৈরী হয়েছিল তা সরাসরি সঠিক জানার উপায় নেই। এগুলো পাওয়া পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বানানোর পরে এগুলো একত্রে রাখা ছিল। কয়েকটা আলাদা থাকায় নষ্টও হয়ে গেছে জায়গায় জায়গায়। তাই আরও একটা অনুমান, হয়ত আরো ছিল, সেগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে বলে চোরাই চালানকারীরা বিক্রীর যোগ্য না ভেবে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেহেতু আর পাওয়া যায় নি তাই সঠিক কিছু জানার বা বলার সরাসরি কোন উপায় নেই। পরের প্রশ্ন কেন তৈরী হয়েছিল? হরপ্পা সভ্যতায় তামার ট্যাবলেট বা মাদুলি আগেই পাওয়া গেছে। মহেঞ্জোদারো, চানহুদারো, হরপ্পা এসব জায়গায়। শুধু মহেঞ্জোদারোতেই প্রায় আড়াইশ তামার ট্যবলেট পাওয়া গেছে। চৌকো, লম্বাটে, আয়তক্ষেত্রাকার, নানা রকমের। মাপে গড়ে এক ইঞ্চি বাই সোয়া ইঞ্চি। পাত সাড়ে তিন মিমি পুরু। দুই পিঠেই লেখা-নক্সা করা। সম্ভবত সেগুলো কাপড়ে মুড়ে হাতে বা গলায় মাদুলির মত পরা হত, এমনটাই বিজ্ঞানীদের অনুমান। এমন ভাবার আরেকটা কারন একই নক্সার একাধিক ট্যাবলেট পাওয়া। যেমন শুধু একটি নক্সারই পাওয়া গিয়েছিল আঠাশটি। কিন্তু নতুন পাওয়া এই নতুন পাওয়া সিলগুলো শুধু এক পিঠে লেখা-নক্সা। অন্যপিঠ মসৃণ। আর আকারে ট্যাবলেটের চেয়ে দ্বিগুন বড়। গড়ে দুই ইঞ্চি বাই সোয়া দুই ইঞ্চি। পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় মিমি পুরু। এই আকার নিয়েই এদের ভিন্নতর ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা ভাবার সুযোগ আছে। আকারে হয়ত এমনিতে খুব বড় না। কিন্তু ঘনত্ব তুলনামুলক ভাবে বেশি। যেহেতু হরপ্পা সভ্যতায় ধাতুর ব্যবহার সীমিত তাই এতটা পুরু হলে বিশেষ ব্যবহারের কথা ভাবতেই হয়। ছাপ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে পুরু পাতই দরকার। খুব পাতলা হলে আঙুলে ধরা মুশকিল। আর যে কোন সময় সেটা বেঁকে যাবার সম্ভাবনাও থাকে। প্রথমেই মনে হতে পারে যে এই ধাতব সিল এখনকার অর্থনীতিতে প্রচলিত মুদ্রার মত করেও তো ব্যবহার হতে পারে। না, অন্তত এই কটি সেভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। কারণ এর খোদাই কাজ হয়েছে উল্টো করে, আয়নায় যেমন করে দেখা যায় সেভাবে। কাজেই এগুলো সরাসরি আর্থিক লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। এই প্রতিবিম্ব খোদাই করার উদ্দেশ্য হতে পারে,এগুলো অন্য কিছুতে ছাপ দেবার জন্যই তৈরী হয়েছিল। কেন ছাপ দেওয়া দরকার পড়ল? ছাপ মেরে সিল বানাবার জন্য? বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিসিনে ছাপ মেরে দেখেছেন সে ছাপ হয় অস্পষ্ট। কাজেই মাটি বা অন্য কিছুতে ছাপ দেবার কাজে এগুলো ব্যবহার হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তাহলে? প্রত্ন বিজ্ঞানীরা এই তামার সিল পাঠালেন প্রাচীণ পদ্ধতিতে ছাপার কাজে বিশেষজ্ঞ মেলবোর্ণের মার্কো লুসিয়োর কাছে। তিনি এগুলো থেকে ছাপার কাজে ব্যবহার কলেন তিনটি ভিন্ন জিনিষ আর দুই রকমের কালি। প্রথমে পার্চমেন্ট কাগজে আর তুলোর আঁশ থেকে তৈরী কাগজে ছাপার চেষ্টা করা হল। ব্বহার হল দুই রকমের কালি (জলে দ্রব ফেরিক অক্সাইড, এ তেলে দ্রব কার্বন ব্ল্যাক)। ছাপ নেওয়া হল। ছাপ এল। যথেষ্ট ভালো ছাপ। এরপরে হরপ্পা সভ্যতায় সিল্কের আঁশ পাবার কথা মনে রেখে ছাপ নেওয়া হল তসর সিল্কে। এই তসর সিল্কে ছাপ এল একেবারে প্রায় নিখুঁত। ফলে সহজেই অনুমান করা যায় ছাপ নেওয়া হত সম্ভবত তসর সিল্কেই, বা তারই কাছাকাছি চরিত্রের কোন সিল্কের তন্তুর বোনা কাপড়ে। তবে সিল্কের কাপড়ের দুলর্ভতা অনুমান করে ভাবা যেতে পারে পার্চমেন্ট কাগজ ও তুলোর আঁশ থেকে তৈরী কাগজের পাশাপাশি তসরের কাপড়েও ছাপ নেওয়া হত। তামার সিলগুলো পরীক্ষা থেকে জানা গেছে এগুলো বহ ব্যবহৃত। বহু ব্যবহারে যেমন ক্ষয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে তেমনি নিয়মিত পরিস্কার করারও প্রমাণও মিলেছে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কাপের সাহায্যে। এবং সম্ভবত ব্যবহার হতো তেল মাধমের রঙ। কারণ তেলের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে সিলের নক্সার খাঁজে। কিন্তু কেন ছাপ নেওয়া হত? বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন এগুলো ছিল সিল বানাবার নমুনা। এ দেখেই সিল তৈরী হত। আমার মনে হল তা কেন হবে, সরাসরি সিল দেখেই তো সিল বানানো সহজতর উপায়। কিন্তু ছাপ নেবার প্রয়োজন তাহলে কেন হল? আপনারাও ভাবুন। প্রয়োজন যাই হোক সাড়ে চার হাজার বৎসর আগে হরপ্পা সভ্যতা যে ছাপার প্রয়োজনীয়তা আর সেই কাজে দক্ষতা অর্জন করেছিল সেটা যে জানা গেল তাই বা কম কিসে।

1 hr ago
user_Pingla Barta
Pingla Barta
Mill Owner পিংলা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
1 hr ago
bf2866ab-8570-447f-b72a-748cde52c28b

॥হরপ্পার সভ্যতার ছাপাখানা॥©তুষারমুখার্জী2.11.2021 হরপ্পা সভ্যতার পাথরের পুঁতি বানানো, সিল বানানো বিষয়ে আমরা সবাই জানি। এই নিয়ে নানা গবেষণা পত্র অনেকেই পড়েছেন। পড়েছেন নানা সুচিন্তিত সুলিখিত প্রবন্ধ, আলোচনা, বহু বিশেষজ্ঞের লেখা থেকে। আর ফেসবুকে তো নিত্যই থাকে নানা আলোচনা এই সব নিয়ে। আজকে একটু কম আলোচিত বিষয় “ছাপ বা ছাপা “ নিয়ে দুই-চার কথা। বিখ্যাত পুরোহিত-রাজা মুর্তির গায়ের চাদরের নক্সা দেখে সবাই বলেছেন এই নক্সার অর্থ হল গায়ের কাপড়ে ছাপা থাকতো ঐ রকমের নক্সা। সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। হরপ্পা সভ্যতার শিল্পীদের যে শৈল্পিক কুশলতার পরিচয় আমরা পেয়েছি এই পর্যন্ত তাতে কাঠের ব্লকে নক্সা করে তা কাপড়ে ছাপ দেওয়া একদম সম্ভব। কাজেই ধরে নিতে পারি ব্লকে নক্সা করে তা কাপড়ে ছাপ দেওয়ার প্রচলন ছিল। হরপ্পা সভ্যতায় বোনা কাপড়ের ব্যবহার নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সে কাপড় অবশ্যই সূতি কাপড়। কিন্তু পরবর্তীকালে সিল্কের আঁশের অস্তিত্ব খুঁজে পাবার পরে এটাও ভাবা যেতেই পারে সিল্কের কাপড়ও ব্যবহার হত। হয়ত খুবই কম আর হয়ত তা বিলাসিতার উপকরণ ছিল। সিল্কের কাপড়ে কাঠের ব্লকে নক্সার ছাপ দেওয়াও সম্ভব হতেই পারে। এগুলো অবশ্যই কল্পনা। কোন প্রমাণ নেই। তবে যু্ক্তিসঙ্গত কল্পনা। হরপ্পা সভ্যতার সিলগুলো তৈরী হয়েছে সাধারনত সিয়াটাইট দিয়ে। যাকে আমরা পরিচিত সোপস্টোনের কাছাকাছি ভাবতে পারি। সিলে থাকে নানা প্রাণী মানুষ ইত্যাদি ছাড়াও কিছু অক্ষর। যে অক্ষরের পাঠোদ্ধার এখনো দুর অস্ত। পাঠোদ্ধার না হবার কারন মুলত কোন দ্বিভাষিক নমুনা না পাওয়া, আর তা ছাড়া তেমন কোন লম্বা লেখাও পাওয়া যায় নি। সিলের দুটো চারটে অক্ষর দিয়ে কোন বাক্য তো তৈরী হয় না, তাই ভাষাও বোঝা সম্ভব না। এক জায়গায় সব চেয়ে বেশি অক্ষর পাওয়া গেছে একটি তামার পাতে। তাতে ৩৪টি অক্ষর আছে। (সেটির ছবি দেওয়া আছে)। তামা বা যে কোন ধাতুর ব্যবহার এর বিশাল আকার আয়তন আর সমৃদ্ধির তুলনায় খুব খুব কম। কারন ধাতুর ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব না, বরং খনিজ ধাতুর অভাবই। এই ধাতুর অভাব আর সিয়াটাইট দিয়ে তৈরী সিলের ব্যবহারের পরিচিত আবহে পাকিস্তানে ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে দেখা পাওয়া গেল নয়টি তামার সিলের। ব্যক্তিগত সংগ্রহে পাওয়া মানে এগুলো আসলে চোরাই চালানকারীর থেকে কেনা বলে আমরা ধরে নিতে পারি। গোটা পৃথিবীতে সব প্রত্নক্ষেত্রেই ওঁৎপেতে আছে চোরা চালানকারীর দল। পৃথিবী জোড়া এই চোরাই প্রত্ন সামগ্রীর প্রাচুর্য দেখে মনে হতেই পারে প্রত্ন সামগ্রী সংগ্রহে প্রত্ন বিজ্ঞানীদের চেয়ে এরাই বেশি দক্ষ। পাকিস্তানের ব্যাক্তিগত সংগ্রহে থাকা এই নয়টি সিল প্রত্ন বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এবং ব্যবহার করেছেন তাঁদের গবেষণার কাজে। তেমনি একটি গবেষণাপত্র আজকের লেখার উৎস। তামার পাতে খোদাই করা এই সিলগুলো প্রতিবিম্বের মত করে খোদাই করা। অর্থাৎ কোন কিছুতে ছাপ না ফেললে সেগুলো অর্থহীণ। প্রথম প্রশ্ন আসবে এগুলো কোথায় পাওয়া গিয়েছিল? না, সেকথা জানার উপায় নেই। চোরাই চালানের মহিমায় সেটা অজানাই থাকবে।পাকিস্তানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের স্তরেও দুইবার হাতবদল হয় এগুলোর। দ্বিতীয়বারের সংগ্রাহক এগুলো তুলে দেন (২০১১) ইউনিভার্সিট অফ মেলবোর্ণের অধ্যাপক রিক জে উইলিসের হাতে। তিনি ও ভারতের ডেকান কলেজের বসন্ত সিন্ধে যুগ্মভাবে লিখেছেন গবেষণাপত্র এই বিষয়ে। তাঁদের অনুমান হলো এগুলো তৈরী হয়েছে পরিণত হরপ্পা আমলে (২৬০০-১৯০০ সাধারণ পূর্বাব্দ)। বিজ্ঞানীরা তামার মান পরীক্ষা করে বলছেন এগুলো আর্সেনিক যুক্ত তামা। হরপ্পা সভ্যতায় আর্সেনিক যুক্ত তামা ব্যবহার হত। কাজেই এগুলো হরপ্পা সভ্যতা এলাকাতেই তৈরী বলে অনুমান করা যেতে পারে। তাছাড়া এগুলোতে খোদাই করা আছে হরপ্পা সভ্যতার সিলে পাওয়া নানা নক্সার অনুরূপ নক্সা আর অক্ষর। কাজেই এগুলো মহেঞ্জোদারো চানহুদারো বা হরপ্পা যে কোন একটি হরপ্পা সভ্যতার বসতিতে তৈরী হয়ে থাকতে পারে। পরের প্রশ্ন সব কটা সিল কি একই জায়গায় বা একই সাথে তৈরী হয়েছিল? সম্ভবত না। কারন সিলগুলোর আলাদা করে পরীক্ষায় যে ফল পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে সবকটা সিলের ধাতব উপাদানে সামান্য হলেও তফাৎ আছে। কিন্তু সেখানেও একটা খটকা থেকে যায়। বিজ্ঞানীরা সযত্নে পরীক্ষার পরে বলেছেন যে এগুলো খনিজ তামা থেকে গলানো তামা নয়। বরং এগুলো বিভিন্ন ভাবে আগে ব্যবহৃত তামার টুকরো একত্রে গালিয়ে তার থেকে বানানো। কিন্তু সেক্ষেত্রেও একবারে বানালে সব কটার রাসায়নিক চরিত্র একই হবার কথা ছিল। তাও কিন্তু নয়। গবেষণাপত্রে দেওয়া তালিকা থেকে দেখলাম প্রতিটি সিলই কিছুটা হলেও ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ক্ষীণ অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করছে। বিজ্ঞানীরা সযত্নে পরীক্ষার পর জানাচ্ছেন, এই তামার সিলগুলো কিন্তু কোন বড় পাত থেকে কেটে বের করা হয় নি। তামা ঢালাই করা হয়েছে বালি বা মাটির ছাঁচে গলন্ত তামা ঢেলে। লম্বা পাত হিসাবে। খানিক বেশি লম্বা করেই। যাতে তার থেকে বেশ কয়েকটি টুকরো বের করা যেতে পারে। তারপরে ঢালাইকরা বড় পাত থেকে প্রয়োজনীয় মাপে ছেনি দিয়ে গভীর করে দাগ কেটে দুই হাতের চাপে ভেঙ্গে টুকরো বের করা হয়েছিল। লম্বা পাত হিসাবে ঢালাই করার ফলে চওড়ার দিকের ধারে ঢালাইয়ের মসৃণতা পাওয়া গেছে। লম্বার দিকে গভীর দাগ কেটে ভাঙ্গার চিহ্ন। এই ঢালাই করা ও টুকরো বের করার পদ্ধতি আর রাসায়নিক গঠনচরিত্র তালিকা পাশা পাশি রেখে পড়ে আমার মনে হল যে নয়টির বদলে না নব্বই না নয়শ নব্বই (মানে অনেক)সিলও হয়ত তৈরী হয়েছিল। একটি করেই তৈরী হয়েছিল না অনেকগুলোই এক এক লপ্তে তৈরী হয়েছিল তা সরাসরি সঠিক জানার উপায় নেই। এগুলো পাওয়া পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বানানোর পরে এগুলো একত্রে রাখা ছিল। কয়েকটা আলাদা থাকায় নষ্টও হয়ে গেছে জায়গায় জায়গায়। তাই আরও একটা অনুমান, হয়ত আরো ছিল, সেগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে বলে চোরাই চালানকারীরা বিক্রীর যোগ্য না ভেবে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেহেতু আর পাওয়া যায় নি তাই সঠিক কিছু জানার বা বলার সরাসরি কোন উপায় নেই। পরের প্রশ্ন কেন তৈরী হয়েছিল? হরপ্পা সভ্যতায় তামার ট্যাবলেট বা মাদুলি আগেই পাওয়া গেছে। মহেঞ্জোদারো, চানহুদারো, হরপ্পা এসব জায়গায়। শুধু মহেঞ্জোদারোতেই প্রায় আড়াইশ তামার ট্যবলেট পাওয়া গেছে। চৌকো, লম্বাটে, আয়তক্ষেত্রাকার, নানা রকমের। মাপে গড়ে এক ইঞ্চি বাই সোয়া ইঞ্চি। পাত সাড়ে তিন মিমি পুরু। দুই পিঠেই লেখা-নক্সা করা। সম্ভবত সেগুলো কাপড়ে মুড়ে হাতে বা গলায় মাদুলির মত পরা হত, এমনটাই বিজ্ঞানীদের অনুমান। এমন ভাবার আরেকটা কারন একই নক্সার একাধিক ট্যাবলেট পাওয়া। যেমন শুধু একটি নক্সারই পাওয়া গিয়েছিল আঠাশটি। কিন্তু নতুন পাওয়া এই নতুন পাওয়া সিলগুলো শুধু এক পিঠে লেখা-নক্সা। অন্যপিঠ মসৃণ। আর আকারে ট্যাবলেটের চেয়ে দ্বিগুন বড়। গড়ে দুই ইঞ্চি বাই সোয়া দুই ইঞ্চি। পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় মিমি পুরু। এই আকার নিয়েই এদের ভিন্নতর ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা ভাবার সুযোগ আছে। আকারে হয়ত এমনিতে খুব বড় না। কিন্তু ঘনত্ব তুলনামুলক ভাবে বেশি। যেহেতু হরপ্পা সভ্যতায় ধাতুর ব্যবহার সীমিত তাই এতটা পুরু হলে বিশেষ ব্যবহারের কথা ভাবতেই হয়। ছাপ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে পুরু পাতই দরকার। খুব পাতলা হলে আঙুলে ধরা মুশকিল। আর যে কোন সময় সেটা বেঁকে যাবার সম্ভাবনাও থাকে। প্রথমেই মনে হতে পারে যে এই ধাতব সিল এখনকার অর্থনীতিতে প্রচলিত মুদ্রার মত করেও তো ব্যবহার হতে পারে। না, অন্তত এই কটি সেভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। কারণ এর খোদাই কাজ হয়েছে উল্টো করে, আয়নায় যেমন করে দেখা যায় সেভাবে। কাজেই এগুলো সরাসরি আর্থিক লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। এই প্রতিবিম্ব খোদাই করার উদ্দেশ্য হতে পারে,এগুলো অন্য কিছুতে ছাপ দেবার জন্যই তৈরী হয়েছিল। কেন ছাপ দেওয়া দরকার পড়ল? ছাপ মেরে সিল বানাবার জন্য? বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিসিনে ছাপ মেরে দেখেছেন সে ছাপ হয় অস্পষ্ট। কাজেই মাটি বা অন্য কিছুতে ছাপ দেবার কাজে এগুলো ব্যবহার হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তাহলে? প্রত্ন বিজ্ঞানীরা এই তামার সিল পাঠালেন প্রাচীণ পদ্ধতিতে ছাপার কাজে বিশেষজ্ঞ মেলবোর্ণের মার্কো লুসিয়োর কাছে। তিনি এগুলো থেকে ছাপার কাজে ব্যবহার কলেন তিনটি ভিন্ন জিনিষ আর দুই রকমের কালি। প্রথমে পার্চমেন্ট কাগজে আর তুলোর আঁশ থেকে তৈরী কাগজে ছাপার চেষ্টা করা হল। ব্বহার হল দুই রকমের কালি (জলে দ্রব ফেরিক অক্সাইড, এ তেলে দ্রব কার্বন ব্ল্যাক)। ছাপ নেওয়া হল। ছাপ এল। যথেষ্ট ভালো ছাপ। এরপরে হরপ্পা সভ্যতায় সিল্কের আঁশ পাবার কথা মনে রেখে ছাপ নেওয়া হল তসর সিল্কে। এই তসর সিল্কে ছাপ এল একেবারে প্রায় নিখুঁত। ফলে সহজেই অনুমান করা যায় ছাপ নেওয়া হত সম্ভবত তসর সিল্কেই, বা তারই কাছাকাছি চরিত্রের কোন সিল্কের তন্তুর বোনা কাপড়ে। তবে সিল্কের কাপড়ের দুলর্ভতা অনুমান করে ভাবা যেতে পারে পার্চমেন্ট কাগজ ও তুলোর আঁশ থেকে তৈরী কাগজের পাশাপাশি তসরের কাপড়েও ছাপ নেওয়া হত। তামার সিলগুলো পরীক্ষা থেকে জানা গেছে এগুলো বহ ব্যবহৃত। বহু ব্যবহারে যেমন ক্ষয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে তেমনি নিয়মিত পরিস্কার করারও প্রমাণও মিলেছে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কাপের সাহায্যে। এবং সম্ভবত ব্যবহার হতো তেল মাধমের রঙ। কারণ তেলের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে সিলের নক্সার খাঁজে। কিন্তু কেন ছাপ নেওয়া হত? বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন এগুলো ছিল সিল বানাবার নমুনা। এ দেখেই সিল তৈরী হত। ॥হরপ্পার সভ্যতার ছাপাখানা॥©তুষারমুখার্জী2.11.2021 হরপ্পা সভ্যতার পাথরের পুঁতি বানানো, সিল বানানো বিষয়ে আমরা সবাই জানি। এই নিয়ে নানা গবেষণা পত্র অনেকেই পড়েছেন। পড়েছেন নানা সুচিন্তিত সুলিখিত প্রবন্ধ, আলোচনা, বহু বিশেষজ্ঞের লেখা থেকে। আর ফেসবুকে তো নিত্যই থাকে নানা আলোচনা এই সব নিয়ে। আজকে একটু কম আলোচিত বিষয় “ছাপ বা ছাপা “ নিয়ে দুই-চার কথা। বিখ্যাত পুরোহিত-রাজা মুর্তির গায়ের চাদরের নক্সা দেখে সবাই বলেছেন এই নক্সার অর্থ হল গায়ের কাপড়ে ছাপা থাকতো ঐ রকমের নক্সা। সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। হরপ্পা সভ্যতার শিল্পীদের যে শৈল্পিক কুশলতার পরিচয় আমরা পেয়েছি এই পর্যন্ত তাতে কাঠের ব্লকে নক্সা করে তা কাপড়ে ছাপ দেওয়া একদম সম্ভব। কাজেই ধরে নিতে পারি ব্লকে নক্সা করে তা কাপড়ে ছাপ দেওয়ার প্রচলন ছিল। হরপ্পা সভ্যতায় বোনা কাপড়ের ব্যবহার নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সে কাপড় অবশ্যই সূতি কাপড়। কিন্তু পরবর্তীকালে সিল্কের আঁশের অস্তিত্ব খুঁজে পাবার পরে এটাও ভাবা যেতেই পারে সিল্কের কাপড়ও ব্যবহার হত। হয়ত খুবই কম আর হয়ত তা বিলাসিতার উপকরণ ছিল। সিল্কের কাপড়ে কাঠের ব্লকে নক্সার ছাপ দেওয়াও সম্ভব হতেই পারে। এগুলো অবশ্যই কল্পনা। কোন প্রমাণ নেই। তবে যু্ক্তিসঙ্গত কল্পনা। হরপ্পা সভ্যতার সিলগুলো তৈরী হয়েছে সাধারনত সিয়াটাইট দিয়ে। যাকে আমরা পরিচিত সোপস্টোনের কাছাকাছি ভাবতে পারি। সিলে থাকে নানা প্রাণী মানুষ ইত্যাদি ছাড়াও কিছু অক্ষর। যে অক্ষরের পাঠোদ্ধার এখনো দুর অস্ত। পাঠোদ্ধার না হবার কারন মুলত কোন দ্বিভাষিক নমুনা না পাওয়া, আর তা ছাড়া তেমন কোন লম্বা লেখাও পাওয়া যায় নি। সিলের দুটো চারটে অক্ষর দিয়ে কোন বাক্য তো তৈরী হয় না, তাই ভাষাও বোঝা সম্ভব না। এক জায়গায় সব চেয়ে বেশি অক্ষর পাওয়া গেছে একটি তামার পাতে। তাতে ৩৪টি অক্ষর আছে। (সেটির ছবি দেওয়া আছে)। তামা বা যে কোন ধাতুর ব্যবহার এর বিশাল আকার আয়তন আর সমৃদ্ধির তুলনায় খুব খুব কম। কারন ধাতুর ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব না, বরং খনিজ ধাতুর অভাবই। এই ধাতুর অভাব আর সিয়াটাইট দিয়ে তৈরী সিলের ব্যবহারের পরিচিত আবহে পাকিস্তানে ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে দেখা পাওয়া গেল নয়টি তামার সিলের। ব্যক্তিগত সংগ্রহে পাওয়া মানে এগুলো আসলে চোরাই চালানকারীর থেকে কেনা বলে আমরা ধরে নিতে পারি। গোটা পৃথিবীতে সব প্রত্নক্ষেত্রেই ওঁৎপেতে আছে চোরা চালানকারীর দল। পৃথিবী জোড়া এই চোরাই প্রত্ন সামগ্রীর প্রাচুর্য দেখে মনে হতেই পারে প্রত্ন সামগ্রী সংগ্রহে প্রত্ন বিজ্ঞানীদের চেয়ে এরাই বেশি দক্ষ। পাকিস্তানের ব্যাক্তিগত সংগ্রহে থাকা এই নয়টি সিল প্রত্ন বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এবং ব্যবহার করেছেন তাঁদের গবেষণার কাজে। তেমনি একটি গবেষণাপত্র আজকের লেখার উৎস। তামার পাতে খোদাই করা এই সিলগুলো প্রতিবিম্বের মত করে খোদাই করা। অর্থাৎ কোন কিছুতে ছাপ না ফেললে সেগুলো অর্থহীণ। প্রথম প্রশ্ন আসবে এগুলো কোথায় পাওয়া গিয়েছিল? না, সেকথা জানার উপায় নেই। চোরাই চালানের মহিমায় সেটা অজানাই থাকবে।পাকিস্তানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের স্তরেও দুইবার হাতবদল হয় এগুলোর। দ্বিতীয়বারের সংগ্রাহক এগুলো তুলে দেন (২০১১) ইউনিভার্সিট অফ মেলবোর্ণের অধ্যাপক রিক জে উইলিসের হাতে। তিনি ও ভারতের ডেকান কলেজের বসন্ত সিন্ধে যুগ্মভাবে লিখেছেন গবেষণাপত্র এই বিষয়ে। তাঁদের অনুমান হলো এগুলো তৈরী হয়েছে পরিণত হরপ্পা আমলে (২৬০০-১৯০০ সাধারণ পূর্বাব্দ)। বিজ্ঞানীরা তামার মান পরীক্ষা করে বলছেন এগুলো আর্সেনিক যুক্ত তামা। হরপ্পা সভ্যতায় আর্সেনিক যুক্ত তামা ব্যবহার হত। কাজেই এগুলো হরপ্পা সভ্যতা এলাকাতেই তৈরী বলে অনুমান করা যেতে পারে। তাছাড়া এগুলোতে খোদাই করা আছে হরপ্পা সভ্যতার সিলে পাওয়া নানা নক্সার অনুরূপ নক্সা আর অক্ষর। কাজেই এগুলো মহেঞ্জোদারো চানহুদারো বা হরপ্পা যে কোন একটি হরপ্পা সভ্যতার বসতিতে তৈরী হয়ে থাকতে পারে। পরের প্রশ্ন সব কটা সিল কি একই জায়গায় বা একই সাথে তৈরী হয়েছিল? সম্ভবত না। কারন সিলগুলোর আলাদা করে পরীক্ষায় যে ফল পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে সবকটা সিলের ধাতব উপাদানে সামান্য হলেও তফাৎ আছে। কিন্তু সেখানেও একটা খটকা থেকে যায়। বিজ্ঞানীরা সযত্নে পরীক্ষার পরে বলেছেন যে এগুলো খনিজ তামা থেকে গলানো তামা নয়। বরং এগুলো বিভিন্ন ভাবে আগে ব্যবহৃত তামার টুকরো একত্রে গালিয়ে তার থেকে বানানো। কিন্তু সেক্ষেত্রেও একবারে বানালে সব কটার রাসায়নিক চরিত্র একই হবার কথা ছিল। তাও কিন্তু নয়। গবেষণাপত্রে দেওয়া তালিকা থেকে দেখলাম প্রতিটি সিলই কিছুটা হলেও ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ক্ষীণ অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করছে। বিজ্ঞানীরা সযত্নে পরীক্ষার পর জানাচ্ছেন, এই তামার সিলগুলো কিন্তু কোন বড় পাত থেকে কেটে বের করা হয় নি। তামা ঢালাই করা হয়েছে বালি বা মাটির ছাঁচে গলন্ত তামা ঢেলে। লম্বা পাত হিসাবে। খানিক বেশি লম্বা করেই। যাতে তার থেকে বেশ কয়েকটি টুকরো বের করা যেতে পারে। তারপরে ঢালাইকরা বড় পাত থেকে প্রয়োজনীয় মাপে ছেনি দিয়ে গভীর করে দাগ কেটে দুই হাতের চাপে ভেঙ্গে টুকরো বের করা হয়েছিল। লম্বা পাত হিসাবে ঢালাই করার ফলে চওড়ার দিকের ধারে ঢালাইয়ের মসৃণতা পাওয়া গেছে। লম্বার দিকে গভীর দাগ কেটে ভাঙ্গার চিহ্ন। এই ঢালাই করা ও টুকরো বের করার পদ্ধতি আর রাসায়নিক গঠনচরিত্র তালিকা পাশা পাশি রেখে পড়ে আমার মনে হল যে নয়টির বদলে না নব্বই না নয়শ নব্বই (মানে অনেক)সিলও হয়ত তৈরী হয়েছিল। একটি করেই তৈরী হয়েছিল না অনেকগুলোই এক এক লপ্তে তৈরী হয়েছিল তা সরাসরি সঠিক জানার উপায় নেই। এগুলো পাওয়া পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বানানোর পরে এগুলো একত্রে রাখা ছিল। কয়েকটা আলাদা থাকায় নষ্টও হয়ে গেছে জায়গায় জায়গায়। তাই আরও একটা অনুমান, হয়ত আরো ছিল, সেগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে বলে চোরাই চালানকারীরা বিক্রীর যোগ্য না ভেবে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেহেতু আর পাওয়া যায় নি তাই সঠিক কিছু জানার বা বলার সরাসরি কোন উপায় নেই। পরের প্রশ্ন কেন তৈরী হয়েছিল? হরপ্পা সভ্যতায় তামার ট্যাবলেট বা মাদুলি আগেই পাওয়া গেছে। মহেঞ্জোদারো, চানহুদারো, হরপ্পা এসব জায়গায়। শুধু মহেঞ্জোদারোতেই প্রায় আড়াইশ তামার ট্যবলেট পাওয়া গেছে। চৌকো, লম্বাটে, আয়তক্ষেত্রাকার, নানা রকমের। মাপে গড়ে এক ইঞ্চি বাই সোয়া ইঞ্চি। পাত সাড়ে তিন মিমি পুরু। দুই পিঠেই লেখা-নক্সা করা। সম্ভবত সেগুলো কাপড়ে মুড়ে হাতে বা গলায় মাদুলির মত পরা হত, এমনটাই বিজ্ঞানীদের অনুমান। এমন ভাবার আরেকটা কারন একই নক্সার একাধিক ট্যাবলেট পাওয়া। যেমন শুধু একটি নক্সারই পাওয়া গিয়েছিল আঠাশটি। কিন্তু নতুন পাওয়া এই নতুন পাওয়া সিলগুলো শুধু এক পিঠে লেখা-নক্সা। অন্যপিঠ মসৃণ। আর আকারে ট্যাবলেটের চেয়ে দ্বিগুন বড়। গড়ে দুই ইঞ্চি বাই সোয়া দুই ইঞ্চি। পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় মিমি পুরু। এই আকার নিয়েই এদের ভিন্নতর ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা ভাবার সুযোগ আছে। আকারে হয়ত এমনিতে খুব বড় না। কিন্তু ঘনত্ব তুলনামুলক ভাবে বেশি। যেহেতু হরপ্পা সভ্যতায় ধাতুর ব্যবহার সীমিত তাই এতটা পুরু হলে বিশেষ ব্যবহারের কথা ভাবতেই হয়। ছাপ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত ব্যবহার করলে পুরু পাতই দরকার। খুব পাতলা হলে আঙুলে ধরা মুশকিল। আর যে কোন সময় সেটা বেঁকে যাবার সম্ভাবনাও থাকে। প্রথমেই মনে হতে পারে যে এই ধাতব সিল এখনকার অর্থনীতিতে প্রচলিত মুদ্রার মত করেও তো ব্যবহার হতে পারে। না, অন্তত এই কটি সেভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। কারণ এর খোদাই কাজ হয়েছে উল্টো করে, আয়নায় যেমন করে দেখা যায় সেভাবে। কাজেই এগুলো সরাসরি আর্থিক লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই। এই প্রতিবিম্ব খোদাই করার উদ্দেশ্য হতে পারে,এগুলো অন্য কিছুতে ছাপ দেবার জন্যই তৈরী হয়েছিল। কেন ছাপ দেওয়া দরকার পড়ল? ছাপ মেরে সিল বানাবার জন্য? বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিসিনে ছাপ মেরে দেখেছেন সে ছাপ হয় অস্পষ্ট। কাজেই মাটি বা অন্য কিছুতে ছাপ দেবার কাজে এগুলো ব্যবহার হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তাহলে? প্রত্ন বিজ্ঞানীরা এই তামার সিল পাঠালেন প্রাচীণ পদ্ধতিতে ছাপার কাজে বিশেষজ্ঞ মেলবোর্ণের মার্কো লুসিয়োর কাছে। তিনি এগুলো থেকে ছাপার কাজে ব্যবহার কলেন তিনটি ভিন্ন জিনিষ আর দুই রকমের কালি। প্রথমে পার্চমেন্ট কাগজে আর তুলোর আঁশ থেকে তৈরী কাগজে ছাপার চেষ্টা করা হল। ব্বহার হল দুই রকমের কালি (জলে দ্রব ফেরিক অক্সাইড, এ তেলে দ্রব কার্বন ব্ল্যাক)। ছাপ নেওয়া হল। ছাপ এল। যথেষ্ট ভালো ছাপ। এরপরে হরপ্পা সভ্যতায় সিল্কের আঁশ পাবার কথা মনে রেখে ছাপ নেওয়া হল তসর সিল্কে। এই তসর সিল্কে ছাপ এল একেবারে প্রায় নিখুঁত। ফলে সহজেই অনুমান করা যায় ছাপ নেওয়া হত সম্ভবত তসর সিল্কেই, বা তারই কাছাকাছি চরিত্রের কোন সিল্কের তন্তুর বোনা কাপড়ে। তবে সিল্কের কাপড়ের দুলর্ভতা অনুমান করে ভাবা যেতে পারে পার্চমেন্ট কাগজ ও তুলোর আঁশ থেকে তৈরী কাগজের পাশাপাশি তসরের কাপড়েও ছাপ নেওয়া হত। তামার সিলগুলো পরীক্ষা থেকে জানা গেছে এগুলো বহ ব্যবহৃত। বহু ব্যবহারে যেমন ক্ষয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে তেমনি নিয়মিত পরিস্কার করারও প্রমাণও মিলেছে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কাপের সাহায্যে। এবং সম্ভবত ব্যবহার হতো তেল মাধমের রঙ। কারণ তেলের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে সিলের নক্সার খাঁজে। কিন্তু কেন ছাপ নেওয়া হত? বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন এগুলো ছিল সিল বানাবার নমুনা। এ দেখেই সিল তৈরী হত। আমার মনে হল তা কেন হবে, সরাসরি সিল দেখেই তো সিল বানানো সহজতর উপায়। কিন্তু ছাপ নেবার প্রয়োজন তাহলে কেন হল? আপনারাও ভাবুন। প্রয়োজন যাই হোক সাড়ে চার হাজার বৎসর আগে হরপ্পা সভ্যতা যে ছাপার প্রয়োজনীয়তা আর সেই কাজে দক্ষতা অর্জন করেছিল সেটা যে জানা গেল তাই বা কম কিসে।

More news from পশ্চিমবঙ্গ and nearby areas
  • আজ দক্ষিণবঙ্গে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে তবে উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি চলবে উপরের দিকের পাঁচ জেলায়। আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গে ঝাড়গ্রাম পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে স্থানীয়ভাবে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। আগামী কয়েকদিন এ দার্জিলিং কালিম্পং আলিপুরদুয়ার কোচবিহার জলপাইগুড়ি জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা।
    1
    আজ দক্ষিণবঙ্গে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে তবে উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি চলবে উপরের দিকের পাঁচ জেলায়।
আগামীকাল দক্ষিণবঙ্গে ঝাড়গ্রাম পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে স্থানীয়ভাবে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। 
আগামী কয়েকদিন এ দার্জিলিং কালিম্পং আলিপুরদুয়ার কোচবিহার জলপাইগুড়ি জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা।
    user_Tarak Hari
    Tarak Hari
    Journalist - News Media House ডেবরা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    5 hrs ago
  • সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হচ্ছে বিশেষ ট্রাইবুনাল। আর আজ থেকেই শুরু হচ্ছে এই ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকা ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মেগা ট্রেনিং। #SIR #WBSIR #SIR2026 #ট্রাইবুনাল #TribunalMission #westbengalelection2026
    1
    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হচ্ছে বিশেষ ট্রাইবুনাল।
আর আজ থেকেই শুরু হচ্ছে এই ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকা ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মেগা ট্রেনিং।
#SIR
#WBSIR
#SIR2026
#ট্রাইবুনাল
#TribunalMission
#westbengalelection2026
    user_Kharagpur Jagoran
    Kharagpur Jagoran
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    2 hrs ago
  • #kharagpurgrp : पांशकुड़ा स्टेशन पर जीआरपी की बड़ी कार्रवाई, 31 किलो गांजा बरामद, तस्कर गिरफ्तार। #panskurarailwaystation #grparrest #1person #kharagpurnews9
    1
    #kharagpurgrp : पांशकुड़ा स्टेशन पर जीआरपी की बड़ी कार्रवाई, 31 किलो गांजा बरामद, तस्कर गिरफ्तार।  #panskurarailwaystation #grparrest #1person #kharagpurnews9
    user_KHARAGPUR NEWS 9
    KHARAGPUR NEWS 9
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    6 hrs ago
  • শিব প্রসাদ এর পরিচালনায় ও সমীরণ দাস এর প্রযোজনায় সামাজিক শর্ট ফিল্ম পরিনতির শুটিং চলছে AP স্টুডিওতে
    1
    শিব প্রসাদ এর পরিচালনায় ও সমীরণ দাস এর প্রযোজনায় সামাজিক শর্ট ফিল্ম পরিনতির শুটিং চলছে AP স্টুডিওতে
    user_Loca news(কৌশিক কাপড়ি )
    Loca news(কৌশিক কাপড়ি )
    দাসপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    4 hrs ago
  • Post by Ankit Banerjee
    1
    Post by Ankit Banerjee
    user_Ankit Banerjee
    Ankit Banerjee
    কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    6 hrs ago
  • বিধানসভার নির্বাচনের মুখেই দুটি ট্রলি ব্যাগের মধ্যে থাকা ২৯ টি প্যাকেটের মধ্যে ৩১ কেজি ৩৮গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করল পুলিশ। পাঁশকুড়ার জিআরপি পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হয় এই বেআইনি গাঁজা। ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে এর সাথে কারা কারা জড়িত তার তদন্ত করছে পুলিশ।
    1
    বিধানসভার নির্বাচনের মুখেই দুটি ট্রলি ব্যাগের মধ্যে থাকা ২৯ টি প্যাকেটের মধ্যে ৩১ কেজি ৩৮গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করল পুলিশ। পাঁশকুড়ার জিআরপি পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হয় এই বেআইনি গাঁজা। ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে এর সাথে কারা কারা জড়িত তার তদন্ত করছে পুলিশ।
    user_Prithis Banerjee
    Prithis Banerjee
    Photography studio কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    8 hrs ago
  • তালদা ১ নম্বর অঞ্চলের নন্দকুড়িয়াতে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন উপস্থিত ছিলেন দাঁতন ৪ নং মন্ডলের সভাপতি লক্ষীকান্ত দাস সহ অন্যান্যরা।
    1
    তালদা ১ নম্বর অঞ্চলের নন্দকুড়িয়াতে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন উপস্থিত ছিলেন দাঁতন ৪ নং মন্ডলের সভাপতি লক্ষীকান্ত দাস সহ অন্যান্যরা।
    user_Nakul Patra
    Nakul Patra
    সাংবাদিক দাঁতন 2, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    22 hrs ago
  • #cpimmdsalim : खड़गपुर में सियासी पारा चढ़ा, मोहम्मद सलीम का BJP–TMC पर तीखा हमला। #kharagpursadar224 #mlaelection2026 #mdaslim #CPIM #BJP #TMC #kharagpurnews9
    1
    #cpimmdsalim : खड़गपुर में सियासी पारा चढ़ा, मोहम्मद सलीम का BJP–TMC पर तीखा हमला। #kharagpursadar224 #mlaelection2026 #mdaslim #CPIM #BJP #TMC #kharagpurnews9
    user_KHARAGPUR NEWS 9
    KHARAGPUR NEWS 9
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    15 hrs ago
View latest news on Shuru App
Download_Android
  • Terms & Conditions
  • Career
  • Privacy Policy
  • Blogs
Shuru, a product of Close App Private Limited.