logo
Shuru
Apke Nagar Ki App…
  • Latest News
  • News
  • Politics
  • Elections
  • Viral
  • Astrology
  • Horoscope in Hindi
  • Horoscope in English
  • Latest Political News
logo
Shuru
Apke Nagar Ki App…

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক গল্প সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর স্রষ্টা ঐতিহাসিক কাহিনী রচনায় আগ্রহী হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের লেখার অনুপ্রেরণায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, শশিচন্দ্র দত্ত, হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, যদুনাথ ভট্টাচার্য, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ― এঁদের লেখা ইতিহাস নির্ভর গল্প উপন্যাস এক বঙ্কিম ছাড়া বাঙালি পাঠকের চিত্তে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি। রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরানীর হাট' ও 'রাজর্ষি' উপন্যাস দুটি যশোরের বসন্ত রায় ও প্রতাপাদিত্য এবং গোবিন্দ মাণিক্যের সমসাময়িক ইতিহাস আশ্রিত কাহিনী। 'রাজর্ষি' কবিগুরুর একটি জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তুলনায় 'বৌঠাকুরানীর হাট' কিছুটা দুর্বল রচনা। ‌ ঐতিহাসিক রোমান্স সৃষ্টিতে বঙ্কিমচন্দ্রের সার্থক দক্ষতা শরদিন্দুকে উৎসাহিত করে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, 'ঐতিহাসিক গল্প লেখার প্রেরণা পাই বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে। বঙ্কিমচন্দ্রের কাছ থেকে শিখেছি ভাষার মধ্যেই বাতাবরণ সৃষ্টি করা যায় ― বিশেষ করে ঐতিহাসিক বাতাবরণ। ইতিহাস থেকে চরিত্রগুলো কেবল নিয়েছি; কিন্তু গল্প আমার নিজের। সর্বদা লক্ষ্য রেখেছি কি করে সেই যুগকে ফুটিয়ে তোলা যায়। যে সময়কার গল্প তখনকার রীতি নীতি, আচার ব্যবহার, অস্ত্র, আহার, বাড়িঘর ইত্যাদি খুঁটিনাটি সব না জানলে যুগকে ফুটিয়ে তোলা যায় না। এরপর আছে ভাষা। ‌ ঐতিহাসিক গল্পের ভাষাও হবে যুগোপযোগী।' ঐতিহাসিক গল্প উপন্যাস সৃষ্টিতে শরদিন্দু এক্ষেত্রে তাঁর অনুপ্রেরণা বঙ্কিমচন্দ্রকেও ছাপিয়ে গেছেন। আজ বাংলা ঐতিহাসিক সাহিত্যের কাহিনীকার হিসেবে পাঠকের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ইতিহাস আশ্রিত গল্প উপন্যাস লিখে তাঁর মতো পাঠকপ্রিয়তা আর কেউ লাভ করেননি। বলা যায় এক্ষেত্রে তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর আগের অধিকাংশ লেখকের লেখায় প্রাধান্য পেয়েছিল বিশেষ করে মধ্যযুগের কাহিনী। শরদিন্দুই প্রথম সার্থকভাবে প্রাচীন ভারত ও প্রাচীন বাংলাকে ঐতিহাসিক কাহিনীতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর এসব সৃষ্টি এতটাই জীবন্ত যে তা পড়তে গিয়ে পাঠকের দৃষ্টি পথে আপনা হতেই ছবির মতো ভেসে ওঠে। আচার্য সুকুমার সেন লেখেন, 'শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ইনি ঐতিহাসিক ছিলেন না। ভারতবর্ষের ইতিহাস উদ্ধারের কোন মহৎ ব্রত ইনি অবলম্বন করেননি। শরদিন্দুবাবু ছিলেন ইতিহাস-পিপাসু পাঠক, ভক্ত। আগেকার লেখকদের মতো শরদিন্দুবাবু দূরবীনের চোঙার মধ্যে দিয়ে কিংবা নাকে দূরদৃষ্টির চশমা এঁটে ইতিহাস হাতড়ান নি বা খোঁজ চালান নি। ইনি যেন চোখে কনট্যাকট লেন্স লাগিয়ে ইতিহাসকে হাতের নাগালে পেয়েছিলেন। ‌ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত শরদিন্দুবাবুর ঐতিহাসিক গল্পের কালপ্রসার। এর মধ্যে কোথাও গল্পের পরিবেশ গল্পরসের তীক্ষ্ণতার হানি করে নি। দূরের দৃশ্যপটকে নিকটে এনে দূরের মানুষকে কাছের মানুষ করতে পেরেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই ‌ ঐতিহাসিক গল্প লেখক রূপে তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব।' পাঁচটি উপন্যাস আর সতেরটি গল্প নিয়ে শরদিন্দুর ঐতিহাসিক কাহিনী। সংক্ষিপ্ত আকারে উপন্যাস গুলো নিয়ে এর আগে আলোচনা করেছিলাম। এবার তাঁর রচিত ইতিহাস নির্ভর গল্প গুলো নিয়ে দু'চার কথায় আলোচনার চেষ্টা করব। বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধযুগের ইতিহাসের প্রতি শরদিন্দুর টান একটু বেশি ছিল। এছাড়া মহাকবি কালিদাস, গুপ্ত কাল‌, পাল আমল, শ্রীচৈতন্য ও শিবাজী মহারাজের সমসাময়িক কাল তাঁর রচিত ঐতিহাসিক কাহিনীর বিষয়বস্তু ছিল। সতেরটি ঐতিহাসিক গল্পের মধ্যে পাঁচটি বৌদ্ধ কালের। তাঁর ঐতিহাসিক গল্প গুলোর মধ্যে দেখা যায় লেখকের জাতিস্মর কল্পনা। তিনি জ্যোতিষ চর্চায় বিশ্বাসী ছিলেন। হয়তো জাতিস্মরতাইও বিশ্বাস করতেন। সুকুমার সেন লেখেন, 'শরদিন্দু বাবু জাতিস্মর ঘটনায় বিশ্বাসী ছিলেন কি না ঠিক জানি না―বোধ হয় ছিলেন। কিন্তু সে যাই হোক তিনি যে গল্প রচনায় স্বীয় জাতিস্মরতা প্রতিপন্ন করেছেন তা সহৃদয় পাঠক অবশ্যই স্বীকার করবেন। শরদিন্দুবাবুর জাতিস্মর সাহিত্যদৃষ্টিই ভূতকালের ভূতত্ত্বের সপিণ্ডীকরণ করেছে।' "দূর-কালের ইতিহাসকে বর্তমান কালের গোচরে আনবার যে অভিনব কৌশলটি শরদিন্দুবাবু অবলম্বন করেছেন তা হল জাতিস্মর কল্পনা" অমিতাভ, মৃৎপ্রদীপ, রুমাহরণ ― এই তিনটি গল্প জাতিস্মর শরদিন্দু নিজেকে সেই কালে স্থাপন করে আমাদের গল্প বলেছেন। এ যেন তাঁ-ই পূর্ব পূর্ব জীবনের অভিজ্ঞতা। 'অমিতাভ' শাক্যমুনি বুদ্ধের এক টুকরো কিংবদন্তী। মগধরাজ অজাতশত্রুর সময়কালীন। 'মৃৎপ্রদীপ' জাতিস্মর গল্প গুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। শরদিন্দুর প্রথম জীবন কেটেছিল দক্ষিণ মগধ অঞ্চলে। তিনি মুঙ্গেরে থাকতেন। রাজগৃহ (রাজগির), পাটলিপুত্র (পাটনা), শ্রাবস্তী প্রভৃতি অঞ্চল সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা ছিল। 'মৃৎপ্রদীপ' - গুপ্তযুগের সূচনাকালীন সময়ের কাহিনী। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত, কুমারদেবী, সমুদ্রগুপ্ত ও চন্দ্রবর্মা এই কাহিনীর ঐতিহাসিক চরিত্র। মূল আখ্যান লেখকের কল্পনা। ‌গল্পের বুননে এই কাহিনী আমাদের সেই কালে নিয়ে যায়। 'রুমাহরণ' এর সূচনায় মৃৎপ্রদীপ গল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত কিন্তু এর কাহিনী প্রাগৈতিহাসিক যুগের। 'রক্ত-সন্ধ্যা' ও 'চুয়াচন্দন' ― পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর কাহিনী। এ দুটি তাঁর ঐতিহাসিক গল্পের মধ্যে অন্যতম সেরা রচনা। 'রক্ত-সন্ধ্যা' দক্ষিণ ভারতের কালিকট উপকূলের আখ্যান। মুর ও পর্তুগিজ সংঘাত। যা সাম্প্রতিক কালে এসে মিশে গেছে। এখানে বণিকের বেশধারী দস্যু ভাস্কো-দা-গামার চরিত্রটি ঐতিহাসিক। 'চুয়াচন্দন' শ্রীচৈতন্যের সন্ন্যাস পূর্ব জীবনের কাহিনী যখন তিনি নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিত ছিলেন। ‌এই গল্পটি শরদিন্দু ছ'বার লিখেছিলেন। নিজেই লিখেছেন যে 'চুয়াচন্দন' লিখে তিনি বিশেষ তৃপ্তি পেয়েছিলেন। 'সেতু' ―গল্পটি কনিষ্কের সময়কালীন উজ্জয়িনীর কল্পিত আখ্যান। 'মরু ও সঙ্ঘ' গল্পটি পড়লে বোঝা যায় বৌদ্ধ যুগের ইতিহাস নিয়ে শরদিন্দুর আগ্রহ ও পড়াশোনা কত উঁচুদরের ছিল। মধ্য এশিয়ায় এক সময় বৌদ্ধধর্ম সম্প্রসারিত হয়েছিল। প্রাচীন বাণিজ্য পথের ধারে বৌদ্ধ সঙ্ঘ গুলো বিংশ শতাব্দীর প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। আখ্যানে শরদিন্দু তারই অনুসন্ধান করেছেন। 'চন্দন মূর্তি' সমসাময়িক যুগের কাহিনী যার মূল রয়েছে সুদূর অতীতে। 'অষ্টম সর্গ' মহাকবি কালিদাসের কুমারসম্ভব মহাকাব্যের সূত্রে রচিত। এখানে শরদিন্দুর কাহিনী ইতিহাসের চেয়ে কবি কল্পনায় অধিক উদ্ভাসিত। 'বাঘের বাচ্চা' ―শিবাজী মহারাজের বাল্যকালের একঝলক মাত্র। শিবাজীর কাহিনীর প্রতি তাঁর আগ্রহ সদাশিবের গল্পগুলোতে বিস্তৃত। 'তক্ত মোবারক' মুঘল যুগের শাহ সুজার কাহিনী। যেখানে লেখক গল্পের মধ্যে ঐতিহাসিক সত্যের খোঁজ চালিয়েছেন। 'ইন্দ্রতূলক' ―প্রাচীন আর্যদের নিয়ে একটি কল্পিত আখ্যান। 'আদিম' গল্পটি বলা যায় ভারতীয় প্রেক্ষাপটে প্রাচীন মিশরের কাহিনী। 'প্রাগজ্যোতিষ' প্রাচীন আর্য বসতি স্থাপন ও বিস্তার বিষয়ে রচিত। 'বিষকন্যা' গল্পটি খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর। 'বহু যুগের ওপার হতে' ―উপন্যাসটি এই গল্পের বিস্তৃত রূপ। 'শঙ্খ কঙ্কণ' ও 'রেবা রোধসি' ― সুলতানি যুগের আলাউদ্দিন খিলজির সময়কালীন প্রেক্ষাপটে রচিত। সুলতান আলাউদ্দিনের দক্ষিণে সাম্রাজ্য বিস্তারে সেখানকার প্রতিরোধ, পরাজয়, প্রতিহিংসা ও আত্মরক্ষার আখ্যান এই দুটি গল্পে। গোয়েন্দা ও অলৌকিক কাহিনী, সামাজিক গল্প ও উপন্যাস, কবিতা, চিত্রনাট্য ― ইত্যাদি বহু রচনার মধ্যে ঐতিহাসিক গল্প ও উপন্যাস গুলোই শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা একথা পাঠক মহলে সুবিদিত। ইতিহাসের রোমাঞ্চে ভরা ঐতিহাসিক কাহিনী লিখেই তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এগুলো বাদে আর কিছু না লিখলেও তিনি বাঙালি পাঠকের দরবারে চিরকাল উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত থাকতেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কোনো কথা কভু হারাও নি তুমি সব তুমি তুলে লও শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক গল্প সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর স্রষ্টা ঐতিহাসিক কাহিনী রচনায় আগ্রহী হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের লেখার অনুপ্রেরণায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, শশিচন্দ্র দত্ত, হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, যদুনাথ ভট্টাচার্য, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ― এঁদের লেখা ইতিহাস নির্ভর গল্প উপন্যাস এক বঙ্কিম ছাড়া বাঙালি পাঠকের চিত্তে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি। রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরানীর হাট' ও 'রাজর্ষি' উপন্যাস দুটি যশোরের বসন্ত রায় ও প্রতাপাদিত্য এবং গোবিন্দ মাণিক্যের সমসাময়িক ইতিহাস আশ্রিত কাহিনী। 'রাজর্ষি' কবিগুরুর একটি জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তুলনায় 'বৌঠাকুরানীর হাট' কিছুটা দুর্বল রচনা। ‌ ঐতিহাসিক রোমান্স সৃষ্টিতে বঙ্কিমচন্দ্রের সার্থক দক্ষতা শরদিন্দুকে উৎসাহিত করে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, 'ঐতিহাসিক গল্প লেখার প্রেরণা পাই বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে। বঙ্কিমচন্দ্রের কাছ থেকে শিখেছি ভাষার মধ্যেই বাতাবরণ সৃষ্টি করা যায় ― বিশেষ করে ঐতিহাসিক বাতাবরণ। ইতিহাস থেকে চরিত্রগুলো কেবল নিয়েছি; কিন্তু গল্প আমার নিজের। সর্বদা লক্ষ্য রেখেছি কি করে সেই যুগকে ফুটিয়ে তোলা যায়। যে সময়কার গল্প তখনকার রীতি নীতি, আচার ব্যবহার, অস্ত্র, আহার, বাড়িঘর ইত্যাদি খুঁটিনাটি সব না জানলে যুগকে ফুটিয়ে তোলা যায় না। এরপর আছে ভাষা। ‌ ঐতিহাসিক গল্পের ভাষাও হবে যুগোপযোগী।' ঐতিহাসিক গল্প উপন্যাস সৃষ্টিতে শরদিন্দু এক্ষেত্রে তাঁর অনুপ্রেরণা বঙ্কিমচন্দ্রকেও ছাপিয়ে গেছেন। আজ বাংলা ঐতিহাসিক সাহিত্যের কাহিনীকার হিসেবে পাঠকের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ইতিহাস আশ্রিত গল্প উপন্যাস লিখে তাঁর মতো পাঠকপ্রিয়তা আর কেউ লাভ করেননি। বলা যায় এক্ষেত্রে তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর আগের অধিকাংশ লেখকের লেখায় প্রাধান্য পেয়েছিল বিশেষ করে মধ্যযুগের কাহিনী। শরদিন্দুই প্রথম সার্থকভাবে প্রাচীন ভারত ও প্রাচীন বাংলাকে ঐতিহাসিক কাহিনীতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর এসব সৃষ্টি এতটাই জীবন্ত যে তা পড়তে গিয়ে পাঠকের দৃষ্টি পথে আপনা হতেই ছবির মতো ভেসে ওঠে। আচার্য সুকুমার সেন লেখেন, 'শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ইনি ঐতিহাসিক ছিলেন না। ভারতবর্ষের ইতিহাস উদ্ধারের কোন মহৎ ব্রত ইনি অবলম্বন করেননি। শরদিন্দুবাবু ছিলেন ইতিহাস-পিপাসু পাঠক, ভক্ত। আগেকার লেখকদের মতো শরদিন্দুবাবু দূরবীনের চোঙার মধ্যে দিয়ে কিংবা নাকে দূরদৃষ্টির চশমা এঁটে ইতিহাস হাতড়ান নি বা খোঁজ চালান নি। ইনি যেন চোখে কনট্যাকট লেন্স লাগিয়ে ইতিহাসকে হাতের নাগালে পেয়েছিলেন। ‌ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত শরদিন্দুবাবুর ঐতিহাসিক গল্পের কালপ্রসার। এর মধ্যে কোথাও গল্পের পরিবেশ গল্পরসের তীক্ষ্ণতার হানি করে নি। দূরের দৃশ্যপটকে নিকটে এনে দূরের মানুষকে কাছের মানুষ করতে পেরেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই ‌ ঐতিহাসিক গল্প লেখক রূপে তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব।' পাঁচটি উপন্যাস আর সতেরটি গল্প নিয়ে শরদিন্দুর ঐতিহাসিক কাহিনী। সংক্ষিপ্ত আকারে উপন্যাস গুলো নিয়ে এর আগে আলোচনা করেছিলাম। এবার তাঁর রচিত ইতিহাস নির্ভর গল্প গুলো নিয়ে দু'চার কথায় আলোচনার চেষ্টা করব। বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধযুগের ইতিহাসের প্রতি শরদিন্দুর টান একটু বেশি ছিল। এছাড়া মহাকবি কালিদাস, গুপ্ত কাল‌, পাল আমল, শ্রীচৈতন্য ও শিবাজী মহারাজের সমসাময়িক কাল তাঁর রচিত ঐতিহাসিক কাহিনীর বিষয়বস্তু ছিল। সতেরটি ঐতিহাসিক গল্পের মধ্যে পাঁচটি বৌদ্ধ কালের। তাঁর ঐতিহাসিক গল্প গুলোর মধ্যে দেখা যায় লেখকের জাতিস্মর কল্পনা। তিনি জ্যোতিষ চর্চায় বিশ্বাসী ছিলেন। হয়তো জাতিস্মরতাইও বিশ্বাস করতেন। সুকুমার সেন লেখেন, 'শরদিন্দু বাবু জাতিস্মর ঘটনায় বিশ্বাসী ছিলেন কি না ঠিক জানি না―বোধ হয় ছিলেন। কিন্তু সে যাই হোক তিনি যে গল্প রচনায় স্বীয় জাতিস্মরতা প্রতিপন্ন করেছেন তা সহৃদয় পাঠক অবশ্যই স্বীকার করবেন। শরদিন্দুবাবুর জাতিস্মর সাহিত্যদৃষ্টিই ভূতকালের ভূতত্ত্বের সপিণ্ডীকরণ করেছে।' "দূর-কালের ইতিহাসকে বর্তমান কালের গোচরে আনবার যে অভিনব কৌশলটি শরদিন্দুবাবু অবলম্বন করেছেন তা হল জাতিস্মর কল্পনা" অমিতাভ, মৃৎপ্রদীপ, রুমাহরণ ― এই তিনটি গল্প জাতিস্মর শরদিন্দু নিজেকে সেই কালে স্থাপন করে আমাদের গল্প বলেছেন। এ যেন তাঁ-ই পূর্ব পূর্ব জীবনের অভিজ্ঞতা। 'অমিতাভ' শাক্যমুনি বুদ্ধের এক টুকরো কিংবদন্তী। মগধরাজ অজাতশত্রুর সময়কালীন। 'মৃৎপ্রদীপ' জাতিস্মর গল্প গুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। শরদিন্দুর প্রথম জীবন কেটেছিল দক্ষিণ মগধ অঞ্চলে। তিনি মুঙ্গেরে থাকতেন। রাজগৃহ (রাজগির), পাটলিপুত্র (পাটনা), শ্রাবস্তী প্রভৃতি অঞ্চল সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা ছিল। 'মৃৎপ্রদীপ' - গুপ্তযুগের সূচনাকালীন সময়ের কাহিনী। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত, কুমারদেবী, সমুদ্রগুপ্ত ও চন্দ্রবর্মা এই কাহিনীর ঐতিহাসিক চরিত্র। মূল আখ্যান লেখকের কল্পনা। ‌গল্পের বুননে এই কাহিনী আমাদের সেই কালে নিয়ে যায়। 'রুমাহরণ' এর সূচনায় মৃৎপ্রদীপ গল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত কিন্তু এর কাহিনী প্রাগৈতিহাসিক যুগের। 'রক্ত-সন্ধ্যা' ও 'চুয়াচন্দন' ― পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর কাহিনী। এ দুটি তাঁর ঐতিহাসিক গল্পের মধ্যে অন্যতম সেরা রচনা। 'রক্ত-সন্ধ্যা' দক্ষিণ ভারতের কালিকট উপকূলের আখ্যান। মুর ও পর্তুগিজ সংঘাত। যা সাম্প্রতিক কালে এসে মিশে গেছে। এখানে বণিকের বেশধারী দস্যু ভাস্কো-দা-গামার চরিত্রটি ঐতিহাসিক। 'চুয়াচন্দন' শ্রীচৈতন্যের সন্ন্যাস পূর্ব জীবনের কাহিনী যখন তিনি নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিত ছিলেন। ‌এই গল্পটি শরদিন্দু ছ'বার লিখেছিলেন। নিজেই লিখেছেন যে 'চুয়াচন্দন' লিখে তিনি বিশেষ তৃপ্তি পেয়েছিলেন। 'সেতু' ―গল্পটি কনিষ্কের সময়কালীন উজ্জয়িনীর কল্পিত আখ্যান। 'মরু ও সঙ্ঘ' গল্পটি পড়লে বোঝা যায় বৌদ্ধ যুগের ইতিহাস নিয়ে শরদিন্দুর আগ্রহ ও পড়াশোনা কত উঁচুদরের ছিল। মধ্য এশিয়ায় এক সময় বৌদ্ধধর্ম সম্প্রসারিত হয়েছিল। প্রাচীন বাণিজ্য পথের ধারে বৌদ্ধ সঙ্ঘ গুলো বিংশ শতাব্দীর প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। আখ্যানে শরদিন্দু তারই অনুসন্ধান করেছেন। 'চন্দন মূর্তি' সমসাময়িক যুগের কাহিনী যার মূল রয়েছে সুদূর অতীতে। 'অষ্টম সর্গ' মহাকবি কালিদাসের কুমারসম্ভব মহাকাব্যের সূত্রে রচিত। এখানে শরদিন্দুর কাহিনী ইতিহাসের চেয়ে কবি কল্পনায় অধিক উদ্ভাসিত। 'বাঘের বাচ্চা' ―শিবাজী মহারাজের বাল্যকালের একঝলক মাত্র। শিবাজীর কাহিনীর প্রতি তাঁর আগ্রহ সদাশিবের গল্পগুলোতে বিস্তৃত। 'তক্ত মোবারক' মুঘল যুগের শাহ সুজার কাহিনী। যেখানে লেখক গল্পের মধ্যে ঐতিহাসিক সত্যের খোঁজ চালিয়েছেন। 'ইন্দ্রতূলক' ―প্রাচীন আর্যদের নিয়ে একটি কল্পিত আখ্যান। 'আদিম' গল্পটি বলা যায় ভারতীয় প্রেক্ষাপটে প্রাচীন মিশরের কাহিনী। 'প্রাগজ্যোতিষ' প্রাচীন আর্য বসতি স্থাপন ও বিস্তার বিষয়ে রচিত। 'বিষকন্যা' গল্পটি খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর। 'বহু যুগের ওপার হতে' ―উপন্যাসটি এই গল্পের বিস্তৃত রূপ। 'শঙ্খ কঙ্কণ' ও 'রেবা রোধসি' ― সুলতানি যুগের আলাউদ্দিন খিলজির সময়কালীন প্রেক্ষাপটে রচিত। সুলতান আলাউদ্দিনের দক্ষিণে সাম্রাজ্য বিস্তারে সেখানকার প্রতিরোধ, পরাজয়, প্রতিহিংসা ও আত্মরক্ষার আখ্যান এই দুটি গল্পে। গোয়েন্দা ও অলৌকিক কাহিনী, সামাজিক গল্প ও উপন্যাস, কবিতা, চিত্রনাট্য ― ইত্যাদি বহু রচনার মধ্যে ঐতিহাসিক গল্প ও উপন্যাস গুলোই শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা একথা পাঠক মহলে সুবিদিত। ইতিহাসের রোমাঞ্চে ভরা ঐতিহাসিক কাহিনী লিখেই তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এগুলো বাদে আর কিছু না লিখলেও তিনি বাঙালি পাঠকের দরবারে চিরকাল উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত থাকতেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কোনো কথা কভু হারাও নি তুমি সব তুমি তুলে লও কথা কও, কথা কও। তুমি জীবনের পাতায় পাতায় অদৃশ্য লিপি দিয়া পিতামহদের কাহিনী লিখিছ মজ্জায় মিশাইয়া। যাহাদের কথা ভুলেছে সবাই তুমি তাহাদের কিছু ভোল নাই, বিস্মৃত যত নীরব কাহিনী স্তম্ভিত হয়ে বও। ভাষা দাও তারে হে মুনি অতীত, কথা কও, কথা কও। আমাদের মৌনী অতীতকে যিনি ভাষা দিয়েছেন ঐতিহাসিক কাহিনীর সেই জাদুকরের জন্মদিনে তাঁকে এই পাঠকের বিনম্র প্রণাম জানাই তথ্যসূত্র― ১) ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়; ২) দিনের পরে দিন যে গেল - সুকুমার সেন।

6 hrs ago
user_Pingla Barta
Pingla Barta
Mill Owner পিংলা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
6 hrs ago
ef95cb15-43cc-4079-b099-1dca21b16a43

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক গল্প সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর স্রষ্টা ঐতিহাসিক কাহিনী রচনায় আগ্রহী হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের লেখার অনুপ্রেরণায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, শশিচন্দ্র দত্ত, হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, যদুনাথ ভট্টাচার্য, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ― এঁদের লেখা ইতিহাস নির্ভর গল্প উপন্যাস এক বঙ্কিম ছাড়া বাঙালি পাঠকের চিত্তে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি। রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরানীর হাট' ও 'রাজর্ষি' উপন্যাস দুটি যশোরের বসন্ত রায় ও প্রতাপাদিত্য এবং গোবিন্দ মাণিক্যের সমসাময়িক ইতিহাস আশ্রিত কাহিনী। 'রাজর্ষি' কবিগুরুর একটি জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তুলনায় 'বৌঠাকুরানীর হাট' কিছুটা দুর্বল রচনা। ‌ ঐতিহাসিক রোমান্স সৃষ্টিতে বঙ্কিমচন্দ্রের সার্থক দক্ষতা শরদিন্দুকে উৎসাহিত করে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, 'ঐতিহাসিক গল্প লেখার প্রেরণা পাই বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে। বঙ্কিমচন্দ্রের কাছ থেকে শিখেছি ভাষার মধ্যেই বাতাবরণ সৃষ্টি করা যায় ― বিশেষ করে ঐতিহাসিক বাতাবরণ। ইতিহাস থেকে চরিত্রগুলো কেবল নিয়েছি; কিন্তু গল্প আমার নিজের। সর্বদা লক্ষ্য রেখেছি কি করে সেই যুগকে ফুটিয়ে তোলা যায়। যে সময়কার গল্প তখনকার রীতি নীতি, আচার ব্যবহার, অস্ত্র, আহার, বাড়িঘর ইত্যাদি খুঁটিনাটি সব না জানলে যুগকে ফুটিয়ে তোলা যায় না। এরপর আছে ভাষা। ‌ ঐতিহাসিক গল্পের ভাষাও হবে যুগোপযোগী।' ঐতিহাসিক গল্প উপন্যাস সৃষ্টিতে শরদিন্দু এক্ষেত্রে তাঁর অনুপ্রেরণা বঙ্কিমচন্দ্রকেও ছাপিয়ে গেছেন। আজ বাংলা ঐতিহাসিক সাহিত্যের কাহিনীকার হিসেবে পাঠকের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ইতিহাস আশ্রিত গল্প উপন্যাস লিখে তাঁর মতো পাঠকপ্রিয়তা আর কেউ লাভ করেননি। বলা যায় এক্ষেত্রে তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর আগের অধিকাংশ লেখকের লেখায় প্রাধান্য পেয়েছিল বিশেষ করে মধ্যযুগের কাহিনী। শরদিন্দুই প্রথম সার্থকভাবে প্রাচীন ভারত ও প্রাচীন বাংলাকে ঐতিহাসিক কাহিনীতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর এসব সৃষ্টি এতটাই জীবন্ত যে তা পড়তে গিয়ে পাঠকের দৃষ্টি পথে আপনা হতেই ছবির মতো ভেসে ওঠে। আচার্য সুকুমার সেন লেখেন, 'শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ইনি ঐতিহাসিক ছিলেন না। ভারতবর্ষের ইতিহাস উদ্ধারের কোন মহৎ ব্রত ইনি অবলম্বন করেননি। শরদিন্দুবাবু ছিলেন ইতিহাস-পিপাসু পাঠক, ভক্ত। আগেকার লেখকদের মতো শরদিন্দুবাবু দূরবীনের চোঙার মধ্যে দিয়ে কিংবা নাকে দূরদৃষ্টির চশমা এঁটে ইতিহাস হাতড়ান নি বা খোঁজ চালান নি। ইনি যেন চোখে কনট্যাকট লেন্স লাগিয়ে ইতিহাসকে হাতের নাগালে পেয়েছিলেন। ‌ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত শরদিন্দুবাবুর ঐতিহাসিক গল্পের কালপ্রসার। এর মধ্যে কোথাও গল্পের পরিবেশ গল্পরসের তীক্ষ্ণতার হানি করে নি। দূরের দৃশ্যপটকে নিকটে এনে দূরের মানুষকে কাছের মানুষ করতে পেরেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই ‌ ঐতিহাসিক গল্প লেখক রূপে তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব।' পাঁচটি উপন্যাস আর সতেরটি গল্প নিয়ে শরদিন্দুর ঐতিহাসিক কাহিনী। সংক্ষিপ্ত আকারে উপন্যাস গুলো নিয়ে এর আগে আলোচনা করেছিলাম। এবার তাঁর রচিত ইতিহাস নির্ভর গল্প গুলো নিয়ে দু'চার কথায় আলোচনার চেষ্টা করব। বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধযুগের ইতিহাসের প্রতি শরদিন্দুর টান একটু বেশি ছিল। এছাড়া মহাকবি কালিদাস, গুপ্ত কাল‌, পাল আমল, শ্রীচৈতন্য ও শিবাজী মহারাজের সমসাময়িক কাল তাঁর রচিত ঐতিহাসিক কাহিনীর বিষয়বস্তু ছিল। সতেরটি ঐতিহাসিক গল্পের মধ্যে পাঁচটি বৌদ্ধ কালের। তাঁর ঐতিহাসিক গল্প গুলোর মধ্যে দেখা যায় লেখকের জাতিস্মর কল্পনা। তিনি জ্যোতিষ চর্চায় বিশ্বাসী ছিলেন। হয়তো জাতিস্মরতাইও বিশ্বাস করতেন। সুকুমার সেন লেখেন, 'শরদিন্দু বাবু জাতিস্মর ঘটনায় বিশ্বাসী ছিলেন কি না ঠিক জানি না―বোধ হয় ছিলেন। কিন্তু সে যাই হোক তিনি যে গল্প রচনায় স্বীয় জাতিস্মরতা প্রতিপন্ন করেছেন তা সহৃদয় পাঠক অবশ্যই স্বীকার করবেন। শরদিন্দুবাবুর জাতিস্মর সাহিত্যদৃষ্টিই ভূতকালের ভূতত্ত্বের সপিণ্ডীকরণ করেছে।' "দূর-কালের ইতিহাসকে বর্তমান কালের গোচরে আনবার যে অভিনব কৌশলটি শরদিন্দুবাবু অবলম্বন করেছেন তা হল জাতিস্মর কল্পনা" অমিতাভ, মৃৎপ্রদীপ, রুমাহরণ ― এই তিনটি গল্প জাতিস্মর শরদিন্দু নিজেকে সেই কালে স্থাপন করে আমাদের গল্প বলেছেন। এ যেন তাঁ-ই পূর্ব পূর্ব জীবনের অভিজ্ঞতা। 'অমিতাভ' শাক্যমুনি বুদ্ধের এক টুকরো কিংবদন্তী। মগধরাজ অজাতশত্রুর সময়কালীন। 'মৃৎপ্রদীপ' জাতিস্মর গল্প গুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। শরদিন্দুর প্রথম জীবন কেটেছিল দক্ষিণ মগধ অঞ্চলে। তিনি মুঙ্গেরে থাকতেন। রাজগৃহ (রাজগির), পাটলিপুত্র (পাটনা), শ্রাবস্তী প্রভৃতি অঞ্চল সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা ছিল। 'মৃৎপ্রদীপ' - গুপ্তযুগের সূচনাকালীন সময়ের কাহিনী। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত, কুমারদেবী, সমুদ্রগুপ্ত ও চন্দ্রবর্মা এই কাহিনীর ঐতিহাসিক চরিত্র। মূল আখ্যান লেখকের কল্পনা। ‌গল্পের বুননে এই কাহিনী আমাদের সেই কালে নিয়ে যায়। 'রুমাহরণ' এর সূচনায় মৃৎপ্রদীপ গল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত কিন্তু এর কাহিনী প্রাগৈতিহাসিক যুগের। 'রক্ত-সন্ধ্যা' ও 'চুয়াচন্দন' ― পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর কাহিনী। এ দুটি তাঁর ঐতিহাসিক গল্পের মধ্যে অন্যতম সেরা রচনা। 'রক্ত-সন্ধ্যা' দক্ষিণ ভারতের কালিকট উপকূলের আখ্যান। মুর ও পর্তুগিজ সংঘাত। যা সাম্প্রতিক কালে এসে মিশে গেছে। এখানে বণিকের বেশধারী দস্যু ভাস্কো-দা-গামার চরিত্রটি ঐতিহাসিক। 'চুয়াচন্দন' শ্রীচৈতন্যের সন্ন্যাস পূর্ব জীবনের কাহিনী যখন তিনি নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিত ছিলেন। ‌এই গল্পটি শরদিন্দু ছ'বার লিখেছিলেন। নিজেই লিখেছেন যে 'চুয়াচন্দন' লিখে তিনি বিশেষ তৃপ্তি পেয়েছিলেন। 'সেতু' ―গল্পটি কনিষ্কের সময়কালীন উজ্জয়িনীর কল্পিত আখ্যান। 'মরু ও সঙ্ঘ' গল্পটি পড়লে বোঝা যায় বৌদ্ধ যুগের ইতিহাস নিয়ে শরদিন্দুর আগ্রহ ও পড়াশোনা কত উঁচুদরের ছিল। মধ্য এশিয়ায় এক সময় বৌদ্ধধর্ম সম্প্রসারিত হয়েছিল। প্রাচীন বাণিজ্য পথের ধারে বৌদ্ধ সঙ্ঘ গুলো বিংশ শতাব্দীর প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। আখ্যানে শরদিন্দু তারই অনুসন্ধান করেছেন। 'চন্দন মূর্তি' সমসাময়িক যুগের কাহিনী যার মূল রয়েছে সুদূর অতীতে। 'অষ্টম সর্গ' মহাকবি কালিদাসের কুমারসম্ভব মহাকাব্যের সূত্রে রচিত। এখানে শরদিন্দুর কাহিনী ইতিহাসের চেয়ে কবি কল্পনায় অধিক উদ্ভাসিত। 'বাঘের বাচ্চা' ―শিবাজী মহারাজের বাল্যকালের একঝলক মাত্র। শিবাজীর কাহিনীর প্রতি তাঁর আগ্রহ সদাশিবের গল্পগুলোতে বিস্তৃত। 'তক্ত মোবারক' মুঘল যুগের শাহ সুজার কাহিনী। যেখানে লেখক গল্পের মধ্যে ঐতিহাসিক সত্যের খোঁজ চালিয়েছেন। 'ইন্দ্রতূলক' ―প্রাচীন আর্যদের নিয়ে একটি কল্পিত আখ্যান। 'আদিম' গল্পটি বলা যায় ভারতীয় প্রেক্ষাপটে প্রাচীন মিশরের কাহিনী। 'প্রাগজ্যোতিষ' প্রাচীন আর্য বসতি স্থাপন ও বিস্তার বিষয়ে রচিত। 'বিষকন্যা' গল্পটি খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর। 'বহু যুগের ওপার হতে' ―উপন্যাসটি এই গল্পের বিস্তৃত রূপ। 'শঙ্খ কঙ্কণ' ও 'রেবা রোধসি' ― সুলতানি যুগের আলাউদ্দিন খিলজির সময়কালীন প্রেক্ষাপটে রচিত। সুলতান আলাউদ্দিনের দক্ষিণে সাম্রাজ্য বিস্তারে সেখানকার প্রতিরোধ, পরাজয়, প্রতিহিংসা ও আত্মরক্ষার আখ্যান এই দুটি গল্পে। গোয়েন্দা ও অলৌকিক কাহিনী, সামাজিক গল্প ও উপন্যাস, কবিতা, চিত্রনাট্য ― ইত্যাদি বহু রচনার মধ্যে ঐতিহাসিক গল্প ও উপন্যাস গুলোই শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা একথা পাঠক মহলে সুবিদিত। ইতিহাসের রোমাঞ্চে ভরা ঐতিহাসিক কাহিনী লিখেই তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এগুলো বাদে আর কিছু না লিখলেও তিনি বাঙালি পাঠকের দরবারে চিরকাল উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত থাকতেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কোনো কথা কভু হারাও নি তুমি সব তুমি তুলে লও শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক গল্প সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর স্রষ্টা ঐতিহাসিক কাহিনী রচনায় আগ্রহী হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের লেখার অনুপ্রেরণায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, শশিচন্দ্র দত্ত, হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, যদুনাথ ভট্টাচার্য, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ― এঁদের লেখা ইতিহাস নির্ভর গল্প উপন্যাস এক বঙ্কিম ছাড়া বাঙালি পাঠকের চিত্তে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি। রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরানীর হাট' ও 'রাজর্ষি' উপন্যাস দুটি যশোরের বসন্ত রায় ও প্রতাপাদিত্য এবং গোবিন্দ মাণিক্যের সমসাময়িক ইতিহাস আশ্রিত কাহিনী। 'রাজর্ষি' কবিগুরুর একটি জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তুলনায় 'বৌঠাকুরানীর হাট' কিছুটা দুর্বল রচনা। ‌ ঐতিহাসিক রোমান্স সৃষ্টিতে বঙ্কিমচন্দ্রের সার্থক দক্ষতা শরদিন্দুকে উৎসাহিত করে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, 'ঐতিহাসিক গল্প লেখার প্রেরণা পাই বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে। বঙ্কিমচন্দ্রের কাছ থেকে শিখেছি ভাষার মধ্যেই বাতাবরণ সৃষ্টি করা যায় ― বিশেষ করে ঐতিহাসিক বাতাবরণ। ইতিহাস থেকে চরিত্রগুলো কেবল নিয়েছি; কিন্তু গল্প আমার নিজের। সর্বদা লক্ষ্য রেখেছি কি করে সেই যুগকে ফুটিয়ে তোলা যায়। যে সময়কার গল্প তখনকার রীতি নীতি, আচার ব্যবহার, অস্ত্র, আহার, বাড়িঘর ইত্যাদি খুঁটিনাটি সব না জানলে যুগকে ফুটিয়ে তোলা যায় না। এরপর আছে ভাষা। ‌ ঐতিহাসিক গল্পের ভাষাও হবে যুগোপযোগী।' ঐতিহাসিক গল্প উপন্যাস সৃষ্টিতে শরদিন্দু এক্ষেত্রে তাঁর অনুপ্রেরণা বঙ্কিমচন্দ্রকেও ছাপিয়ে গেছেন। আজ বাংলা ঐতিহাসিক সাহিত্যের কাহিনীকার হিসেবে পাঠকের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ইতিহাস আশ্রিত গল্প উপন্যাস লিখে তাঁর মতো পাঠকপ্রিয়তা আর কেউ লাভ করেননি। বলা যায় এক্ষেত্রে তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর আগের অধিকাংশ লেখকের লেখায় প্রাধান্য পেয়েছিল বিশেষ করে মধ্যযুগের কাহিনী। শরদিন্দুই প্রথম সার্থকভাবে প্রাচীন ভারত ও প্রাচীন বাংলাকে ঐতিহাসিক কাহিনীতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর এসব সৃষ্টি এতটাই জীবন্ত যে তা পড়তে গিয়ে পাঠকের দৃষ্টি পথে আপনা হতেই ছবির মতো ভেসে ওঠে। আচার্য সুকুমার সেন লেখেন, 'শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। ইনি ঐতিহাসিক ছিলেন না। ভারতবর্ষের ইতিহাস উদ্ধারের কোন মহৎ ব্রত ইনি অবলম্বন করেননি। শরদিন্দুবাবু ছিলেন ইতিহাস-পিপাসু পাঠক, ভক্ত। আগেকার লেখকদের মতো শরদিন্দুবাবু দূরবীনের চোঙার মধ্যে দিয়ে কিংবা নাকে দূরদৃষ্টির চশমা এঁটে ইতিহাস হাতড়ান নি বা খোঁজ চালান নি। ইনি যেন চোখে কনট্যাকট লেন্স লাগিয়ে ইতিহাসকে হাতের নাগালে পেয়েছিলেন। ‌ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত শরদিন্দুবাবুর ঐতিহাসিক গল্পের কালপ্রসার। এর মধ্যে কোথাও গল্পের পরিবেশ গল্পরসের তীক্ষ্ণতার হানি করে নি। দূরের দৃশ্যপটকে নিকটে এনে দূরের মানুষকে কাছের মানুষ করতে পেরেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই ‌ ঐতিহাসিক গল্প লেখক রূপে তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব।' পাঁচটি উপন্যাস আর সতেরটি গল্প নিয়ে শরদিন্দুর ঐতিহাসিক কাহিনী। সংক্ষিপ্ত আকারে উপন্যাস গুলো নিয়ে এর আগে আলোচনা করেছিলাম। এবার তাঁর রচিত ইতিহাস নির্ভর গল্প গুলো নিয়ে দু'চার কথায় আলোচনার চেষ্টা করব। বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধযুগের ইতিহাসের প্রতি শরদিন্দুর টান একটু বেশি ছিল। এছাড়া মহাকবি কালিদাস, গুপ্ত কাল‌, পাল আমল, শ্রীচৈতন্য ও শিবাজী মহারাজের সমসাময়িক কাল তাঁর রচিত ঐতিহাসিক কাহিনীর বিষয়বস্তু ছিল। সতেরটি ঐতিহাসিক গল্পের মধ্যে পাঁচটি বৌদ্ধ কালের। তাঁর ঐতিহাসিক গল্প গুলোর মধ্যে দেখা যায় লেখকের জাতিস্মর কল্পনা। তিনি জ্যোতিষ চর্চায় বিশ্বাসী ছিলেন। হয়তো জাতিস্মরতাইও বিশ্বাস করতেন। সুকুমার সেন লেখেন, 'শরদিন্দু বাবু জাতিস্মর ঘটনায় বিশ্বাসী ছিলেন কি না ঠিক জানি না―বোধ হয় ছিলেন। কিন্তু সে যাই হোক তিনি যে গল্প রচনায় স্বীয় জাতিস্মরতা প্রতিপন্ন করেছেন তা সহৃদয় পাঠক অবশ্যই স্বীকার করবেন। শরদিন্দুবাবুর জাতিস্মর সাহিত্যদৃষ্টিই ভূতকালের ভূতত্ত্বের সপিণ্ডীকরণ করেছে।' "দূর-কালের ইতিহাসকে বর্তমান কালের গোচরে আনবার যে অভিনব কৌশলটি শরদিন্দুবাবু অবলম্বন করেছেন তা হল জাতিস্মর কল্পনা" অমিতাভ, মৃৎপ্রদীপ, রুমাহরণ ― এই তিনটি গল্প জাতিস্মর শরদিন্দু নিজেকে সেই কালে স্থাপন করে আমাদের গল্প বলেছেন। এ যেন তাঁ-ই পূর্ব পূর্ব জীবনের অভিজ্ঞতা। 'অমিতাভ' শাক্যমুনি বুদ্ধের এক টুকরো কিংবদন্তী। মগধরাজ অজাতশত্রুর সময়কালীন। 'মৃৎপ্রদীপ' জাতিস্মর গল্প গুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। শরদিন্দুর প্রথম জীবন কেটেছিল দক্ষিণ মগধ অঞ্চলে। তিনি মুঙ্গেরে থাকতেন। রাজগৃহ (রাজগির), পাটলিপুত্র (পাটনা), শ্রাবস্তী প্রভৃতি অঞ্চল সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা ছিল। 'মৃৎপ্রদীপ' - গুপ্তযুগের সূচনাকালীন সময়ের কাহিনী। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত, কুমারদেবী, সমুদ্রগুপ্ত ও চন্দ্রবর্মা এই কাহিনীর ঐতিহাসিক চরিত্র। মূল আখ্যান লেখকের কল্পনা। ‌গল্পের বুননে এই কাহিনী আমাদের সেই কালে নিয়ে যায়। 'রুমাহরণ' এর সূচনায় মৃৎপ্রদীপ গল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত কিন্তু এর কাহিনী প্রাগৈতিহাসিক যুগের। 'রক্ত-সন্ধ্যা' ও 'চুয়াচন্দন' ― পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর কাহিনী। এ দুটি তাঁর ঐতিহাসিক গল্পের মধ্যে অন্যতম সেরা রচনা। 'রক্ত-সন্ধ্যা' দক্ষিণ ভারতের কালিকট উপকূলের আখ্যান। মুর ও পর্তুগিজ সংঘাত। যা সাম্প্রতিক কালে এসে মিশে গেছে। এখানে বণিকের বেশধারী দস্যু ভাস্কো-দা-গামার চরিত্রটি ঐতিহাসিক। 'চুয়াচন্দন' শ্রীচৈতন্যের সন্ন্যাস পূর্ব জীবনের কাহিনী যখন তিনি নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিত ছিলেন। ‌এই গল্পটি শরদিন্দু ছ'বার লিখেছিলেন। নিজেই লিখেছেন যে 'চুয়াচন্দন' লিখে তিনি বিশেষ তৃপ্তি পেয়েছিলেন। 'সেতু' ―গল্পটি কনিষ্কের সময়কালীন উজ্জয়িনীর কল্পিত আখ্যান। 'মরু ও সঙ্ঘ' গল্পটি পড়লে বোঝা যায় বৌদ্ধ যুগের ইতিহাস নিয়ে শরদিন্দুর আগ্রহ ও পড়াশোনা কত উঁচুদরের ছিল। মধ্য এশিয়ায় এক সময় বৌদ্ধধর্ম সম্প্রসারিত হয়েছিল। প্রাচীন বাণিজ্য পথের ধারে বৌদ্ধ সঙ্ঘ গুলো বিংশ শতাব্দীর প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। আখ্যানে শরদিন্দু তারই অনুসন্ধান করেছেন। 'চন্দন মূর্তি' সমসাময়িক যুগের কাহিনী যার মূল রয়েছে সুদূর অতীতে। 'অষ্টম সর্গ' মহাকবি কালিদাসের কুমারসম্ভব মহাকাব্যের সূত্রে রচিত। এখানে শরদিন্দুর কাহিনী ইতিহাসের চেয়ে কবি কল্পনায় অধিক উদ্ভাসিত। 'বাঘের বাচ্চা' ―শিবাজী মহারাজের বাল্যকালের একঝলক মাত্র। শিবাজীর কাহিনীর প্রতি তাঁর আগ্রহ সদাশিবের গল্পগুলোতে বিস্তৃত। 'তক্ত মোবারক' মুঘল যুগের শাহ সুজার কাহিনী। যেখানে লেখক গল্পের মধ্যে ঐতিহাসিক সত্যের খোঁজ চালিয়েছেন। 'ইন্দ্রতূলক' ―প্রাচীন আর্যদের নিয়ে একটি কল্পিত আখ্যান। 'আদিম' গল্পটি বলা যায় ভারতীয় প্রেক্ষাপটে প্রাচীন মিশরের কাহিনী। 'প্রাগজ্যোতিষ' প্রাচীন আর্য বসতি স্থাপন ও বিস্তার বিষয়ে রচিত। 'বিষকন্যা' গল্পটি খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর। 'বহু যুগের ওপার হতে' ―উপন্যাসটি এই গল্পের বিস্তৃত রূপ। 'শঙ্খ কঙ্কণ' ও 'রেবা রোধসি' ― সুলতানি যুগের আলাউদ্দিন খিলজির সময়কালীন প্রেক্ষাপটে রচিত। সুলতান আলাউদ্দিনের দক্ষিণে সাম্রাজ্য বিস্তারে সেখানকার প্রতিরোধ, পরাজয়, প্রতিহিংসা ও আত্মরক্ষার আখ্যান এই দুটি গল্পে। গোয়েন্দা ও অলৌকিক কাহিনী, সামাজিক গল্প ও উপন্যাস, কবিতা, চিত্রনাট্য ― ইত্যাদি বহু রচনার মধ্যে ঐতিহাসিক গল্প ও উপন্যাস গুলোই শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা একথা পাঠক মহলে সুবিদিত। ইতিহাসের রোমাঞ্চে ভরা ঐতিহাসিক কাহিনী লিখেই তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এগুলো বাদে আর কিছু না লিখলেও তিনি বাঙালি পাঠকের দরবারে চিরকাল উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত থাকতেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কোনো কথা কভু হারাও নি তুমি সব তুমি তুলে লও কথা কও, কথা কও। তুমি জীবনের পাতায় পাতায় অদৃশ্য লিপি দিয়া পিতামহদের কাহিনী লিখিছ মজ্জায় মিশাইয়া। যাহাদের কথা ভুলেছে সবাই তুমি তাহাদের কিছু ভোল নাই, বিস্মৃত যত নীরব কাহিনী স্তম্ভিত হয়ে বও। ভাষা দাও তারে হে মুনি অতীত, কথা কও, কথা কও। আমাদের মৌনী অতীতকে যিনি ভাষা দিয়েছেন ঐতিহাসিক কাহিনীর সেই জাদুকরের জন্মদিনে তাঁকে এই পাঠকের বিনম্র প্রণাম জানাই তথ্যসূত্র― ১) ঐতিহাসিক কাহিনী সমগ্র - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়; ২) দিনের পরে দিন যে গেল - সুকুমার সেন।

More news from পশ্চিমবঙ্গ and nearby areas
  • মঙ্গলবারে ফের ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগের দমকা ঝড়ো হাওয়া। বুধবার পহেলা এপ্রিল ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা ফের কমবে।
    1
    মঙ্গলবারে ফের ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগের দমকা ঝড়ো হাওয়া। বুধবার পহেলা এপ্রিল ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা ফের কমবে।
    user_Tarak Hari
    Tarak Hari
    Journalist - News Media House ডেবরা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    6 hrs ago
  • মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সুজয় হাজরা, খড়্গপুর (গ্রামীণ) কেন্দ্রে দীনেন রায়, শালবনী কেন্দ্রে শ্রীকান্ত মাহাত এবং গড়বেতা কেন্দ্রে উত্তরা সিংহ (হাজরা)-কে সমর্থনের ডাক দেওয়া হয়েছে। #MamataBanerjee #WestMedinipur #ElectionCampaign #BanglarVote #TMC #JoraPhool #BengalPolitics #VoteForChange #ElectionUpdate #PoliticalNews #Midnapore #Kharagpur #Salboni #Garbeta #BreakingNews #IndiaPolitics #TrendingNow #BengalNews #vote2026
    1
    মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সুজয় হাজরা, খড়্গপুর (গ্রামীণ) কেন্দ্রে দীনেন রায়, শালবনী কেন্দ্রে শ্রীকান্ত মাহাত এবং গড়বেতা কেন্দ্রে উত্তরা সিংহ (হাজরা)-কে সমর্থনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
#MamataBanerjee #WestMedinipur #ElectionCampaign #BanglarVote #TMC #JoraPhool #BengalPolitics #VoteForChange #ElectionUpdate #PoliticalNews
#Midnapore #Kharagpur #Salboni #Garbeta #BreakingNews #IndiaPolitics #TrendingNow #BengalNews #vote2026
    user_Kharagpur Jagoran
    Kharagpur Jagoran
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    36 min ago
  • #trainrestoration : रद्द ट्रेनों की वापसी: अप्रैल में फिर दौड़ेंगी शालीमार-मुंबई एक्सप्रेस। #southeasternrailway #kharagpurraildivision #shalimarlttkurlaexpress #restoration #kharagpurnews9
    1
    #trainrestoration : रद्द ट्रेनों की वापसी: अप्रैल में फिर दौड़ेंगी शालीमार-मुंबई एक्सप्रेस। #southeasternrailway #kharagpurraildivision #shalimarlttkurlaexpress  #restoration #kharagpurnews9
    user_KHARAGPUR NEWS 9
    KHARAGPUR NEWS 9
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    8 hrs ago
  • Post by Ankit Banerjee
    1
    Post by Ankit Banerjee
    user_Ankit Banerjee
    Ankit Banerjee
    কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    3 hrs ago
  • চন্দ্রকোনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা,হাতাহাতি
    1
    চন্দ্রকোনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা,হাতাহাতি
    user_Soumen Misra
    Soumen Misra
    সাংবাদিক Daspur - I, Medinipur West•
    19 hrs ago
  • রাহুলের মৃত্যু নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া
    1
    রাহুলের মৃত্যু নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া
    user_Prithis Banerjee
    Prithis Banerjee
    Photography studio কোলাঘাট, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    20 hrs ago
  • জঙ্গলমহলে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে এসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।আজ প্রার্থীদের প্রচারে আজ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা চন্দ্রকোনার বহড়া এলাকায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী মহিলাদের হাত ধরে নেচে উঠলেন তিনি।
    1
    জঙ্গলমহলে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে এসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।আজ  প্রার্থীদের প্রচারে আজ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা চন্দ্রকোনার বহড়া এলাকায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী মহিলাদের হাত ধরে নেচে উঠলেন তিনি।
    user_ARNAB
    ARNAB
    ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    17 min ago
  • সাধারণ মানুষ দিলীপ ঘোষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তবে তাঁদের একটাই আবেদন—প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবে রূপ পায়। দেওয়াল লিখনে লেখা রয়েছে, “দূষণ বন্ধ করতে চান, ভোট দিয়ে বিজেপিকে জেতান।” মানুষ বলছেন, শুধু কথা দিয়ে হবে না, বাস্তবে কাজ করে দেখাতে হবে। বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি তাদের আশা—পরিবেশ মুক্ত খড়গপুর গড়ে তুলতে হবে, নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবায়িত হয়। #Kharagpur #BJP #DilipGhosh #WallWriting #SadharanManush #PollutionFreeKharagpur #Election2026
    1
    সাধারণ মানুষ দিলীপ ঘোষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তবে তাঁদের একটাই আবেদন—প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবে রূপ পায়।
দেওয়াল লিখনে লেখা রয়েছে, “দূষণ বন্ধ করতে চান, ভোট দিয়ে বিজেপিকে জেতান।” মানুষ বলছেন, শুধু কথা দিয়ে হবে না, বাস্তবে কাজ করে দেখাতে হবে।
বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি তাদের আশা—পরিবেশ মুক্ত খড়গপুর গড়ে তুলতে হবে, নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবায়িত হয়।
#Kharagpur #BJP #DilipGhosh #WallWriting #SadharanManush #PollutionFreeKharagpur #Election2026
    user_Kharagpur Jagoran
    Kharagpur Jagoran
    Local News Reporter খড়গপুর 1, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ•
    18 hrs ago
View latest news on Shuru App
Download_Android
  • Terms & Conditions
  • Career
  • Privacy Policy
  • Blogs
Shuru, a product of Close App Private Limited.