ওড়িশার ঢেনকানল জেলার ভাপুর থানার অন্তর্গত এক নিভৃত জনপদ আজ এক গভীর স্তব্ধতায় ভুগছে। যে নদীটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবনজীবিকার অংশ, সেই নদীর পাড়ই সাক্ষী থাকল এক চরম পাশবিকতার। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষভাগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং আমাদের সভ্য সমাজের সুরক্ষার দাবির মুখে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন। এই প্রথম অংশে আমরা সেই রাতের বিভীষিকা এবং পরবর্তী উদ্ধারকার্যের এক মর্মন্তুদ চিত্র তুলে ধরব। রাত তখন গভীর। গ্রামবাংলার সাধারণ জনজীবনের মতোই ভাপুরের নির্জন রাস্তাগুলো নিঝুম হয়ে এসেছিল। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় এই পৈশাচিক ঘটনাটি। কোনো এক বিশেষ প্রয়োজনে বেরিয়ে আসা সেই মহিলাটি জানতেন না যে অন্ধকারের আড়ালে কিছু মানুষরূপী জানোয়ার তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একদল দুষ্কৃতী তাঁকে পথ আটকে নির্জন নদীর পাড়ে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর ওপর চলে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন ও গণধ*র্ষণ। কিন্তু অপরাধীদের নিষ্ঠুরতা কেবল এখানেই থেমে থাকেনি। তাদের পৈশাচিকতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যা শুনে যে কোনো মানুষের রক্ত হিম হয়ে যেতে বাধ্য। নির্যাতনের পর মহিলার পরিচয় মুছে ফেলতে বা তাঁকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল এবং গলার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়। মুখ বিকৃত করে দেওয়ার এই প্রবণতা অপরাধীদের চরম আক্রোশ ও বিকৃত মানসিকতারই পরিচয় দেয়। ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে, যখন স্থানীয় গ্রামবাসী ও জেলেরা নদীর ধারে যেতে শুরু করেন, তখন তাঁদের নজরে আসে একটি নিথর দেহ। প্রথমে মনে করা হয়েছিল এটি কেবল একটি মৃতদে*হ, কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা যায় এক নারী যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তাঁর সারা শরীর রক্তে ভেজা, মুখ চেনার কোনো উপায় নেই। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সেই দৃশ্য এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বহু মানুষ ভয়ে ও শিউরে উঠে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় স্থানীয় ভাপুর থানায়। কিন্তু সেই মুহূর্তে আসল লড়াই শুরু হয় জীবনের সঙ্গে। মহিলা তখনও ধুঁকছিলেন, প্রতিটা মুহূর্ত ছিল তাঁর বাঁচার লড়াই। কিন্তু সেখানেই ধরা পড়ে আমাদের সরকারি ব্যবস্থার এক অত্যন্ত করুণ ও নগ্ন রূপ। ঘটনার বীভৎসতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বারবার ফোন করা সত্ত্বেও সরকারি ‘১০৮’ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র কাছে থাকা সত্ত্বেও কোনো দ্রুত যানবাহনের ব্যবস্থা করা যায়নি। অবশেষে কোনো উপায় না দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি হাত-টানা ট্রলি বা ঠেলাগাড়ির জোগাড় করেন। রক্তাক্ত, অর্ধমৃত সেই মহিলাকে সেই ট্রলিতে শুইয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরাই ঠেলতে ঠেলতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। আধুনিক ভারতের ডিজিটাল উন্নতির আস্ফালনের মাঝে এই দৃশ্যটি ছিল চরম বৈপরীত্যের। একজন মুমূর্ষু রোগীকে ট্রলিতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সেই ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সারা ওড়িশা জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও জরুরি পরিষেবা আজও কতটা ভঙ্গুর। স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল যে সেখান থেকে তাঁকে সরাসরি কটকের এসসিবি (SCB) মেডিকেল কলেজ বা বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়। সেখানে তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের আঘাত এতটাই গভীর যে প্লাস্টিক সার্জারি বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ছাড়া তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অসম্ভব। ওড়িশার এই শান্ত জনপদ এখন কেবল আতঙ্কের নয়, বরং এক তীব্র অপমানের গ্লানিতেও ভুগছে—যেখানে এক নারীকে কেবল পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়নি, বরং তাঁর প্রাণ বাঁচাতেও সমাজকে আদিম উপায়ের আশ্রয় নিতে হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত শুরু হলেও, অপরাধীদের নাগাল পাওয়া বা তাদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা এখনও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী অংশে আমরা আলোচনা করব কেন বারবার ওড়িশার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকগুলো ঠিক কী। ঢেনকানলের এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ওড়িশার প্রশাসনিক নেতৃত্বে এক বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবের জমিতে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, পরিসংখ্যান এক অন্য গল্পের কথা বলছে। ২০২৫ সালের বার্ষিক ক্রাইম রিপোর্ট এবং সম্প্রতি বিধানসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ওড়িশায় নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের গ্রাফ নিম্নমুখী হওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বছরে প্রায় ৩৩ হাজারেরও বেশি নারী নির্যাতনের মামলা নথিভুক্ত হওয়া একটি রাজ্যের জন্য কেবল উদ্বেগের নয়, বরং লজ্জার। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন, তখন এই ধরনের পৈশাচিক ঘটনা তাঁর প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি করেছে। ভাপুরের এই ঘটনার সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়টি হলো চিকিৎসা পরিষেবার চরম ব্যর্থতা। ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা স্মার্ট ওড়িশার যে স্বপ্ন সাধারণ মানুষকে দেখানো হয়, তা যে গ্রামের মেঠো রাস্তায় এসে মুখ থুবড়ে পড়ে, ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সের অনুপস্থিতি তারই প্রমাণ। একজন ধর্ষিতা এবং গুরুতর আহত মহিলাকে যখন চিকিৎসার জন্য ট্রলিতে করে নিয়ে যেতে হয়, তখন বুঝতে হবে যে পরিকাঠামোর উন্নয়ন কেবল বড় বড় শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ফোন করার ৩০ মিনিটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর কথা থাকলেও, কেন সেই রাতে ভাপুরে কোনো সাহায্য পৌঁছাল না, তার কোনো সদুত্তর আজও স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে নেই। এই অবহেলা কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, এটি একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতা যা একজন মানুষের বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকারকে অস্বীকার করে। রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, প্রশাসন কেবল প্রচারসর্বস্ব হয়ে উঠেছে এবং গ্রামীণ এলাকায় পুলিশের টহলদারি বা গোয়েন্দা তৎপরতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ওড়িশার পুলিশের একটি বড় সমস্যা হলো নিম্ন দণ্ডদানের হার বা কনভিকশন রেট। অপরাধীরা জানে যে, আইনি মারপ্যাঁচে এবং প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত তারা ছাড়া পেয়ে যাবে। ঢেনকানলের এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত 'অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের' বিরুদ্ধে মামলা করে দায় সারলেও, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে যে ফরেনসিক তৎপরতার প্রয়োজন ছিল, তা প্রথম কয়েক ঘণ্টায় দেখা যায়নি। অপরাধ সংগঠনের পর অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, ভাপুরের এই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত নদীর পাড় বা নির্জন রাস্তাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা বা সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না? গ্রামীণ পুলিশিং বা গ্রামরক্ষী ব্যবস্থার যে পরিকাঠামো আগে সক্রিয় ছিল, তা এখন কার্যত নিষ্ক্রিয়। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা তদন্তের আশ্বাস দিলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মানো কঠিন হয়ে পড়ছে যে তাঁরা সুরক্ষিত। সরকারের পক্ষ থেকে নির্যাতিতাকে আর্থিক সাহায্য বা ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করা সহজ, কিন্তু যে নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামোর অভাবে তাঁর এই দশা হলো, সেই ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করলে ঢেনকানল বা ভাপুরের মতো ঘটনা আগামী দিনেও যে ঘটবে না, তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না। এই প্রশাসনিক উদাসীনতা অপরাধীদের আরও বেশি সাহসী করে তুলছে, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ ঘরের নারীদের। পরবর্তী এবং শেষ অংশে আমরা আলোচনা করব এই ঘটনার সামাজিক প্রভাব এবং কেন আমাদের বিচারব্যবস্থা ও মানসিকতার পরিবর্তন আজ সময়ের দাবি।
ওড়িশার ঢেনকানল জেলার ভাপুর থানার অন্তর্গত এক নিভৃত জনপদ আজ এক গভীর স্তব্ধতায় ভুগছে। যে নদীটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবনজীবিকার অংশ, সেই নদীর পাড়ই সাক্ষী থাকল এক চরম পাশবিকতার। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষভাগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং আমাদের সভ্য সমাজের সুরক্ষার দাবির মুখে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন। এই প্রথম অংশে আমরা সেই রাতের বিভীষিকা এবং পরবর্তী উদ্ধারকার্যের এক মর্মন্তুদ চিত্র তুলে ধরব। রাত তখন গভীর। গ্রামবাংলার সাধারণ জনজীবনের মতোই ভাপুরের নির্জন রাস্তাগুলো নিঝুম হয়ে এসেছিল। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় এই পৈশাচিক ঘটনাটি। কোনো এক বিশেষ প্রয়োজনে বেরিয়ে আসা সেই মহিলাটি জানতেন না যে অন্ধকারের আড়ালে কিছু মানুষরূপী জানোয়ার তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একদল দুষ্কৃতী তাঁকে পথ আটকে নির্জন নদীর পাড়ে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর ওপর চলে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন ও গণধ*র্ষণ। কিন্তু অপরাধীদের নিষ্ঠুরতা কেবল এখানেই থেমে থাকেনি। তাদের পৈশাচিকতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যা শুনে যে কোনো মানুষের রক্ত হিম হয়ে যেতে বাধ্য। নির্যাতনের পর মহিলার পরিচয় মুছে ফেলতে বা তাঁকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল এবং গলার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়। মুখ বিকৃত করে দেওয়ার এই প্রবণতা অপরাধীদের চরম আক্রোশ ও বিকৃত মানসিকতারই পরিচয় দেয়। ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে, যখন স্থানীয় গ্রামবাসী ও জেলেরা নদীর ধারে যেতে শুরু করেন, তখন তাঁদের নজরে আসে একটি নিথর দেহ। প্রথমে মনে করা হয়েছিল এটি কেবল একটি মৃতদে*হ, কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা যায় এক নারী যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তাঁর সারা শরীর রক্তে ভেজা, মুখ চেনার কোনো উপায় নেই। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সেই দৃশ্য এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বহু মানুষ ভয়ে ও শিউরে উঠে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় স্থানীয় ভাপুর থানায়। কিন্তু সেই মুহূর্তে আসল লড়াই শুরু হয় জীবনের সঙ্গে। মহিলা তখনও ধুঁকছিলেন, প্রতিটা মুহূর্ত ছিল তাঁর বাঁচার লড়াই। কিন্তু সেখানেই ধরা পড়ে আমাদের সরকারি ব্যবস্থার এক অত্যন্ত করুণ ও নগ্ন রূপ। ঘটনার বীভৎসতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বারবার ফোন করা সত্ত্বেও সরকারি ‘১০৮’ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র কাছে থাকা সত্ত্বেও কোনো দ্রুত যানবাহনের ব্যবস্থা করা যায়নি। অবশেষে কোনো উপায় না দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি হাত-টানা ট্রলি বা ঠেলাগাড়ির জোগাড় করেন। রক্তাক্ত, অর্ধমৃত সেই মহিলাকে সেই ট্রলিতে শুইয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরাই ঠেলতে ঠেলতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। আধুনিক ভারতের ডিজিটাল উন্নতির আস্ফালনের মাঝে এই দৃশ্যটি ছিল চরম বৈপরীত্যের। একজন মুমূর্ষু রোগীকে ট্রলিতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সেই ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সারা ওড়িশা জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও জরুরি পরিষেবা আজও কতটা ভঙ্গুর। স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল যে সেখান থেকে তাঁকে সরাসরি কটকের এসসিবি (SCB) মেডিকেল কলেজ বা বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়। সেখানে তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের আঘাত এতটাই গভীর যে প্লাস্টিক সার্জারি বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ছাড়া তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অসম্ভব। ওড়িশার এই শান্ত জনপদ এখন কেবল আতঙ্কের নয়, বরং এক তীব্র অপমানের গ্লানিতেও ভুগছে—যেখানে এক নারীকে কেবল পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়নি, বরং তাঁর প্রাণ বাঁচাতেও সমাজকে আদিম উপায়ের আশ্রয় নিতে হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত শুরু হলেও, অপরাধীদের নাগাল পাওয়া বা তাদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা এখনও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী অংশে আমরা আলোচনা করব কেন বারবার ওড়িশার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকগুলো ঠিক কী। ঢেনকানলের এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ওড়িশার প্রশাসনিক নেতৃত্বে এক বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবের জমিতে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, পরিসংখ্যান এক অন্য গল্পের কথা বলছে। ২০২৫ সালের বার্ষিক ক্রাইম রিপোর্ট এবং সম্প্রতি বিধানসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ওড়িশায় নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের গ্রাফ নিম্নমুখী হওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বছরে প্রায় ৩৩ হাজারেরও বেশি নারী নির্যাতনের মামলা নথিভুক্ত হওয়া একটি রাজ্যের জন্য কেবল উদ্বেগের নয়, বরং লজ্জার। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন, তখন এই ধরনের পৈশাচিক ঘটনা তাঁর প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি করেছে। ভাপুরের এই ঘটনার সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়টি হলো চিকিৎসা পরিষেবার চরম ব্যর্থতা। ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা স্মার্ট ওড়িশার যে স্বপ্ন সাধারণ মানুষকে দেখানো হয়, তা যে গ্রামের মেঠো রাস্তায় এসে মুখ থুবড়ে পড়ে, ১০৮ অ্যাম্বুলেন্সের অনুপস্থিতি তারই প্রমাণ। একজন ধর্ষিতা এবং গুরুতর আহত মহিলাকে যখন চিকিৎসার জন্য ট্রলিতে করে নিয়ে যেতে হয়, তখন বুঝতে হবে যে পরিকাঠামোর উন্নয়ন কেবল বড় বড় শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ফোন করার ৩০ মিনিটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর কথা থাকলেও, কেন সেই রাতে ভাপুরে কোনো সাহায্য পৌঁছাল না, তার কোনো সদুত্তর আজও স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে নেই। এই অবহেলা কেবল প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, এটি একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতা যা একজন মানুষের বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকারকে অস্বীকার করে। রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, প্রশাসন কেবল প্রচারসর্বস্ব হয়ে উঠেছে এবং গ্রামীণ এলাকায় পুলিশের টহলদারি বা গোয়েন্দা তৎপরতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ওড়িশার পুলিশের একটি বড় সমস্যা হলো নিম্ন দণ্ডদানের হার বা কনভিকশন রেট। অপরাধীরা জানে যে, আইনি মারপ্যাঁচে এবং প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত তারা ছাড়া পেয়ে যাবে। ঢেনকানলের এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত 'অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের' বিরুদ্ধে মামলা করে দায় সারলেও, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে যে ফরেনসিক তৎপরতার প্রয়োজন ছিল, তা প্রথম কয়েক ঘণ্টায় দেখা যায়নি। অপরাধ সংগঠনের পর অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, ভাপুরের এই ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত নদীর পাড় বা নির্জন রাস্তাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা বা সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না? গ্রামীণ পুলিশিং বা গ্রামরক্ষী ব্যবস্থার যে পরিকাঠামো আগে সক্রিয় ছিল, তা এখন কার্যত নিষ্ক্রিয়। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা তদন্তের আশ্বাস দিলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মানো কঠিন হয়ে পড়ছে যে তাঁরা সুরক্ষিত। সরকারের পক্ষ থেকে নির্যাতিতাকে আর্থিক সাহায্য বা ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করা সহজ, কিন্তু যে নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামোর অভাবে তাঁর এই দশা হলো, সেই ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করলে ঢেনকানল বা ভাপুরের মতো ঘটনা আগামী দিনেও যে ঘটবে না, তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না। এই প্রশাসনিক উদাসীনতা অপরাধীদের আরও বেশি সাহসী করে তুলছে, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ ঘরের নারীদের। পরবর্তী এবং শেষ অংশে আমরা আলোচনা করব এই ঘটনার সামাজিক প্রভাব এবং কেন আমাদের বিচারব্যবস্থা ও মানসিকতার পরিবর্তন আজ সময়ের দাবি।
- দুর্গাপুরের এ জোনের আশীষ মার্কেটে শহীদ দিবস উপলক্ষে রক্ত পতাকা উত্তোলন, শহীদ বেদিতে মাল্যদান এবং নীরবতা পালন কর্মসূচির আয়োজন করা হয় শুক্রবার সকাল নটায়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সীমান্ত চ্যাটার্জী। তিনি শহীদ দিবসের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বলেন, শ্রমিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের স্মরণ করা শুধু শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—বর্তমান সময়ে সেই আদর্শ ও সংগ্রামের চেতনাকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এদিনের অনুষ্ঠানে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আদর্শকে অনুসরণ করার অঙ্গীকার করেন।1
- Post by BANKURA EXPRESS1
- Post by Tv20 বাংলা1
- আজকের বড় খবর মমতার নাচের ও গানের সংবিধান 2026/05/011
- Post by মুখার্জী নিউজ1
- পুরুলিয়া চকবাজার দুর্গামন্দিরে ১৭৮ তম শ্রী শ্রী গন্ধেশ্বরী মাতার আরাধনা! ৪ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন1
- লাল-সবুজ-গেরুয়া সবই আছে, তবে বাজার কাড়ছে গেরুয়া আবির #bankuraexpress #Bankuradistrict #bankuranews #electionbankura #Bankuraupdate #BJPBankura #Bankura #cpim #TMC1
- Post by Tv20 বাংলা1
- Post by MOUSUMI KOLEY1