শ্রমিক দিবস ও ভারতবর্ষের শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তিদাতা বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর ================================ আজ ঐতিহাসিক "মে দিবস"। ভারতবর্ষে যার হাত ধরে শ্রমিকের অধিকার ফলবৎ ও বলবৎ হয়েছিল, তিনি হলেন বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর । 1942 -1946 সালে বৃটিশ সরকারের গভর্ণর জেনারেলের Executive Council এর শ্রমমন্ত্রী থাকাকালে ডঃ আম্বেদকর এদেশের শ্রমিকদের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গেছেন, তা একটু দেখে নেওয়া যাক : 1) 1942 সালের আগে ভারতে শ্রমিকদের প্রতিদিন 10-14 ঘন্টা পরিশ্রম করতে হতো, তিনি আইন করে সেটাকে 8 ঘন্টায় নামিয়ে আনেন। 2) ভারতবর্ষে সমকাজে সমবেতনের ব্যবস্থা তিনিই করেন। উল্লেখ্য তার আগে মহিলারা পুরুষের অর্ধেক বেতন পেতেন। 3) শ্রমিকদের জন্য কর্মস্থলের পাশে শ্রমিক-আবাস (Staff Quarter) তৈরির ব্যবস্থা তিনিই প্রথম করেন। 4) শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সারাভারতে তিনি ESI Hospital স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। 5) মহিলা শ্রমিকদের জন্য তিনি সবেতন সাড়ে তিন মাস মাতৃত্বকালীন ছুটির (Maternity Leave) ব্যবস্থা করেন। 6) বিভিন্ন কলকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিবাদে তিনি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে Labour Commission গঠন করেন। 7) কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের পরে শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজ করালে তার জন্য Over-time মজুরির ব্যবস্থা করেন। 8) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারও তিনি দিয়ে যান। 9) Employment Exchange গঠন করে তিনি তার মাধ্যমে সমস্ত ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করে যান। উল্লেখ্য পূর্বে মামা-কাকার হাত ধরে সব চাকুরিতে ঢুকতো, সেসব দূর্নীতি তিনিই বন্ধ করেন। 10) আইন করে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির ব্যবস্থাও তিনি করে যান। 11) এমনকি চাকুরি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সবেতন ছুটির (Earn Leaves) ব্যবস্থাও তিনি করে যান। 12) শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য তিনি কঠোর আইন করে যান। 13) শিল্প-শ্রমিকদের জন্য তিনি স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও করে যান। এবার আসি কৃষকদের জন্য কি করেছেন সে বিষয়ে-- 1) প্রথমেই বলি ভারতে কৃষকদের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বৃহৎ বহুমুখী নদী পরিকল্পনা ডঃ আম্বেদকরের হাত ধরেই হয়। দামোদর ভ্যালি পরিকল্পনা, ভাকরানাঙ্গাল পরিকল্পনা, শোন নদী পরিকল্পনা সব তার হাত দিয়েই হয়েছে। 2) চাষীর কষ্টার্জিত কৃষিপন্যের নূন্যতম মূল্য ব্যবস্থা তার হাত ধরেই হয়। 3) চাষের জন্য কৃষি ঋনের ব্যবস্থা এবং ফসল নষ্ট হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার আইনও তিনি করে যান। 4) কৃষিজমিতে চাষীর অধিকার সুনিশ্চিত করতে ভূমিসংস্কার আইনের রূপরেখা তার হাত দিয়েই তৈরি। সুতরাং সরকারি-বেসরকারি কলকারখানার শ্রমিক হোক কিংবা কৃষক , প্রত্যেকের জন্য ডঃ আম্বেদকর যা করে গেছেন তাতে ভারতীয় শ্রমিকদের "মুক্তির দূত" বললেও তাকে কম বলা হয়। অথচ এই দেশের ব্রাহ্মণবাদী এবং জাতিবাদি শাসন ও সমাজ ব্যাবস্থা তার সঠিক মূল্যায়ন তো করেইনি, উল্টে তার কৃতিত্বকে ছাঁইচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। সত্য ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না, তাই সেই সুদিনের আশায় আমরা বিএসপি'র সাধারণ কর্মীরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কখন প্রত্যেকটি ভারতীয় তাদের আসল মুক্তিদাতাকে চিনে তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারবে। আমাদের বৃহত্তর সমাজকে আরো বুঝতে হবে, বাবা সাহেব আমাদের এইসব অধিকার যে দিয়ে গেছেন, তা তার রাজনীতির মাধ্যমে - কোনও সামাজিক/অরাজনৈতিক কাজ করেনা। বাবা সাহেবের দেওয়া এইসব অধিকার, সুযোগ-সুবিধে এবং দিশা-নির্দেশ সঠিকভাবে প্রবর্তন করতে গেলে, আমাদের যেহেতু তারই দেওয়া ভোটের মাধ্যমে রাজ-ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই, সেই কারণে তিনি তার প্রধান বাণী ও দিয়ে গেছেন - "নিজের মুক্তির জন্য ক্ষমতার মন্দির দখল করো"। মে দিবসে বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরকে আমাদের প্রনাম এবং সকল শ্রমজীবী মানুষকে আমাদের অন্তরের শ্রদ্ধা জানাই। =============== জয় ভীম, জয় ভারত =============== শ্রমিক দিবস ও ভারতবর্ষের শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তিদাতা বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর ================================ আজ ঐতিহাসিক "মে দিবস"। ভারতবর্ষে যার হাত ধরে শ্রমিকের অধিকার ফলবৎ ও বলবৎ হয়েছিল, তিনি হলেন বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর । 1942 -1946 সালে বৃটিশ সরকারের গভর্ণর জেনারেলের Executive Council এর শ্রমমন্ত্রী থাকাকালে ডঃ আম্বেদকর এদেশের শ্রমিকদের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গেছেন, তা একটু দেখে নেওয়া যাক : 1) 1942 সালের আগে ভারতে শ্রমিকদের প্রতিদিন 10-14 ঘন্টা পরিশ্রম করতে হতো, তিনি আইন করে সেটাকে 8 ঘন্টায় নামিয়ে আনেন। 2) ভারতবর্ষে সমকাজে সমবেতনের ব্যবস্থা তিনিই করেন। উল্লেখ্য তার আগে মহিলারা পুরুষের অর্ধেক বেতন পেতেন। 3) শ্রমিকদের জন্য কর্মস্থলের পাশে শ্রমিক-আবাস (Staff Quarter) তৈরির ব্যবস্থা তিনিই প্রথম করেন। 4) শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সারাভারতে তিনি ESI Hospital স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। 5) মহিলা শ্রমিকদের জন্য তিনি সবেতন সাড়ে তিন মাস মাতৃত্বকালীন ছুটির (Maternity Leave) ব্যবস্থা করেন। 6) বিভিন্ন কলকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিবাদে তিনি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে Labour Commission গঠন করেন। 7) কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের পরে শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজ করালে তার জন্য Over-time মজুরির ব্যবস্থা করেন। 8) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারও তিনি দিয়ে যান। 9) Employment Exchange গঠন করে তিনি তার মাধ্যমে সমস্ত ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করে যান। উল্লেখ্য পূর্বে মামা-কাকার হাত ধরে সব চাকুরিতে ঢুকতো, সেসব দূর্নীতি তিনিই বন্ধ করেন। 10) আইন করে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির ব্যবস্থাও তিনি করে যান। 11) এমনকি চাকুরি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সবেতন ছুটির (Earn Leaves) ব্যবস্থাও তিনি করে যান। 12) শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য তিনি কঠোর আইন করে যান। 13) শিল্প-শ্রমিকদের জন্য তিনি স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও করে যান। এবার আসি কৃষকদের জন্য কি করেছেন সে বিষয়ে-- 1) প্রথমেই বলি ভারতে কৃষকদের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বৃহৎ বহুমুখী নদী পরিকল্পনা ডঃ আম্বেদকরের হাত ধরেই হয়। দামোদর ভ্যালি পরিকল্পনা, ভাকরানাঙ্গাল পরিকল্পনা, শোন নদী পরিকল্পনা সব তার হাত দিয়েই হয়েছে। 2) চাষীর কষ্টার্জিত কৃষিপন্যের নূন্যতম মূল্য ব্যবস্থা তার হাত ধরেই হয়। 3) চাষের জন্য কৃষি ঋনের ব্যবস্থা এবং ফসল নষ্ট হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার আইনও তিনি করে যান। 4) কৃষিজমিতে চাষীর অধিকার সুনিশ্চিত করতে ভূমিসংস্কার আইনের রূপরেখা তার হাত দিয়েই তৈরি। সুতরাং সরকারি-বেসরকারি কলকারখানার শ্রমিক হোক কিংবা কৃষক , প্রত্যেকের জন্য ডঃ আম্বেদকর যা করে গেছেন তাতে ভারতীয় শ্রমিকদের "মুক্তির দূত" বললেও তাকে কম বলা হয়। অথচ এই দেশের ব্রাহ্মণবাদী এবং জাতিবাদি শাসন ও সমাজ ব্যাবস্থা তার সঠিক মূল্যায়ন তো করেইনি, উল্টে তার কৃতিত্বকে ছাঁইচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। সত্য ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না, তাই সেই সুদিনের আশায় আমরা বিএসপি'র সাধারণ কর্মীরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কখন প্রত্যেকটি ভারতীয় তাদের আসল মুক্তিদাতাকে চিনে তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারবে। আমাদের বৃহত্তর সমাজকে আরো বুঝতে হবে, বাবা সাহেব আমাদের এইসব অধিকার যে দিয়ে গেছেন, তা তার রাজনীতির মাধ্যমে - কোনও সামাজিক/অরাজনৈতিক কাজ করেনা। বাবা সাহেবের দেওয়া এইসব অধিকার, সুযোগ-সুবিধে এবং দিশা-নির্দেশ সঠিকভাবে প্রবর্তন করতে গেলে, আমাদের যেহেতু তারই দেওয়া ভোটের মাধ্যমে রাজ-ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই, সেই কারণে তিনি তার প্রধান বাণী ও দিয়ে গেছেন - "নিজের মুক্তির জন্য ক্ষমতার মন্দির দখল করো"। মে দিবসে বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরকে আমাদের প্রনাম এবং সকল শ্রমজীবী মানুষকে আমাদের অন্তরের শ্রদ্ধা জানাই। =============== জয় ভীম, জয় ভারত ===============
শ্রমিক দিবস ও ভারতবর্ষের শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তিদাতা বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর ================================ আজ ঐতিহাসিক "মে দিবস"। ভারতবর্ষে যার হাত ধরে শ্রমিকের অধিকার ফলবৎ ও বলবৎ হয়েছিল, তিনি হলেন বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর । 1942 -1946 সালে বৃটিশ সরকারের গভর্ণর জেনারেলের Executive Council এর শ্রমমন্ত্রী থাকাকালে ডঃ আম্বেদকর এদেশের শ্রমিকদের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গেছেন, তা একটু দেখে নেওয়া যাক : 1) 1942 সালের আগে ভারতে শ্রমিকদের প্রতিদিন 10-14 ঘন্টা পরিশ্রম করতে হতো, তিনি আইন করে সেটাকে 8 ঘন্টায় নামিয়ে আনেন। 2) ভারতবর্ষে সমকাজে সমবেতনের ব্যবস্থা তিনিই করেন। উল্লেখ্য তার আগে মহিলারা পুরুষের অর্ধেক বেতন পেতেন। 3) শ্রমিকদের জন্য কর্মস্থলের পাশে শ্রমিক-আবাস (Staff Quarter) তৈরির ব্যবস্থা তিনিই প্রথম করেন। 4) শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সারাভারতে তিনি ESI Hospital স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। 5) মহিলা শ্রমিকদের জন্য তিনি সবেতন সাড়ে তিন মাস মাতৃত্বকালীন ছুটির (Maternity Leave) ব্যবস্থা করেন। 6) বিভিন্ন কলকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিবাদে তিনি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে Labour Commission গঠন করেন। 7) কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের পরে শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজ করালে তার জন্য Over-time মজুরির ব্যবস্থা করেন। 8) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারও তিনি দিয়ে যান। 9) Employment Exchange গঠন করে তিনি তার মাধ্যমে সমস্ত ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করে যান। উল্লেখ্য পূর্বে মামা-কাকার হাত ধরে সব চাকুরিতে ঢুকতো, সেসব দূর্নীতি তিনিই বন্ধ করেন। 10) আইন করে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির ব্যবস্থাও তিনি করে যান। 11) এমনকি চাকুরি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সবেতন ছুটির (Earn Leaves) ব্যবস্থাও তিনি করে যান। 12) শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য তিনি কঠোর আইন করে যান। 13) শিল্প-শ্রমিকদের জন্য তিনি স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও করে যান। এবার আসি কৃষকদের জন্য কি করেছেন সে বিষয়ে-- 1) প্রথমেই বলি ভারতে কৃষকদের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বৃহৎ বহুমুখী নদী পরিকল্পনা ডঃ আম্বেদকরের হাত ধরেই হয়। দামোদর ভ্যালি পরিকল্পনা, ভাকরানাঙ্গাল পরিকল্পনা, শোন নদী পরিকল্পনা সব তার হাত দিয়েই হয়েছে। 2) চাষীর কষ্টার্জিত কৃষিপন্যের নূন্যতম মূল্য ব্যবস্থা তার হাত ধরেই হয়। 3) চাষের জন্য কৃষি ঋনের ব্যবস্থা এবং ফসল নষ্ট হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার আইনও তিনি করে যান। 4) কৃষিজমিতে চাষীর অধিকার সুনিশ্চিত করতে ভূমিসংস্কার আইনের রূপরেখা তার হাত দিয়েই তৈরি। সুতরাং সরকারি-বেসরকারি কলকারখানার শ্রমিক হোক কিংবা কৃষক , প্রত্যেকের জন্য ডঃ আম্বেদকর যা করে গেছেন তাতে ভারতীয় শ্রমিকদের "মুক্তির দূত" বললেও তাকে কম বলা হয়। অথচ এই দেশের ব্রাহ্মণবাদী এবং জাতিবাদি শাসন ও সমাজ ব্যাবস্থা তার সঠিক মূল্যায়ন তো করেইনি, উল্টে তার কৃতিত্বকে ছাঁইচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। সত্য ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না, তাই সেই সুদিনের আশায় আমরা বিএসপি'র সাধারণ কর্মীরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কখন প্রত্যেকটি ভারতীয় তাদের আসল মুক্তিদাতাকে চিনে তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারবে। আমাদের বৃহত্তর সমাজকে আরো বুঝতে হবে, বাবা সাহেব আমাদের এইসব অধিকার যে দিয়ে গেছেন, তা তার রাজনীতির মাধ্যমে - কোনও সামাজিক/অরাজনৈতিক কাজ করেনা। বাবা সাহেবের দেওয়া এইসব অধিকার, সুযোগ-সুবিধে এবং দিশা-নির্দেশ সঠিকভাবে প্রবর্তন করতে গেলে, আমাদের যেহেতু তারই দেওয়া ভোটের মাধ্যমে রাজ-ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই, সেই কারণে তিনি তার প্রধান বাণী ও দিয়ে গেছেন - "নিজের মুক্তির জন্য ক্ষমতার মন্দির দখল করো"। মে দিবসে বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরকে আমাদের প্রনাম এবং সকল শ্রমজীবী মানুষকে আমাদের অন্তরের শ্রদ্ধা জানাই। =============== জয় ভীম, জয় ভারত =============== শ্রমিক
দিবস ও ভারতবর্ষের শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তিদাতা বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর ================================ আজ ঐতিহাসিক "মে দিবস"। ভারতবর্ষে যার হাত ধরে শ্রমিকের অধিকার ফলবৎ ও বলবৎ হয়েছিল, তিনি হলেন বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর । 1942 -1946 সালে বৃটিশ সরকারের গভর্ণর জেনারেলের Executive Council এর শ্রমমন্ত্রী থাকাকালে ডঃ আম্বেদকর এদেশের শ্রমিকদের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গেছেন, তা একটু দেখে নেওয়া যাক : 1) 1942 সালের আগে ভারতে শ্রমিকদের প্রতিদিন 10-14 ঘন্টা পরিশ্রম করতে হতো, তিনি আইন করে সেটাকে 8 ঘন্টায় নামিয়ে আনেন। 2) ভারতবর্ষে সমকাজে সমবেতনের ব্যবস্থা তিনিই করেন। উল্লেখ্য তার আগে মহিলারা পুরুষের অর্ধেক বেতন পেতেন। 3) শ্রমিকদের জন্য কর্মস্থলের পাশে শ্রমিক-আবাস (Staff Quarter) তৈরির ব্যবস্থা তিনিই প্রথম করেন। 4) শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সারাভারতে তিনি ESI Hospital স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। 5) মহিলা শ্রমিকদের জন্য তিনি সবেতন সাড়ে তিন মাস মাতৃত্বকালীন ছুটির (Maternity Leave) ব্যবস্থা করেন। 6) বিভিন্ন কলকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিবাদে তিনি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে Labour Commission গঠন করেন। 7) কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের পরে শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজ করালে তার জন্য Over-time মজুরির ব্যবস্থা করেন। 8) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারও তিনি দিয়ে যান। 9) Employment Exchange গঠন করে তিনি তার মাধ্যমে সমস্ত ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করে যান। উল্লেখ্য পূর্বে মামা-কাকার হাত ধরে সব চাকুরিতে ঢুকতো, সেসব দূর্নীতি তিনিই বন্ধ করেন। 10) আইন করে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির ব্যবস্থাও তিনি করে যান। 11) এমনকি চাকুরি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সবেতন ছুটির (Earn Leaves) ব্যবস্থাও তিনি করে যান। 12) শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য তিনি কঠোর আইন করে যান। 13) শিল্প-শ্রমিকদের জন্য তিনি স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও করে যান। এবার আসি কৃষকদের জন্য কি করেছেন সে বিষয়ে-- 1) প্রথমেই বলি ভারতে কৃষকদের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বৃহৎ বহুমুখী নদী পরিকল্পনা ডঃ আম্বেদকরের হাত ধরেই হয়। দামোদর ভ্যালি পরিকল্পনা, ভাকরানাঙ্গাল পরিকল্পনা, শোন নদী পরিকল্পনা সব তার হাত দিয়েই হয়েছে। 2) চাষীর কষ্টার্জিত কৃষিপন্যের নূন্যতম মূল্য ব্যবস্থা তার হাত ধরেই হয়। 3) চাষের জন্য কৃষি ঋনের ব্যবস্থা এবং ফসল নষ্ট হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার আইনও তিনি করে যান। 4) কৃষিজমিতে চাষীর অধিকার সুনিশ্চিত করতে ভূমিসংস্কার আইনের রূপরেখা তার হাত দিয়েই তৈরি। সুতরাং সরকারি-বেসরকারি কলকারখানার শ্রমিক হোক কিংবা কৃষক , প্রত্যেকের জন্য ডঃ আম্বেদকর যা করে গেছেন তাতে ভারতীয় শ্রমিকদের "মুক্তির দূত" বললেও তাকে কম বলা হয়। অথচ এই দেশের ব্রাহ্মণবাদী এবং জাতিবাদি শাসন ও সমাজ ব্যাবস্থা তার সঠিক মূল্যায়ন তো করেইনি, উল্টে তার কৃতিত্বকে ছাঁইচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। সত্য ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না, তাই সেই সুদিনের আশায় আমরা বিএসপি'র সাধারণ কর্মীরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কখন প্রত্যেকটি ভারতীয় তাদের আসল মুক্তিদাতাকে চিনে তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারবে। আমাদের বৃহত্তর সমাজকে আরো বুঝতে হবে, বাবা সাহেব আমাদের এইসব অধিকার যে দিয়ে গেছেন, তা তার রাজনীতির মাধ্যমে - কোনও সামাজিক/অরাজনৈতিক কাজ করেনা। বাবা সাহেবের দেওয়া এইসব অধিকার, সুযোগ-সুবিধে এবং দিশা-নির্দেশ সঠিকভাবে প্রবর্তন করতে গেলে, আমাদের যেহেতু তারই দেওয়া ভোটের মাধ্যমে রাজ-ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই, সেই কারণে তিনি তার প্রধান বাণী ও দিয়ে গেছেন - "নিজের মুক্তির জন্য ক্ষমতার মন্দির দখল করো"। মে দিবসে বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরকে আমাদের প্রনাম এবং সকল শ্রমজীবী মানুষকে আমাদের অন্তরের শ্রদ্ধা জানাই। =============== জয় ভীম, জয় ভারত ===============
- খামার মাটি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র দশাটা দেখুন1
- ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ রানিনগরে। রাতে চায়ের দোকানে সিপিএম এজেন্টকে মারধর হুমকির অভিযোগ। শুক্রবার সকালে আক্রান্তকে দেখতে এলে সিপিএম প্রার্থীকেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে রানিনগর বিধানসভার লোচনপুর অঞ্চলের নওদাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ নম্বর বুথে সিপিএম এজেন্ট ছিলেন রুহুল আমিন। তার অভিযোগ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির পাশে চায়ের দোকানে গেলে তাকে তৃণমূলের লোকজন তাকে মারধর করে ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে আক্রান্ত এজেন্টকে দেখতে গেলে সিপিএম প্রার্থী জামাল হোসেনকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। তৃণমূলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন সিপিএম প্রার্থী ।1
- ফের দাম বাড়ল অটো LPG-র। ৮২ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে বেড়ে লিটারপিছু দাম হল ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা। সাড়ে ৬ টাকার কাছাকাছি দাম বাড়ায় অটো ভাড়া ফের বাড়ার আশঙ্কা।1
- কেমন লাগিকে দেখুন😀😀😀😀😀😀😀😀😀😀😀😀😀😀🌺🌺1
- তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিতে বলার অভি'যোগে পুলিশকে ঘিরে বি'ক্ষো'ভ কংগ্রেসের1
- Post by রাজেন্দ্র নাথ দত্ত1
- spotbangla নিজের সমাজ মাধ্যমে ভিডিয়োবার্তায় কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুনুন1
- শ্রমিক দিবসের সকালেই বীরভূম জেলার তারাপীঠ থানার ভেড়ামারি মোড়ে ঘটে গেল হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রাণ হারালেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ সামিউল শেখ। জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরেও বাইক নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে বেরিয়েছিলেন সামিউল। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই পরিশ্রম করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পথেই থেমে গেল তার জীবনের যাত্রা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তারাপীঠ ডিপো থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগতির সরকারি বাস কলকাতার দিকে যাচ্ছিল। ভেড়ামারি মোড়ে হঠাৎ ইউ-টার্ন নিতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং উল্টো দিকের লেনে উঠে পড়ে। সেই সময়ই সামনে থাকা সামিউলের বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে বাসটি। ধাক্কার তীব্রতায় বাইক থেকে ছিটকে পড়েন সামিউল এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে তারাপীঠ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি আটক করে এবং তদন্ত শুরু করেছে। নিমাপাখুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সামিউলের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান, অতিরিক্ত গতি এবং ভুল দিক থেকে ইউ-টার্ন নেওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিক দিবসের দিনেই এক পরিশ্রমী তরুণের স্বপ্নভঙ্গ—এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পথ নিরাপত্তা ও বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ে।1