বিশ্ব সাইকেল দিবস উপলক্ষে ভরতপুর-১ ব্লক প্রশাসন, ভরতপুর থানার পুলিশ, স্থানীয় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভরতপুর ইউনাইটেড ফাউন্ডেশন-এর যৌথ সহযোগিতায় এক বর্ণাঢ্য সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকায় আয়োজিত এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিটির মূল বার্তা ছিল স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা। এক উৎসবমুখর রবিবার সকালে ভরতপুর ব্লক অফিস চত্বর থেকে এই র্যালিটি শুরু হয়ে ভরতপুর অঞ্চল পাড়া, মাসুন্দি, বিনোদিয়া হয়ে কান্দি-সালার রাজ্য সড়ক ধরে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করে পুনরায় ব্লক অফিস চত্বরে এসে শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানে ভরতপুর-১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দাওয়া শেরপা, যুব কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক পবিত্র প্রসাদ সাসমল, ব্লক কোঅর্ডিনেটর কল্যাণময় সরকার, ভরতপুর থানার এস.আই সুজিত রায়, ভরতপুর ইউনাইটেড ফাউন্ডেশন-এর কর্ণধার রওশন সেখ ওরফে বাবু সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মী ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিডিও দাওয়া শেরপা বলেন যে, সাইকেল চালানো যেমন শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী, তেমনই এটি সাশ্রয়ীও বটে। তিনি আরও বার্তা দেন যে, যুবক থেকে শুরু করে এলাকার অল্পবয়সী ছেলেরা যদি মোটরবাইকের বদলে সাইকেল ব্যবহার করে, তাহলে এলাকায় পথ দুর্ঘটনার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।
বিশ্ব সাইকেল দিবস উপলক্ষে ভরতপুর-১ ব্লক প্রশাসন, ভরতপুর থানার পুলিশ, স্থানীয় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভরতপুর ইউনাইটেড ফাউন্ডেশন-এর যৌথ সহযোগিতায় এক বর্ণাঢ্য সাইকেল র্যালির আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকায় আয়োজিত এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিটির মূল বার্তা ছিল স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা। এক উৎসবমুখর রবিবার সকালে ভরতপুর ব্লক অফিস চত্বর থেকে এই র্যালিটি শুরু হয়ে ভরতপুর অঞ্চল পাড়া, মাসুন্দি, বিনোদিয়া হয়ে কান্দি-সালার রাজ্য সড়ক ধরে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করে পুনরায় ব্লক অফিস চত্বরে এসে শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানে ভরতপুর-১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দাওয়া শেরপা, যুব কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক পবিত্র প্রসাদ সাসমল, ব্লক কোঅর্ডিনেটর কল্যাণময় সরকার, ভরতপুর থানার এস.আই সুজিত রায়, ভরতপুর ইউনাইটেড ফাউন্ডেশন-এর কর্ণধার রওশন সেখ ওরফে বাবু সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মী ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিডিও দাওয়া শেরপা বলেন যে, সাইকেল চালানো যেমন শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী, তেমনই এটি সাশ্রয়ীও বটে। তিনি আরও বার্তা দেন যে, যুবক থেকে শুরু করে এলাকার অল্পবয়সী ছেলেরা যদি মোটরবাইকের বদলে সাইকেল ব্যবহার করে, তাহলে এলাকায় পথ দুর্ঘটনার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।
- সাধারণ মানুষের একাধিক জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের দাবিতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর ভরতপুর এরিয়া কমিটি ভরতপুরে একটি বিশাল প্রতিবাদী মিছিল ও সভার আয়োজন করেছে। দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে এই সুবিশাল মিছিল কান্দি-সালার রাজ্য সড়ক ধরে ভরতপুর-১ ব্লক অফিসের সামনে এসে সমবেত হয়। সেখানে দলের নেতৃবৃন্দ একটি সভা করেন এবং পরবর্তীতে একটি ১৩ দফা দাবিপত্র নিয়ে বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দেন। এই কর্মসূচিতে সিপিআইএম ভরতপুর এরিয়া কমিটির সম্পাদক সেরিফুল ইসলাম, দলের অন্যতম নেতা গোলাম মওলা, সজীব কুমার সাহা, কাঞ্চন গোস্বামী, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রিজিয়া সুলতানা, মোজাম্মেল হক, কানাই মন্ডল, গোলাম আম্বিয়া, শিব শংকর পাল সহ ব্লক ও অঞ্চল স্তরের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দাওয়া শেরপার অনুপস্থিতিতে, যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সৈয়দ মাহবুব রহমানের হাতে দলের পক্ষ থেকে একটি ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল এই দাবিপত্র তুলে দেয় এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে। দাবিসনদে অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থবাহী দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ, হকার উচ্ছেদ বন্ধ, স্মার্ট মিটার বাতিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো, সারের কালোবাজারি বন্ধ, লোহাদহ ঘাটের ব্রিজ তৈরি, রাস্তা ও নিকাশি নালা সংস্কার, আবাস যোজনায় দুর্নীতির শাস্তি, রামজি মিশনের কাজ শুরু করা, ধানের এমএসপি ৩১০০ টাকা কুইন্টাল করা, আবর্জনা ফেলার গাড়ির সঠিক ব্যবহার, কলেজে স্থাপন এবং পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা।1
- Post by Udit Hazra1
- বুধবার বহরমপুর শহরে সাদা রঙের অটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হরিহরপাড়ার অটোচালকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটে আংশিকভাবে অটো পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। আন্দোলনকারী চালকদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং হঠাৎ করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে। বিশেষ করে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনা চালকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কিষাণ মান্ডি মাঠে শতাধিক অটো দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। চালকরা হরিহরপাড়া-বহরমপুর রুটের অটোগুলিকে শহরে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হরিহরপাড়া থানার পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।1
- বহরমপুর শহরে সাদা রঙের অটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বুধবার হরিহরপাড়ার অটোচালকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটে আংশিকভাবে অটো পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। চালকদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে, বিশেষ করে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনা চালকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কিষাণ মান্ডি মাঠে শতাধিক অটো দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ দেখান চালকরা, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য যাত্রীদেরও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। চালকরা হরিহরপাড়া-বহরমপুর রুটের অটোগুলিকে শহরে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এই পরিস্থিতির উপর হরিহরপাড়া থানার পুলিশ নজর রাখছে।1
- মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় বুধবার বহরমপুর শহরে সাদা রঙের অটো চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে ব্লকের সমস্ত অটোচালকরা বিক্ষোভে সামিল হন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এদিন সকাল থেকেই হরিহরপাড়া ব্লকের বিভিন্ন রুটে আংশিকভাবে অটো পরিষেবা বন্ধ রেখে চালকরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। অটোচালকদের অভিযোগ, বহরমপুর শহরে সাদা অটো নিষিদ্ধ করার ফলে বহু চালক ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে। তাঁরা দাবি করেন যে, দীর্ঘকাল ধরে বৈধ নথিপত্র নিয়ে অটো চালাচ্ছেন এবং হঠাৎ করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, লোন করে কেনা গাড়ির কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চালকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের মূল দাবি হলো, হরিহরপাড়া থেকে বহরমপুর শহরে যে অটো গাড়িগুলো চলাচল করত, সেগুলোকে বহরমপুর শহরে ঢুকতে দিতে হবে। প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হরিহরপাড়ার বিভিন্ন এলাকার অটোচালকরা তাঁদের গাড়ি নিয়ে কিষাণ মান্ডির মাঠে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য যাত্রীদেরও দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। চালকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের দাবি না মানা হলে আগামী দিনে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।1
- পলাশীর যুদ্ধের ২৬৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার লালবাগের একটি সেমিনার হলে ‘কালো পলাশী দিবস’ পালন করা হয়েছে। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে স্মরণ করতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সংস্কৃতিকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীরা। আলোচনায় বক্তারা পলাশীর যুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন যে, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সংঘটিত এই যুদ্ধ ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। বক্তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ঐক্য, সচেতনতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিল্পী অমিতাভ লাহিড়ীর সরাসরি চিত্রাঙ্কন, যেখানে তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে কেন্দ্র করে একটি চিত্র অঙ্কন করেন। এটি উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। এছাড়াও, স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ভারতের সংবিধানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরে। এর পাশাপাশি, পলাশীর যুদ্ধ ও তৎকালীন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা ঘুরে দেখে বহু দর্শক ইতিহাসের নানা অজানা দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। আয়োজকদের মতে, ইতিহাসকে শুধু স্মরণ নয়, বরং তার শিক্ষা বর্তমান সমাজে প্রয়োগ করাই এই ধরনের অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। দিনভর আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে এই বিশেষ 'কালো পলাশী দিবস' অনুষ্ঠানটি পালিত হয়।1
- মুর্শিদাবাদের লালগোলা কৃষ্ণপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বুধবার সকাল থেকে ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) এবং পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল রেলওয়ের জমি ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট এবং দখলদারি সরানো। অভিযান চলাকালীন বুলডোজার ব্যবহার করে একাধিক অস্থায়ী ও অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং স্টেশন চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আরপিএফ ও স্থানীয় থানার পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। যদিও এই অভিযানের ফলে কিছু হকার ও ব্যবসায়ীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়, তবুও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতেও রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত রাখতে এবং অবৈধ নির্মাণ রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।1
- বোলপুর-শান্তিনিকেতনে এক সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সিদ্ধার্থ দাসের অভিযোগ, তাঁর সই নকল করে একটি বিলাসবহুল রিসর্ট বেদখল করা হয়েছে। এই ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং বিকাশ রায়চৌধুরীর নাম জড়িয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বোলপুরের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অপূর্ব মুখোপাধ্যায় এবং ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলের দিকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই ঘটনা ঘটে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন, যেখানে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি ও মারধর করা হয়। চিকিৎসক সিদ্ধার্থ দাস জানান, ট্যাক্স সংক্রান্ত কাজের সূত্র ধরে অপূর্ব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অপূর্বের পরামর্শে তাঁরা দু'জনে শান্তিনিকেতনের সায়রবিথী পার্কের পশ্চিম দিকে প্রায় ১৮ কাঠা জমি কেনেন ২০১৭-১৮ সালে। এর মধ্যে ১১ কাঠা জমি চিকিৎসকের নামে এবং বাকি সাত কাঠা অপূর্ব মুখোপাধ্যায়ের নামে ছিল। পরবর্তীতে, ২০২১-২২ সালে এই জমিতে ১৭টি ঘর ও সুইমিং পুলসহ 'আয়াস রিসর্ট' তৈরি করা হয়। রিসর্ট নির্মাণ ও জমি কিনতে চিকিৎসক মোট ৩ কোটি ৬১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন, যা নগদ, চেক এবং সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। সব্যসাচী মণ্ডল, নীলকান্ত মণ্ডল এবং সুভাষ দত্ত ব্যাংক থেকে এই টাকা তুলেছিলেন বলে অভিযোগ। রিসর্ট উদ্বোধনের কিছুকাল পরই চিকিৎসক জানতে পারেন, তাঁর সই নকল করে পুরো সম্পত্তি অপূর্ব মুখোপাধ্যায় এবং সব্যসাচী মণ্ডল নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। চিকিৎসক সিদ্ধার্থ দাসের অভিযোগ, নিজের সম্পত্তি দাবি করতে গেলে সব্যসাচী মণ্ডলের লোকজন তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর করে এবং তাঁকে বহুবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অনুব্রত মণ্ডল এবং তৎকালীন বীরভূম জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরীর নাম করে তাঁকে দিনের পর দিন ভয় দেখানো হয়, যার ফলে তিনি অভিযোগ জানাতে পারেননি। এমনকি, সেই সময় পুলিশ তাঁর অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলেও তিনি দাবি করেন। বর্তমানে 'আয়াস' রিসর্টটি সব্যসাচী মণ্ডলের স্ত্রী লাবণী সাহা ও অপূর্ব মুখোপাধ্যায়ের মা ঊষারানি মুখোপাধ্যায়ের নামে রয়েছে। চিকিৎসকের বাবা হৃদয়রতন দাস জানান, তাঁর সহজ-সরল ছেলেকে বড় চক্রান্ত করে ঠকানো হয়েছে এবং তাঁদের সর্বস্বান্ত করে দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে চিকিৎসক সিদ্ধার্থ দাস সম্প্রতি বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বন্দেশ, শান্তিনিকেতন থানার ওসি এবং বোলপুর ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আশাবাদী যে রাজ্যে পালাবদল হওয়ায় নতুন সরকারের অধীনে তিনি সঠিক বিচার পাবেন। জেলাশাসক ধবল জৈন এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।1